তারাগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, সমাধানে মহাপরিচালকের নির্দেশ

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় স্বাস্থ্য সেবা ব্যহত হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রোববার (২৯ আগস্ট) তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে আসলে জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের নেতা এ অভিযোগ করেন।

১৯৮৫ সালে স্থাপিত তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯৮জন চিকিৎসক-কর্মচারী রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছা. শামসুন্নাহার হাসপাতালে যোগদান করার পর চিকিৎসদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। তাঁর অনিয়ম ও র্দুব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে চিকিৎসকেরা ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রংপুরের সিভিল সার্জন ও রংপুরের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

চিকিৎসকদের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, দায়িত্ব বন্টনে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলার কারণে একাগ্রতা ও নিষ্ঠা চিকিৎসকদের মধ্যে হারিয়ে যেতে বসেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী বহির্ভূতভাবে দায়িত্ব বন্টন করার কারণে মেডিকেল অফিসারগণ তাঁর স্বীয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন। স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত না হয়ে বর্তমানে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ক্ষুন্ন হচ্ছে। হাসপাতালে অনিয়মিত উপস্থিতি ও স্বল্প সময়ে অফিসে অবস্থান করার কারণে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ ব্যহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অশোভন আচরণের স্বীকার হতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। ফলে নিয়মিত সেবাদান কার্যক্রম ভেঙে পড়ছে। যার কারণে চিকিৎসকদের স্থানীয় জনগণের রোষানলে পড়তে হচ্ছে। চিকিৎসক সহ সকল কর্মীদের মধ্যে চেইন অফ কমান্ড মুখ থুবরে পড়ছে।

উপজেলায় করোনার টিকা প্রদানের কাজে নিয়োজিত ৮টি বুথের ১৬জন টিকাদান কর্মী ও ৩২জন স্বেচ্ছাসেবীর প্রত্যেকের জন্য ৭২ কর্ম দিবসের ১৪ হাজার ৪০০ টাকা বরাদ্দ করা হলেও তা এখনও স্বেচ্ছাসেবীরা পাননি। টাকা না পাওয়া তাঁরা সিভিল সার্জনকে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এ দিকে রোববার দুপুর ২টার দিকে হাসপাতাল পরির্দশনে আসেন ঢাকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালাক অধ্যাপক ডাঃ আবুল বাসার মো. খুরশীদ আলম, রংপুরের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ মোতাহারুল ইসলাম, রংপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ হিরম্ব কুমার রায়। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিটন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিয়ার রহমান। হাসপাতাল পরির্দশন শেষে তাঁরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শামসুন্নাহারের কক্ষে বসেন।

এ সময় মহাপরিচালকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিয়ার রহমান বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারছেন না। সমন্বয়ের অভাবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ সময় তিনি সুষ্ঠু স্বাস্থ্য সেবা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।’

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উপজেলা পরিষদের মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় উপস্থিত হন না। হাসপাতালের বিষয় নিয়ে তিনি উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করেন না। নানা কারণে এখানে স্বাস্থ্য সেবা ব্যহত হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের নেতা ও চেয়ারম্যানের কথা শোনার পর মহা পরিচালক আবুল বাসার মো. খুরশীদ আলম আগামী চার দিনের মধ্যে হাসপাতালের সকল সমস্যা, দলাদলি, সমন্বয়হীনা দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রংপুরের সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমারকে নির্দেশ দেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোছা. শামসুন্নাহার মুঠোফোনে বলেন, ‘মহাপরিচালক স্যার অন্য হাসপাতালের মতো তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরির্দশনে এসেছিল। আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই বলে মুঠোফোনের লাইনটি কেটে দেন।’

রংপুরের সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমার বলেন, চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবীদের অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্তের জন্য খুব শিগগিরই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/জে.

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ