পরীমণির মুক্তির দাবিতে শাহবাগে সমাবেশ

চিত্রনায়িকা পরীমনির মুক্তির দাবিতে তিন দফায় প্রেস ক্লাব ও শাহবাগ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে নাগরিক সমাবেশ। রোববার (২২আগস্ট) শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে তার মুক্তির দাবিতে আবারো সমাবেশ করেছেন বিক্ষুব্ধ নাগরিকজন। এ সময় ‘জাস্টিস ফর পরীমনি’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে শাহবাগ চত্বর।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দেশের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন নাটকের নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা। পরীমনির মুক্তির দাবিতে নাগরিক সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছেন মানবাধিকার আন্দোলন নেত্রী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, খ্যাতিমান লেখক সংগঠক ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, মানবাধিকার আন্দোলন নেত্রী খুশি কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাদেকা হালিম।

সমাবেশে প্রযোজক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, ‘বহুদূর পথ পেরিয়ে পরীমনি চলচ্চিত্রে একটি চমৎকার জায়গা তৈরি করেছেন। চলচ্চিত্রের আকাশে পরীমনি উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার সফলতায় হয়তো কেউ কেউ ঈর্ষান্বিত। নানাবিধ কারণে পরীমনিকে আজকের প্রেক্ষাপটে দাঁড়াতে হয়েছে। আসলে পরীমনি আমাদের বাংলাদেশে সম্মানিত, জনপ্রিয়, আলোচিত, গর্বের অভিনেত্রী। এতবড় অভিনেত্রী, এত সুন্দর একজন নায়িকাকে এইভাবে উপস্থাপনা করা আমার মনে হয় কোনোভাবেই সঙ্গত হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনিতো চলচ্চিত্র বান্ধব, শিল্পী বান্ধব, আপনি সবকিছুই দেখেন। প্লিজ পরীমনির উপর সদয় হোন। আপনি তাকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করে দিন। কারণ পরীমনি তো আপনারই সন্তান। পরীমনি আপনাকে মা ডেকেছেন। আপনি তার প্রতি সদয় হোন।’

নির্মাতা অপারজিতা সংগীতা বলেন, ‘শুরু থেকেই পরীমনির সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে। তার নির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ এখনো জানা যায়নি। প্রতি মুহূর্তে পরীমনি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। এ জন্য কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। পরীমনি ক্ষমতাশীল ব্যক্তিদের আক্রোশের শিকার।’

চলচ্চিত্র নির্মাতা রাশিদ পলাশ বলেন, ‘পরীমনির এ সময় শুটিংয়ে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সে আজ কারাগারে। মানুষ ভুল-ত্রুটির উর্ধ্বে নয়। তাকে সন্ত্রাসী কায়দায় আদালতে আনা হচ্ছে। যা অনেক বড় সন্ত্রাসীর বেলায়ও ঘটে না। সে কোনো সন্ত্রাসী নয়। তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। সময় মতো শুটিং করতে না পরায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। পরীমনি একজন শিল্পী তাকে মুক্তি দেওয়া হোক।’

পরীমনির সঙ্গে আইনজীবীকে কথা বলতে না দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে বলে সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা অভিযোগ করেন। এ সময় মানবাধিকার রক্ষার অনুরোধ জানান তারা।

এদিকে, রাজধানীর বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির জামিন চেয়ে আবেদন করেছেন তার আইনজীবী। এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর।

রোববার (২২আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে এই অভিনেত্রীর জামিন আবেদন করেন আইনজীবী মজিবুর রহমান।

এর আগে, শনিবার (২১ আগস্ট) পরীমণিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এসময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা তাকে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আশেক ইমাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে বনানীর বাসা থেকে পরীমণি ও তার সহযোগী দীপুকে আটক করে র‍্যাব। এ সময় তার বাসা থেকে মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। পরদিন ৫ আগস্ট বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য আইনে পরীমণি ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করে র‍্যাব-১।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/ডি.

  • 92
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ