রামু খুনিয়াপালংয়ে মেম্বার প্রার্থী হোসেন ও ছেলেকে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা

কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং পালং ইউনিয়নের পূর্ব ধেছুয়াপালং (মরিচ্যা-তেল হলা রোড) মাদ্রাসা পাড়ায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করা হয়েছে পিতা ও পুত্রকে। স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে মেম্বার প্রতিদ্বন্ধিতার জেরে স্থানীয় ইয়াবাকারবারী গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯ টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় লোকজন আহত পিতা ও পুত্রকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

জানা গেছে, খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৪ নাম্বার ওয়ার্ড পূর্ব ধেছুয়াপালং মাদ্রাসা পাড়া এলাকার মৃত হাজি জাফর আলমের ছেলে হোসেন আহম্মেদ (৪৫) ও তার ছেলে রাহমতুল আমিন (২২)।

শুক্রবার রাত ৯টার দিকে মরিচ্যা বাজার থেকে বাড়ী ফিরছিল। পথিমধ্যে মরিচ্যা-তেলহলা সড়কে মাদ্রাসার পাশে ইয়াবা কারবারী গিয়াস উদ্দিনের বাড়ীর সামনে চলাচলের রাস্তায় তাদেরকে গতিরোধ করে ধারালো কিরিচ দিয়ে এলোপাতাড়ি মাথায় কুপানো হয় এবং বেদম মারধর করা হয়।

এতে আহত হন ৪ নাম্বার ওয়ার্ড থেকে আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য মেম্বার পদপ্রার্থী হোসেন আহম্মদ ও তার ছেলে রাহমতুল আমিন। এসময় তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয় নগদ ১৫ হাজার টাকা, মোবাইল সেট, ঘড়িসহ অন্যান্য মালামাল।চিৎকারে পাশ্ববর্তী দোকানে উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এসে দুর্বৃত্তদের কবল থেকে আহতদের উদ্ধার করে। আহতদেরকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

আহত হোসেন আহম্মদের ছেলে ফায়সাল কবির বলেন, তার বাবা হোসেন আহম্মদ ও ভাই রাহমতুল আমিন বাজার থেকে বাড়ী ফেরার সময় পূর্বপরিকল্পিত ভাবে মেম্বার প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী মমতাজ আহম্মেদের ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ছেলে মামুন, গিয়াস উদ্দিনের ভাই সালাহ উদ্দীন, আলা উদ্দিন, মৃত আবদু রশিদ মনুর ছেলে নয়ন, ইউছুপের ছেলে সাহবাজসহ দুর্বৃত্তরা এ হামলা চালায়।

তিনি আরও বলেন, প্রথমে তার বাবাকে মারধর ও কুপিয়ে আহত করার পর ভাই রাহমতুল আমিন এগিয়ে এসে বাবাকে বাঁচানোর চেস্টা করলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

এব্যাপারে রামু থানার ওসি (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হামলার ঘটনার খবর পেয়েছি। জড়িতদের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, এলাকাবাসী জানান, গিয়াস উদ্দিন ও তার ভাই সালাহ উদ্দীন বড় মাপের ইয়াবা কারবারী। এরমধ্যে গত কয়েক বছর আগে স্বল্প বেতনে আনসারে চাকরি নিয়ে ছিল গিয়াস উদ্দিন। কিন্ত গত কয়েক বছরের ব্যবধানে ১৭ টি বিভিন্ন ধরনের গাড়ি, নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার জমি, এনজিও পরিচালনা, ঠিকাদারীসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন তারা। এলাকায় কোন জনপ্রিয়তা না থাকলেও ইয়াবার ছোঁয়ায় এখন জনপ্রতিনিধির তালিকায় নাম লেখানোর চেষ্টায় রয়েছে গিয়াস উদ্দিন। এব্যাপারে এলাকাবাসী ইয়াবা গড ফাদার গিয়াস উদ্দিন ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের গ্রেফতারের দাবী জানান।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এস.

  • 148
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ