লকডাউন পরবর্তী ক্ষতি পোহানোর শষ্কায় দিন পার করছে সিলেটের ব্যবসায়ীরা

করোনা মহামারিতে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত দেশে কঠোর লকডাউন ছিল। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে চলমান বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও ২৩ জুলাই থেকে আবারও দেশব্যাপী কঠোর লকডাউন শুরু হয়। যা শেষ হয় ১০ আগষ্ট। এছাড়াও পুরো রমজান মাস ছিল লকডাউনের আওতায়।

করোনার ভয়াবহতায় ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে ধাপে ধাপে চলছিলো লকডাউন। দীর্ঘদিন লকডাউনের কারনে দোকানপাঠ, শপিংমল খুলতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। যার কারণে বিরাট অঙ্কের লোকসানের সম্মুখিন হন দোকান মালিকরা। এ কঠিন সময়ে আয় না থাকলেও ব্যয় করতে হয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুতের খরচ, শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, দোকানপাটের ভাড়া, পরিবহন ব্যয়, হিসাব কষে সময়মতো ভ্যাট-কর-শুল্ক কড়ায়গন্ডায় পরিশোধ করতে হয়েছে দোকান ব্যাবসায়ীদের।

এদিকে সপ্তাহ-পনের দিনের টানা বর্ষনে ঘরমুখি হয়ে পড়েছে ক্রেতাগন। এই মুহুর্তে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেনা অনেকেই। গত ১০ আগষ্ট থেকে লকডাউন তুলে দেওয়ায় আবারো নতুন করে ব্যবসা শুরু করছেন নগরের ব্যবসায়ীরা। ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্বাভাবিক ধারা ফিরে আসছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন- গত বছরের লোকসান এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এর জন্য প্রয়োজন সরকারের সহযোগিতা। বিশেষভাবে রাজস্বের ভার কমানো, সহজ শর্তে ঋণসুবিধা, ভ্যাট, ট্যাক্স কমানো ও ট্রেড লাইসেন্স ফি কমিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সিলেটের ব্যবসায়ীমহল।

সিলেট নগরের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, মদিনা মার্কেট, সুবিদবাজার, জিতু মিয়ার পয়েন্ট, মিরাবাজার, নাইওরপুলসহ প্রতিটি এলাকার দোকানে দেখা যায় সাজসাজ বর। তবে ভিড় দেখা যায়নি ক্রেতাদের। অনেকে দেখা গেছে বিক্রি করতে না পারা ঝমে থাকা পুরনো মালামাল অফার দিয়ে বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। কেউ আবার নতুন মালামাল ডুকাচ্ছেন। নগরের বন্দর বাজার ও  জিন্দাবাজার  কাপড়ের মল গুলোতে ঘুরে দেখা গেছে- আকর্ষনীয় ডিজাউনের শার্ট, প্যান্ট, থ্রিপিছসহ সকল ধরণের কাপড় ঝুলিয়ে রাখছেন তারা। অধিকাংশ দোকানে আবার ১৫% থেকে ৫০% পর্যন্ত ছাড় দিয়ে ক্রেতাদের টানছেন।

এছাড়াও জুয়েলারি দোকান, স্টেশনারি, কম্পিউটার শপ, কসমেটিকস দোকান সহ সব দোকানে নতুন নতুন জিনিষপত্র দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা নতুন করে সাজাতে চাইছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চাইছেন লকডাউনের ক্ষতি পুষিয়ে তোলার। কিন্তু একাধিক দোকান কর্মচারী ও মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবারের লকডাউনের পর থেকে আগের মতো দোকানে ক্রেতা আসছেন না। মানুষের মধ্যে আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় জিনিসও অনেকে পাস কাটিয়ে চলে যাচ্ছেন, ক্রয় করছেন না যার ফলে- লকডাউনের ক্ষতি পুষিয়ে তোলা অনেকটা দূরূহ হয়ে পড়েছে। জুয়েলারি দোকানদার আবির হোসেন বলেন, পূর্বের মতো মানুষের কাছে স্বর্ণালঙ্কারের প্রয়োজন নেই। তাছাড়া সোনার দাম উঠা নামা করায় ক্রেতাদের মাঝেও অনীহা দেখা দিয়েছে।

আম্বরখানা পয়েন্টের গোল্ডেন টাওয়ারে অবস্থিত ইফাজ ট্রাভেলস এর স্বত্বাধিকারী গোলাম রব্বানী বলেন, লকডাউনে বিরাট ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন ট্রাভেলস ব্যবসায়ীরা ও বিভিন্ন দেশের ফ্লাইট বন্ধ, পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ট্রাভেলস ব্যবসায়ীরা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। লকডাউন খুলে দেওয়ার পর মানুষ আসছেন নানা কাজে, তবে বিভিন্ন দেশের ফ্লাইট এখনো বন্ধ থাকায় ব্যবসা কম হচ্ছে। সব কিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসলে আশা করা যায় লকডাউনের ক্ষতি পুষিয়ে তোলা সম্ভব।তিনি আরো বলেন, অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। কিন্তু রাতারাতি কি আর এই লোকসান থেকে বের হওয়া সম্ভব? এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার দাবি জানান তিনি।

জিন্দাবাজারের লন্ডন ম্যানশের এক ব্যবসায়ী বলেন, সরকার লকডাউন তুলে নিলেও  আগের তুলনায় ব্যবসা খুবই কম হচ্ছে। ক্রেতারা প্রয়োজনীয় জিনিসও কিনতে নানা টালবাহানা করছেন। এই মুহুর্তে ট্রেড লাইসেন্স ফি জমা দেওয়া, কর পরিশোধ করা আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, করোনাকালীন সংকটেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে হিসাব কষে রাজস্ব পরিশোধ করতে হয়েছে। ব্যবসায়ীদের বিশেষ কোনো সুবিধা দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে করোনা পিকে থাকাকালীন স্বল্প সময়ের জন্য ব্যাংকঋণে সাময়িক ছাড় থাকলেও মাফ নেই। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি- বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বছরের জন্য হলেও অন্তত ট্রেড লাইসেন্স ও কর মওকুফ করা হয়।

হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ছিল। তাই প্রতিটি হোটেলে অর্ধকোটি টাকার মতো লোকসান হয়েছে। তাছাড়া ব্যাংক লোন তো আছেই। সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা খুবই কঠিন সময় পাড় করছেন। তাই এবারের ভ্যাট, ট্যাক্স সহ যাবতীয় ফি’তে নমনীয় করে এ বছরের কর মওকুফ করা, ট্রেড লাইসেন্স ফি অন্তত পক্ষে অর্ধেকে নামিয়ে আনার দাবী জানান তারা।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এইচ.

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ