বিদ্রোহী কবির ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী

“যেদিন আমি হারিয়ে যাব বুঝবে সেদিন বুঝবে,
অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে;
বুঝবে সেদিন বুঝবে।” – কাজী নজরুল ইসলাম

বাংলা কাব্য জগতের এক অনন্য শিল্পী,আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সেই জাতীয় কবির আজ ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষীকি।১৯৭৬ সালের ২৯ আগষ্ট (১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্র) ঢাকায় পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি লিখেছেন..
গাহি সাম্যের গান
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান,
যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-খ্রিস্টান।

বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে এবং অকুণ্ঠ চিত্তে মানবমুক্তির জয়গানে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। সকল অন্যায়-অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার ও প্রতিবাদী।আজীবন বিদ্রোহী এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার কন্ঠের কারণে তিনি “বিদ্রোহী কবি” হিসেবে পরিচিত। কোমল দরদি মন নিয়ে আজীবন ব্যথিত-বঞ্চিত মানুষের পাশে থেকেছেন তিনি। মানবমুক্তির পাশাপাশি মুক্তবুদ্ধি,ধর্মান্ধতার পক্ষে কলম ধরেছেন তিনি।তাঁর লেখাতে যেমন বিদ্রোহী চেতনা ফুটে উঠেছে তেমনি জীবনেও। কবি তাঁর কবিতায় শুধু বিদেশি শক্তিকে আঘাত করেননি,নিজের দেশের সাম্য এবং দুর্বলের প্রতি অত্যাচার ও অন্যায় আচরণকেও তুলে ধরেছেন প্রবলভাবে। এরই ধারাবাহিকতায় কবিকে কিছুদিন ইংরেজ কারাগারেও কাটাতে হয়েছে।তাঁর রচিত “চল্ চল্ চল্,উর্ধধ গগণে বাজে মাদল ” গানটি আমাদের রণসংগীত।ছোটগল্প,গান,নাটক,উপন্যাস লিখলেও মূলত কবি হিসেবে তিনি অধিক পরিচিত।মাত্র ৪৩ বছর বয়সে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ায় কবির জীবন আমৃত্যু নির্বাক হয়ে যায়। ৭৭ বছর বয়সে কবি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি কবিতায় লিখেছিলেন,
“মসজিদের পাশে আমার কবর দিও ভাই,
যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই।”
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করা হয়।কবি বলেছিলেনঃ
“আমি চিরতরে দূরে চলে যাবো
তবুও আমারে দিবোনা ভুলিতে
আমি বাতাস হইয়া জড়াইবো কেশ
বেনী যাবে যবে খুলিতে।”

বাঙালি জাতির পক্ষে জাতীয় কবিকে ভোলা কখনো সম্ভব নয়। সত্যদ্রষ্টা মহান এই কবির ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষীকিতে কবির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 77
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ