মানবতার কল্যাণে আব্দুল জব্বার জলিল

মানবতার কল্যাণে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, রেড ক্রিসেন্ট এর  জাতীয় এডহক কমিটির সদস্য, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার এর  সিনিয়র সহ সভাপতি, আনন্দ টাওয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও যাত্রীক ট্রাভেলস এর সত্তাধীকারী আব্দুল জব্বার জলিল।

আবদুল জব্বার জলিল মানব সেবা কে নিজের ব্রত হিসেবে নিয়েছেন। নিরবে নিভৃতে সব সময় মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত রেখেছেন। অসহায় মানুষের ঘর নির্মাণ, খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্য সেবা, স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্টা ও ভবন নির্মান, স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ, জরুরি ফ্রী অক্সিজেন সেবা, ফ্রী ঔষধ সরবরাহ, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজে নগদ অর্থ সহায়তাসহ বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের সহযোগিতার জন্য অলাভজনক, অরাজনৈতিক ও সেচ্ছাসেবী প্রতিষ্টান “আব্দুল জব্বার জলিল ট্রাস্ট” ২০১৩ সালে প্রতিষ্টা করেন। বাংলাদেশ সরকারের ট্রাস্ট আইনে নিবন্ধিত আব্দুল জব্বার জলিল ট্রাস্ট এর রেজিষ্ট্রেশন নং হচ্ছে ১১৯৪১-১ভি৮৩/১৩।

আব্দুল জব্বার জলিল ট্রাস্ট এর সভাপতি হিসেবে রয়েছেন আব্দুল জব্বার জলিল, সহসভাপতি মকিতুর রহমান জায়গীরদার, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল রনি, সদস্য ইবরাহিম সানি, শামিম আরা বেগম, আসমা বেগম লিজা, আয়সা নাসরিন জ্যোতি, মাইশা নাসরিন তিথি ও ফখরুল ইসলাম সাইস্তা।

আব্দুল জব্বার জলিল নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ পর্যন্ত ১৬৫টি অসহায় পরিবারকে ঘর বানিয়ে দিয়েছেন। তিনি জালালপুর কলেজের অন্যতম প্রতিষ্টাতা, এই কলেজের ভবন নির্মান ও তিনি করে দিয়েছেন। তিনি দশক সুরমা সরকারি কলেজ ও অগ্রগামী কলেজে ভবন নির্মান করে দিয়েছেন। তিনি তাঁর মায়ের নামে সায়রা খাতুন হাফিজিযা মাদ্রাসা  প্রতিষ্টা করেছেন এবং এই মাদ্রাসার ব্যায়ভার ও তিনি বহন করেন। তিনি জালালপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার ভবন ও মার্কেট নির্মান করে দিয়েছেন। বৈরাগীবাজার হাইস্কুলে ও ভবন নির্মান করে দিয়েছেন। এ রকম ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্টানে ভবন নির্মান সহ অনুদান প্রদান করেছেন। প্রতিবছর রমজান মাসে মসজিদ, মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন  প্রতিষ্টানে সাহায্য সহযোগিতা করে থাকেন। এ ছাড়া সারা রমজান মাস অসহায় মানুষের জন্য সিলেট নগরীতে ইফতার বিতরণ করে থাকেন।

২০২০ সালে মার্চ মাসে থেকে বাংলাদেশ করোনা ভাইরাস প্রাদূর্ভাব দেখা দিলে তিনি সাহায্য সহযোগিতার  জন্য এগিয়ে আসেন। সিলেটে করোনায় আক্রান্ত হয়ে অক্সিজেনের অভাবে মানুষ যখন অকালে মৃত্যু বরণ করছিলো তখন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেটের কৃতি সন্তান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বরের ১ম সহসভাপতি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এর পরামর্শ ও সহযোগিতায় আব্দুল জব্বার জলিল ট্রাস্ট  এর ব্যবস্থাপনায় কোভিড ও ননকোভিড রোগীদের মাঝে ফ্রী  অক্সিজেন সরবরাহ শুরু করেন যা এখনো ও চলমান আছে। ফ্রী অক্সিজেন সেবা একটি কল সেন্টারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

করোনা  মহামারির শুরু থেকে আব্দুল জব্বার জলিল করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার ও নার্সদের পার্সোনাল প্রটেক্টিভ উপকরণ বিতরণ করেন। করোনা মহামারির কারনে বাংলাদেশে যখন লকডাউন ঘোষণা করা হয় তখন তিনি শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেন। খাদ্য সহায়তার জন্য চালু করেন একটি কল সেন্টার।

নিজস্ব পরিবহন দিয়ে চাল, ডাল, আলু,তেল, লবন, মিষ্টি কুমড়া, আটা, ওরাল স্যালাইন, সাবান, খেজুর, সেমাইসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রবাদি দক্ষিণ সুরমার ৬৫০০ পরিবারকে সহায়তা করেন। দক্ষিণ সুরমা ছাড়া ও সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন।

সিলেট নগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আর এল এর সত্তাধীকারী ইকবাল হোসেন খোকা ছিলেন আব্দুল জব্বার জলিল এর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। গতবছর অর্থ্যাৎ ২০২০ সালে অক্সিজেনের অভাবে ইকবাল হোসেন খোকা মৃত্যুবরণ করলে আব্দুল জব্বার জলিল ফ্রী অক্সিজেন সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে তিনি ২২টি সিলিন্ডার নিয়ে যাত্রা শুরু করেন, পরবর্তীতে আরো ৭টি সিলিন্ডার যুক্ত হয়। সিলেট ০১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ এ কে মোমেন ১০টি সিলিন্ডার দিয়েছেন। সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান ২০টি সিলিন্ডার দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ও  সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয় আব্দুল জব্বার জলিল ট্রাস্টে নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন।

আব্দুল জব্বার জলিল ট্রাস্টের কল সেন্টারের মাধ্যমে নিয়মিত কার্য়ক্রম তদারকি করেন মদনমোহন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কাশেম। তিনি জানান, নগরীর জেল রোডস্থ আনন্দ টাওয়ার থেকে ফ্রী অক্সিজেন সেবাসহ সব কিছু পরিচালিত হচ্ছে।

আব্দুল জব্বার জলিল জানান, করোনা মহামারিতে অক্সিজেন ঘাটতি থাকায় আমরা হিমসিম খেয়েছি। বর্তমানে অক্সিজেন সেবা নিয়ে অনেকে এগিয়ে এসেছেন। আমরা করোনা রোগীদের ফ্রী ঔষধ, খাদ্য ও অক্সিজেন দিচ্ছি। যে কেউ চাইলে আমাদের সাহায্য সহযোগিতা গ্রহন করতে পারেন। আমাদের এই মহামারি কাটিয়ে উঠতে স্বাস্থ্য সচেতন ও টিকা গ্রহন করতে হবে।

মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাওয়া কৃতি সন্তান আব্দুল জব্বার জলিল এর বাড়ি দক্ষিণ সুরমা উপজেলা জালালপুর ইউনিয়নের সোনামপুর গ্রামে। তিনি মরহুম আইনউল্লাহ   ও সায়রা খাতুনের ছেলে। ব্যক্তিগত জীবনে আব্দুল জব্বার জলিল ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে সন্তানের জনক। বড় ছেলে ইংল্যান্ডে একাউন্টেন্ট, ২য় ছেলে কানাডাতে সিএসসি ইঞ্জিনিয়ার। তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে ডাক্তার, অন্য দুইজন লেখাপড়াতে রয়েছেন।

আব্দুল জব্বার জলিল সব সময় প্রচার বিমুখ মানুষ। বর্তমানে  করোনা মহামারিতে যেভাবে আব্দুল জব্বার জলিল মানবতার কল্যাণে এগিয়ে এসেছেন তা সিলেটবাসী আজীবন মনে রাখবে। সমাজে যারা বিত্তশালী দূর্যোগে দুঃসময়ে এভাবে এগিয়ে আসেন তাহলে সাধারণ মানুষের অনেকটা দুঃখ দূর্দশা লাঘব হবে।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/এইচ.

  • 57
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ