মাছ চাষে পিছিয়ে সিলেট, নেই কোন মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান

প্রবল জনবল সংকটে ভূগছে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা মৎস্য কার্যালয় এবং মৎস্য অধিদপ্তর, সিলেট। ক্লাস ওয়ান অফিসার ও ক্লারিকেল পোস্ট অর্থাৎ প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর মোট ৩৩৩টি পদের মধ্যে ১৮৯টি পদই শূন্য রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যেতে অফিসগুলোকে অনেক বেগ পোহাতে হচ্ছে।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ- ২০২১ উপলক্ষে সিলেটে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণনাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দের সাথে মৎস্য অধিদপ্তর, সিলেট অফিসের এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য  অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোঃ জিল্লুর রহমান এমন তথ্যই তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, কৃষি বিভাগে  ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে অফিসার আছেন। আর আমাদের অফিসই চলছে না। তাই তৃণমুল পর্যায়ে যোগাযোগ ও কাজ বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় সম্প্রসারণ প্রতিনিধি (ক্ষেত্র সহকারী/লকেল এক্সটেনশন এজেন্ট ফর ফিসারিজ -লিফ) নিয়োগ দিয়ে কাজ করছি। তিনি বলেন, সিলেটে কর্মচারীরা এসে থাকতে চায় না। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তদবীর করে চলে যায়। তাই এ সেক্টরে এ অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন করতে স্থানীয় লোকবলের সরকারী চাকুরীতে আসা প্রয়োজন।

জিল্লুর রহমান বলেন, মাছ দেশের তৃতীয় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পণ্য। কিন্তু, সিলেট মাছ চাষে অনেক পিছিয়ে। স্বাধীনতার ৫০বছরেও সিলেটে সরকারীভাবে কোন  মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে নি। এখানে মৎস্য সম্পদের প্রচুর সম্ভাবনাও আছে। চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশী থাকার পরও গবেষণার অভাবে জাতীয় সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, সিলেটে প্রায় ১লক্ষ হেক্টর অনাবাদী কৃষি জমি আছে।এগুলোকে কাজে লাগাতে পারলে অনেক লাভবান হব আমরা।

তিনি আরো বলেন, সিলেট হাওড় অধ্যুষিত এলাকা। হাকালুকিসহ বড় বড় হাওড় এখানে আছে। কিন্তু হাওড় নিয়ে বিশেষায়িত কোন প্রকল্প নেই।তিনি মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে দ্রুততম সময়ে হাওড় প্রকল্প চালুর দাবী জানান। হাওড়ের উৎপাদন বাড়ানো গেলে জাতীয় উৎপাদন অনেক বেড়ে যাবে।

“বেশি বেশি মাছ চাষ করি-বেকারত্ব দূর করি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটের মৎস্য ভবন সম্মেলন কক্ষে আজ শনিবার  সকাল সাড়ে ১১ টায় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা  মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, মৎস্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের সিনিয়র সহারী পরিচালক আহসান হাসিব খান, সিলেট সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দ্বিজরাজ বর্মন, সিলেটের মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন, গোলাপগঞ্জের খামার ব্যবস্থাপক স্বপন কুমার ধর, মৎস্য অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী  প্রকৌশলী অরুণ বরুন সরকার, উপ সহকারী প্রকৌশলী নৃপেন্দ্র চন্দ্র সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আল আজাদ, সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ মো. রেণু, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব সভাপতি মুহিত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদ মকসুদ, সহ সভাপতি গোলজার আহমদ হেলাল, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সহ সাংবাদিকবৃন্দ।

সভায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গৃহীত চলমান সকল কর্মসুচী বাস্তবায়নে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানানো হয়।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/জি.

  • 22
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ