আর্থিক সুবিধা বিনিময়ে মুজিববর্ষের ঘর পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ আঃলীগ নেতার বিরুদ্ধে

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার মুজিববর্ষের ঘর দেয়ার নামে আর্থিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের বিরুদ্ধে। উপজেলার তন্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লন্ঠুর বিরুদ্ধে একই ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামের মনর উদ্দিন শেখের ছেলে আবুল কাশেম ও মজনু ঢালীর ছেলে সুমন ও অরুণ ঢালী এ অভিযোগ করেন। সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার তন্তর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পাড়াগাঁও সরদার বাড়ির সামনে মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ন প্রল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ের ঘরের নির্মাণকাজ চলছে। এখানে উপকারভোগীর জন্য মোট ৬টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে ঘর পাইয়ে দেয়ার নাম করে তন্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লন্ঠু ওই এলাকার গৃহহীন আবুল কাশেমের কাছ থেকে ৫০ হাজার ও সুমন এবং অরুন ঢারী কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সুমন ও অরুন ঢালীর কাছ নেয়া ১লক্ষ টাকা ফেরত দিলেও আবুল কাশেমের টাকা এখনো ফেরত দেয়া হয়নি। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুমিহীন অরুন ঢালী জানান, মিজানুর রহমান লন্ঠু ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি কাউকে আর না জানানোর শর্তে স্বে”ছায় আমাদের টাকা ফেরত দেন। ভুক্তভোগী মোঃ আবুল কাশেম বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে লন্ঠু সাহেব আমার কাছে ১লক্ষ টাকা চায়। আমি আমার বর্গা গরু বিক্রি করে ও মানুষের কাছ ধার দেনা করে ৫০ হাজার টাকা নেন। ঘর পাব কি-না জানি না। তবে এখনো টাকা ফেরত পাইনি। টাকা নেয়ার বিষয়টি স্হানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েছি।

আর্থিক সুবিধা বিনিময়ে ঘর পাইয়ে দেওয়ার বিষয়ে তন্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লন্ঠুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলাকায় একটি কুচক্রী মহল আমার বদনামের জন্য এসব কথা বলে বেড়াচ্ছে। ঘর দেয়ার নামে আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা-পয়সা নেইনি। তবে ভূমিহীন দ্বীন ইসলাম নামে একজনের জন্য এ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে একটি ঘরের বিষয়ে লবিং করেছিলাম।

তন্তর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ সোহেল রানার কাছে উপকারভোগীদের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, নামের তালিকাটি এখনও আমার হাতে আসেনি। তন্তর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভূমিহীদের ঘর বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয়ে আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি-না আমার জানা নেই। এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেননি। এ ব্যাপারে শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণব কুমার ঘোষ জানান, গৃহহীনদের আবেদনের পরিপেক্ষিতে জনসম্মুখে লটারির মাধ্যমে উপকারভোগীদের নাম নির্বাচন করা হয়েছে। আর্থিক সুবিধা নেয়ার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। যদি কেউ অভিযোগ করেন তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্হা নেওয়া হবে।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ