লোকালয়ে ডুকে পড়া বন্যহাতির পাল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে ফিরিয়েছে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগ

বন্যহাতির পাল এখন পাড়া মহল্লায় এসে ঢুকে পড়ে। কারণ হাতির করিডোর বা আবাসস্থল গুলোতে বেশী বেশী স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। হাতির বিচরণের জায়গাগুলো মানুষের দখলে চলে যাচ্ছে।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় লোকালয়ে ঢুকে পড়া বন্যহাতির পাল দীর্ঘ ৩৬ঘণ্টা পর চেষ্টা চালিয়ে বনেই ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়েছে বনবিভাগের লোকজন। শনিবার (২৮আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় ১৯টি ছোট বড় বন্যহাতির পালকে বনে ( ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে) ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৭ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের ছিরামোড়া এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়েন ছোট-বড় ১৯ টি বন্যহাতির পাল। গত দুইদিন ধরে বন্যহাতির পালটি আশপাশ এলাকায় আস্তানা গেড়ে বসেন। ফলে ওই এলাকার মানুষের মাঝে উদ্বেগ আর আতংকের সৃষ্টি হয়। হাতির পালটিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ধাওয়া করে। এতে দল ছুঁট হয়ে পড়া বন্যহাতির হামলায় সবুর আলম নামের এক পথচারী আহত হন।তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চকরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে। এদিকে হাতির সাথে মানুষের দ্বদ্ধ শুরু হলে বন্যহাতির পালকে ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে ফেরানো উদ্যোগ নেন কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগ।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে , কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কমর্কতা মো. তহিদুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকতা রফিকুল ইসলাম চৌধুরীর সার্বিক নির্দেশনায় এবং সহকারী বন সংরক্ষক সোহেল রানার নেতৃত্বে শনিবার ২৮ আগষ্ট সন্ধ্যায় বন্যহাতির পাল বনে ফেরানোর অভিযান শুরু করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় বন্যহাতির পালটিকে নিরাপদে ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয় বনকর্মীরা।

এসময় অভিযানে অংশ নেন, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের সহকারী ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী বনসংরক্ষক ফুলছড়ি সহ বিভিন্ন বিটের বিট অফিসার ও বনকর্মীরা।

এ ব্যাপারে ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, আল্লাহর অশেষ কৃপায় কোন সংঘাত ছাড়াই বন্য হাতির দলটিকে নিরাপদে ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। তিনি বন্যহাতিসহ সকল বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় মানবকূলেরও সহানুভূতি কামনা করেন।

স্থানীয়রা বলেন, বন্যহাতি এখন লোকালয়ে এসে ঢুকে পড়ে। কারণ হাতির করিডোর বা আবাসস্থল গুলোতে বেশী বেশী স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। হাতির বিচরণের জায়গাগুলো মানুষের দখলে চলে যাচ্ছে দিনদিন। ফলে হাতির চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করছে মানুষ তাই হাতিও মানুষের ক্ষতি করতে শুরু করছে। হাতির পাল যে সব এলাকায় ঘুরাঘুরি করে বা চড়ে বেড়ায় সে সব এলাকায় গড়ে উঠেছে স্থাপনা। এছাড়াও কেটে ফেলা হচ্ছে বন জঙ্গল । অন্য দিকে হাতির খাবারেও সংকট দেখা দিয়েছে। তাই হাতি মরিয়া হয়ে উঠেছে, লোকালয়ে ডুকে পড়ছে খাবারের সন্ধানে।

তারা বলেন, একবিংশ শতাব্দি আগে পাহাড় ছিল সবুজ আর বর্তমানে পাহাড় হয়ে গেছে ন্যাড়া। এখনও সময় আছে আসুন সবাই মিলে প্রাকৃতিক সম্পদগুলো বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করি। সরকার তথা বন বিভাগ বন্যহাতি নিয়ে আরও ব্যাপক আকারে প্রকল্প গ্রহন করা উচিত বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ তহিদুল ইসলাম বলেন,রাস্তায় হাতির করিডোরের মধ্যে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। যার জন্য হাতির সাথে মানুষের সাথে এখন দ্বদ্ধ শুরু হয়েছে।

ডিএফও আরও বলেন, বন্যহাতি বিচরণের জায়গাগুলো মানুষের দখলে চলে গেছে। এসব বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে বন বিভাগ নিজস্ব উদ্যোগে মাইকিং ও স্থানীয় হেডম্যান ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা করেছি। কর্মশালায় হাতে কলমে শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে কিভাবে হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। এছাড়াও বন্যহাতি দেখলে করণীয় কি তাও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছাড়াও হাতি যেন লোকালয়ে আসতে না পারে সে জন্য হাতির খাবার সংগ্রহ করতে পারে সে জন্য বন বিভাগের অর্থায়নে বনায়নের উদ্যোগ গ্রহন ছাড়াও ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সৃষ্টি করা হয়েছে।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 11
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ