লালমনিরহাটের তিস্তা ডালিয়া পানি বিপদসীমা অতিক্রম

লালমনিরহাটে জেলায় মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ ৬০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। হঠাৎ তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল।

শুক্রবার(৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় হাতীবান্ধা উপজেলার সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৫৫ মিটার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ মিটার)। যা বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।এর আগে বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় এ পয়েন্টে পানি প্রবাহ বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। তিস্তায় মাত্র ১২ ঘণ্টায় ৬০ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। জানা গেছে, তিস্তা নদীর পানি ভারতে প্রবাহিত হয়ে লালমনিরহাট জেলা তিস্তা ডালিয়া  দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। উজানে ভারতের অংশে ভারত সরকার বাধ নির্মাণ করে নদী এক তরফা ভাবে ব্যবহার করছে।

ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ অংশে কোন পানি থাকে না। মরুভূমিতে পরিণত হয় তিস্তা। আবার বর্ষাকালে অতিবর্ষণের ফলে ভারতের অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ায় বাংলাদেশ অংশে ভয়াবহ বন্যা আর তীব্র ভাঙনের মুখে পড়ে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলাসহ নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলা।

বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) দিনগত মধ্যরাত থেকে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বেড়েছে বিপৎসীমা অতিক্রম করে।

শুক্রবার(৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬ টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ ররেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৯০ মিটার। আর তিন ঘণ্টা পরে আরও ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে সকাল ৯টায় এ পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৯৫ মিটার। যা বিপৎসীমার ৩৫সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ব্যারাজ রক্ষার্থে সব জলকপাট খুলে তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় জেলার প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

করোনার লকডাউনে দীর্ঘ দিন কর্মহীন থাকায় বন্যার জন্য গচ্ছিত খাদ্য শেষ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তিস্তা চরাঞ্চলের এসব ছিন্নমূল মানুষ। বিশেষ করে শিশু বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। গবাদি পশু পাখি নিয়েও চরম কষ্টে পড়েছেন পানিবন্দি তিস্তা পাড়ের মানুষ। দুই থেকে তিনদিন ধরে বন্যার পানিতে ডুবে রয়েছে আমন ধানের চারা। যা পানিতে পচে নষ্টের শঙ্কায় চাষিরা।

আদিতমারী উপজেলার তিস্তার বামতীরের বারঘড়িয়া গ্রামের মনোয়ারা বেগম  বলেন, পানি একটু বাড়লেই বাড়িতে পানি উঠে। রান্না করার উপায় থাকে না। শুকনো খাবারের দরকার হলেও এবারের বন্যায় কেউ শুকনো খাবার নিয়ে আসেনি। তিনি বলেন, ‘হামরা মরলেও সরকারের বুঝি কিছুই হবার নয় বাহে। ’

একই গ্রামের আজহার আলী বলেন, আমনের চারা বানের পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছি। মেম্বরকে(ইউপি সদস্য) আইডি কার্ডের ফটোকপি দিয়েছি। ত্রাণ পাইনি।

বাহাদুরপাড়া গ্রামের মনিরুজ্জামান বলেন, তিন দিন ধরে পানিবন্দি আমরা। শুকনো খাবার নেই। খাবারের জন্য ৩৩৩ নম্বরে কয়েকবার কল করেছি। লাইন বিজি থাকায় সহায়তা পাইনি।

মহিষখোচা ইউনিয়নের পরিষদের সদস্য মতিয়ার রহমান  বলেন, আমি নিজেই পাঁচ থেকে সাতদিন ধরে পানি বন্দি। আমার ওয়ার্ডে ৫০০ পরিবার পানি বন্দি। যার মধ্যে প্রায় ৩০০ পরিবার ত্রাণের জন্য আইডি কার্ড দিয়েছেন। কিন্তু বরাদ্ধ না আসায় তাদেরকে ত্রাণ বিতরণ সম্ভব হয়নি।

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভারি বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারাজ রক্ষায় সকল জলকপাট খুলে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এতে নিম্নাঞ্চলে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/জি.

  • 21
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ