মুখরোচক খাবার মুড়কি সদাই

স্যালো ইঞ্জিন চালিত তিন চাকার একটি গাড়ির উপর মেশিনটি বসানো। সেই মেশিনের এক পাশে চাল দেয়া হচ্ছে আর তার অন্য পাশ দিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই রশির মত লম্বা হয়ে বের হচ্ছে মুখরোচক ও সুস্বাদু এই খাবারের নাম মুড়কি সদাই। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ফেরি করে প্রতিদিন এই মুখরোচক খাবার তৈরি করেন চাঁন মিয়া। চাঁন মিয়ার বাড়ি বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলায়। এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তিন সদস্যের ছোট্ট একটি সংসার তার। তিনি গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে তার মেশিনের সাহায্যে মানুষের আনা চাল দিয়েই এই মুখরোচক খাবার তৈরি করে দেন। দিন শেষে খরচ বাদে যা উপার্জন করেন তা পাঠিয়ে দেন স্ত্রীর কাছে।

ইকরচালী ইউনিয়নের বরাতী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় চাঁন মিয়া মুড়কি সদাই তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার তিন চাকার গাড়িটি ঘিরে রেখেছেন মুখরোচক খাবারটি তৈরি করতে আসা বিভিন্ন বয়সের মানুষ। কেউ বাটিতে, কেউ বালতিতে আবার কেউ কেউ ব্যাগে করেও চাল নিয়ে এসে তার তিন চাকার গাড়িতে সারিবদ্ধভাবে সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছেন। অনেকেই চালে মরিচ-মসলা মাখতে দেখা গেছে। যাতে মুড়কি সদাই এ স্বাদ আসে। অনেকেই আবার তৈরি হওয়া মুড়কি সদাই নিয়ে মনের আনন্দে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।

কথা হয় মুড়কি সদাই তৈরি করতে আসা ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের গৃহবধূ আদুরী বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান চাঁন মিয়ার তৈরি মুড়কি সদাই অনেক মজাদার, সুস্বাদু ও মুখরোচক একটি খাবার। ছেলে-মেয়েরা খুব পছন্দ করে। এক কেজি চাল দিয়ে তৈরি করে নিতে ৪০ টাকা খরচ পড়েছে। এক কেজি চাল থেকে এক ডালি ভর্তি মুড়কি পেয়েছেন তিনি। তার ছেলে-মেয়েরা নতুন এই মুখরোচক খাবারটি পেয়ে অনেক খুশি হবে।

দুই সন্তানসহ চাল নিয়ে মুড়কি তৈরি করতে আসা একই এলাকার লুৎফর রহমান বলেন, বাড়ির চাল আর ঘরোয়া কিছু মসলা মাখিয়ে খাবার টি তৈরি করা হয়। যাতে খাবারটি আরও সুস্বাদু হয়ে ওঠে। এতে কোন কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। তাই সন্তানদের জন্য মুড়কি সদাই তৈরি করে নিতে এসেছি। তাছাড়া এই খাবারটি আমাদের এলাকায় নতুন এবং মুখরোচক, সুস্বাদু ও মজাদার হওয়ায় আমার সন্তানেরা এই খাবারটি পেয়ে অনেক আনন্দিত এবং খুশি মনে তারা খাবার টি খাবে। এটা দেখে আমার অনেক ভালো লাগবে।

করোনার কারণে নিজ এলাকায় তেমন ব্যবসা না হওয়ায় চাঁন মিয়া ব্যবসার উদ্দেশ্যে তার গাড়িটি নিয়ে রংপুরের তারাগঞ্জে এসেছেন। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, এ এলাকার লোকজন প্রথমে খাবারটি চিনত না। তাই শুরুতে তাকে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। এখন এ খাবারটি এলাকার মানুষ কম-বেশি সবাই চিনে। এখন আর তেমন একটা সমস্যা হয় না। গ্রামে বের হলে লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ে। ছোট ছোট বাচ্চারা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ এখন আমার গাড়িটি ঘিরে রাখে মুড়কি সদাই তৈরি করার জন্য।

চাঁন মিয়ার গাড়িটি তৈরি করতে খরচ পড়েছে ৮০ হাজার টাকা। এটি তৈরি করেছেন সিরাজগঞ্জে। তিনি প্রতিদিন এক থেকে দেড় মণ চালের মুড়কি সদাই তৈরি করতে পারেন।

চাঁন মিয়া বলেন, এখানে কোন ভেজাল নেই। তাছাড়া এখানে কোন কেমিক্যালও মেশানো হয় না। লোকজন বাড়ি থেকে তাদের চাল নিয়ে আসে। আমি শুধু মেশিনে মুড়কি সদাই তৈরি করে দেই। এক কেজি চাল থেকে মুড়কি সদাই তৈরি করতে ৪০ টাকা নেই। অনেকে দেড় কেজি চাল দিয়েও ৪০ টাকা দেন। প্রতিদিন গাড়িসহ খরচ হয় ৮০০ টাকা। সব মিলিয়ে খরচ বাদে প্রতিদিন গড়ে ১০০০-১২০০ টাকার মতো আয় হয়।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/জে.

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ