শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে সাভারে যুবলীগের ত্রাণ বিতরণ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল-এর নির্দেশনায় ঢাকা জেলা যুবলীগ কর্তৃক আয়োজিত ১০০০ অসহায় ও গরীব মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার সকালে সাভার সরকারি কলেজ মাঠে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ এনামুর রহমান এমপি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল। ঢাকা জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি মোঃ সালাহ্ উদ্দিন দরনীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা ২০ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমেদ, ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মাহবুবুর রহমান, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু আহমেদ নাসিম পাভেল, মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাভার পৌরসভার মেয়র হাজী আব্দুল গণি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসের ভোরে আমি আমার স্বজনদেরকে হারিয়েছি। মাত্র ৫ বছর বয়সে বাবা-মায়ের রক্তাক্ত দেহ অতিক্রম করে এক কাপড়ে বাসা থেকে বের হতে বাধ্য হয়েছিলাম। আশ্রয়ার্থী হয়ে বিভিন্ন বাসাতে পালাতে হয়েছিল সেদিন ভয়াল আগস্টে, নিজের জীবন বাঁচাতে। সেদিন হারিয়েছিরাম আমার বাবা আপনাদের নেতা ১৯৬০-৬৪ তুখোড় ছাত্রনেতা আইয়ুব-মোনায়েম বিরোধী, হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন আন্দোলনের কর্ণধার, মুজিব বাহিনীর প্রধান, একাধারে বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক ও রাজনীতিক আপনাদের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি ও আমার মা আরজু মণি সেরনিয়াবাতকে। হারিয়েছি আমার নানা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশ কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু মন্ত্রী পরিষদের সদস্য। সর্বোপরি আমরা সপরিবারে হারিয়েছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

জামাত-বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, অপর দিকে জামাত-বিএনপি ষড়যন্ত্র হিসেবে বার বার বেছে নিয়েছে এই আগস্ট মাসকেই। তারা ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। আমাদের রাজনৈতিক সৌন্দর্য ধ্বংস করার জন্য জামাত-বিএনপি এককভাবে দায়ী। বিএনপি-জামাত প্রমাণ করেছে তারা কোন রাজনৈতিক দল নয়, তারা একটি জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠন। তাদের আর একটি বৈশিষ্ট তারা মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করছে; তার প্রমাণ জিয়াউর রহমানের মিথ্যা কবর যা জনগণের সাথে প্রতারণা। ঠিক তেমনি খালেদা জিয়ার ভূয়া জন্মদিনও জনগণের সাথে একটা প্রতারণা। ১৫ই আগস্টের পরে এদেশের নতুন প্রজন্মকে মিথ্যার ইতিহাস পড়ানো হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ছবি মুছে ফেলা হয়েছিল, জয় বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। যে জয় বাংলা বাঙালি জাতির মুক্তির জয়গান। সেই জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু আমরা বলতে পারি নাই।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ এনামুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সততাই শক্তি, মানবতাই মুক্তি স্লোগান নিয়ে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা আজ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন-বিএনপি-জামাত গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারা ষড়যন্ত্র ও হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাসী।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, আপনারা লক্ষ্য করেছেন করোনার মহামারির সময় থেকে আজ পর্যন্ত যুবলীগের নেতা-কর্মীরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়ন, থানা, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও মহানগরের প্রতিটি নেতা-কর্মী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নির্দেশে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। আমরা করোনার এই সময়ে ফ্রি মেডিসিন সেবা, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা, ফ্রি অক্সিজেন সেবা, করোনা আক্রান্ত করোগী ও অন্যান্য রোগীর সেবা, করোনা আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন/সৎকার করা, অসহায় কৃষকের জমির ধান কাটাসহ সকল ধরণের মানবিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে যুবলীগ।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন এদেশে জামাত-বিএনপি নামে রাজনৈতিক দল রয়েছে। যাদের নেতা-কর্মীরা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের মা-বোনদের পাকিস্তানী সেনাদের হাতে তুলে দিয়েছিল। সেদিনকার জামাত, আলবদর, আল-শামস্ হচ্ছে আজকের বিএনপি। তারা মিলে-মিশে আমার মা-বোনদের পাকিস্তানীদের বাঙ্কারে তুলে দিয়েছিল। আমার মা-বোনেরা এখানে উপস্থিত আছেন, এই বিএনপি-জামাত এদেশে রাজনীতি করার কোন অধিকার রাখে কি না, আপনাদের বিবেকের কাছে আমার প্রশ্ন।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতাকে হত্যা করেছে কে? জাতির পিতাকে হত্যা করেছে খুনি জিয়াউর রহমান। আজকে যুবসমাজ শুধু নয়, সারা বাংলাদেশে দাবি উঠেছে জিয়াউর রহমানকে মরোনোত্তর বিচারের দাবি। প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ কোথায় করেছেন? জিয়াউররহমান যদি মুক্তিযুদ্ধ করতেন তাহলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারতেন না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে জামাত-শিবিরকে রাজনীতি করার সুযোগ দিতো না। গোলাম আযমকে নাগরিকত্ব দিতো না, রাজাকার শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী বানাতেন না, রাজাকার আব্দুল আলীমকে কেন মন্ত্রী বানালো, এটাই শেষ নয়, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিভিন্নভাবে পুরস্কৃত করেছিল খুনি জিয়াউর রহমান। সুতরাং তার কার্যকলাপই প্রমাণ করে জিয়া মুক্তিযোদ্ধা নয়, একজন ঠান্ডা মাথার খুনি।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন-যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সোহেল পারভেজ, সাভার থানা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফয়সাল আহমেদ, আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহবায়ক কবির হোসেন সরকার প্রমুখ।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এস.

  • 172
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ