মিথ্যা মামলায় একান্নভূক্ত পরিবারকে চরম হয়রানির অভিযোগ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ১২নং কুতুবপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুরে সম্পত্তির বিরোধে একটি একান্নভূক্ত পরিবারকে চরম হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১ টার দিকে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের এমন অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী মো.সামছুল আলম অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত মো. ইউছুফ খোকন, তার স্ত্রী বিবি মরিয়ম ও পুত্র তানভিরকে দিয়ে সেনবাগ ও বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ ও কোর্ট কাচারীতে একাধিক মিথ্যা অভিযোগ রুজু করে এ পরিবারটিকে একের পর এক হয়রানির করে আসছে।

ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেন, অর্থের প্রভাবে ধরা জ্ঞান সরা করা ইউছুফ হয়রানির উপাদান হিসেবে কখনো স্ত্রীকে দিয়ে নারী নির্যাতন ও কখনো পুত্রকে দিয়ে সাজিয়ে চলছেন পরিকল্পিত কল্পকাহিনী।

উপর্যোপুরি হয়রানির ছোবলে ওই পরিবারটি বিগত ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্তও থানা পুলিশ ও আদালতের গ্লানি টেনে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। মামলার হয়রানি থেকে বাদ পড়েনি এ পরিবারের শিশু থেকে শুরু করে ৯৫ বছরের বৃদ্ধও।

শামছুল অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলা আদালত ও পুলিশের তদন্তে মিথ্যে বলেও প্রমাণিত হয়েছে। উপরন্ত বিবি মরিয়ম কর্তৃক বেগমগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বিঞ্জ আদালত ওই মামলার বাদিনী বিবি মরিয়মকে গ্রেফতারী পরোয়ানা মুলে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। তিনি জানান, বিবি মরিয়ম ২০১৭ সালে সেনবাগ থানায় দায়ের করা এক মিথ্যে অভিযোগে নিজের বয়স ৫০ এর স্থলে ৩৫ বলে উল্লেখ করেন। স্থানীয় কুতুবপুর ইউপির চেয়ারম্যান বিভিন্ন সময়ে এসব মামলা নিয়ে দুপক্ষকে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করেও ইউছুফ খোকনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের দৌরাত্ম্যে তা আর কোন সুরাহা করতে পারেন নি।

এসব মিথ্যে, সাজানো মামলায় আদালতে দিনের পর দিন হাজির থাকার কারণে তার এক চাচাতো ভাইয়ের একটি ভালো মানের চাকুরিও চলে যায়। বর্তমানে ওই চাচাতো ভাই মানসিক সমস্যায় জর্জরিত।

এছাড়া ইউছুফ খোকন ভুক্তভোগী শামছুল আলমকে বিদেশ নেয়ার প্রলোভন দিয়ে ও তার চাচাতো ভাইকে বিদ্যুৎ বিভাগে সরকারি চাকুরি দেয়ার কথা বলে সর্বমোট তিন লাখ চল্লিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। এদিকে তার ছেলে শরিফ প্রিন্স শরিফ নামে ফেসবুক আইডি খুলে ভুক্তভোগী পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের বিরুদ্ধে কুরুচিপুর্ণ ভাষা ব্যবহার করে তাদের সামাজিক সুনাম নষ্ট করছে।

বারবার হয়রানির শিকার পরিবারটি জীবনযুদ্ধে সুস্থ্য সমাজ ব্যবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার লক্ষ্যে রাষ্ট্র ও সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সুবিচার প্রার্থনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবদুল মতিন,আবদুল খালেক,জয়নাল আবদিন,নুর মোহাম্মদ মানিক,নিজাম উদ্দিন দুলাল,মাসুম,ও কুতুবপুর ইউপির ৮ নং ওযার্ড মেম্বার নুরুর হুদা আলমগীর ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিগন উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ