দূর্নীতির আখড়া সিলেট পাসপোর্ট অফিস, ভূগান্তির শেষ নেই প্রবাসীদের

সিলেট পাসপোর্ট অফিস যেন দুর্নীতি এক আখড়া। পাসপোর্টের ফাইল জমা দেয়া, ভূল সংশোধন সব জায়গায়তেই ভোগান্তি। দালালদের দৌরাত্ম তো আছেই। সব মিলিয়ে সিলেট পাসপোর্ট অফিসে চরম ভূগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রবাসীরা।

জানা যায়, সিলেট পাসপোর্ট অফিসে সত্যায়িত করার সিলসহ সবই আছে দালালদের কাছে। দরকার শুধু টাকা। টাকা দিলেই নিমিষে সমাধান পাওয়া যায় । টাকার লেনদেন না থাকলে- ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ফাইল জমা দেওয়া যায় না। নিয়মানুসারে আবেদন করে মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও পাওয়া যায় না পাসপোর্ট। প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা সিলেট। তাই এখানের পাসপোর্ট অফিসের দালালদের ব্যবসাও রমরমা। প্রবাস ফেরত নাগরিকরা জামেলা করতে চান না, টাকা বিনিময় হলে দ্রুত সমাধান চান তারা। তাই দালালরা যাই বলে তাই করতে বাধ্য সিলেটের প্রবাসীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বুধবার পাসপোর্ট অফিসে এসে ফিরে যেতে হয়েছে হবিগঞ্জের একপ্রবাসীকে।দু’দিনবর সকাল ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টায় কাজ শেষ না করে ফিরতে হয়েছে বাড়িতে।এভাবে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা দিচ্ছেন শতশত নারী, পুরুষ প্রবাস যাত্রী।

সুনামগঞ্জ থেকে আসা কালা মিয়া নামে এক প্রবাসী বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। প্রথমে গেইটের বাইরে প্রায় ২ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। পরে গেইট খুলে দিলে ফাইল চেক আপসহ বিভিন্ন পরীক্ষা দিতেও আরো ২ ঘন্টা থেকে দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনেছি। পাসপোর্ট জমাদানকারীরা বলছেন, এখানে কর্মকতা সংকট। প্রতিটি লাইনে ৫০০-৬০০ জন লোক দাঁড়িয়ে আছেন কিন্তু তাদেরকে মাত্র এক জন লোক সেবা দিচ্ছেন। যার কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়াতে ফিরে যেতে হয়।

গোপন একটি সুত্র জানায়, ১০০০/১২০০ টাকা দিলপ লাইনে না দাঁড়িয়ে টেস্ট করাতে পুলিশ লাইনে থাকা মানুষকে অফার করে।আমাকেও অফার করা হয়েছিল।কিন্তু আমার সিরিয়াল চলে আসা আমি আর টাকা দেইনি।

সূত্রে জানা যায়, পাসপোর্ট অফিসে সরাসরি ফাইল জমা না নিয়ে নানা অজুহাতে ফাইল ফিরিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। ভূল না থাকা স্বত্ত্বেও বিভিন্ন ভূলের অজুহাতে ফাইল ফিরিয়ে দেওয়া হয় চেকআপ সেক্টর থেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ট্রাভেল ব্যবসায়ী বলেন, কতিপয় ট্রাভেল এজেন্টদের সাথে আঁতাত করায় পাসপোর্ট অফিসে সরাসরি ফাইল জমা দেয়া যায় না। এমনকি কোড ফাইলের উপর এজেন্টদের লেখা না থাকলে, ফাইল ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যার ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ট্রাভেল ব্যবসায়ীরাও ভোগান্তির স্বিকার হচ্ছেন।

এদিকে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সিলেট পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানের পর দুদক জানায়- সিলেটে অধিকাংশ ট্রাভেলস ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে দালাল চক্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। তখন নানা দুর্নীতির প্রমাণ ও পায় দুদক। তখন থেকে ও থেমে নেই পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতি। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বেপরোয়া ভাবে চলছে দূর্নীতি।

একাধিকবার সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক এ কে এম মাজহারুল ইসলামের মোবাইলে কল দিলে তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 33
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ