যুবাদের নিয়ে তৈরি স্টার্টআপ হতে পারে সারা বাংলাদেশের সবার জন্য অনুপ্রেরণা

যুবাদের নিয়ে তৈরি স্টার্টআপ হতে পারে সারা বাংলাদেশের সবার জন্য অনুপ্রেরণা। নেতৃত্ব দিচ্ছেন শামীম হোসেন, সাথে ডিরেক্টর প্যানেলে আছেন শেরপুরের ছেলে মোঃ সারজিদ হোসেন। তার চোখে এসেন্ড হতে পারে শেরপুরের পরিশ্রমী যুবাদের ক্যারিয়ার গঠনের অন্যতম একটা প্ল্যাটফর্ম!

বর্তমান কোরোনা পরিস্থিতিতে সারাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যখন প্রায় অচল অবস্থা তখন বসে নেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী শামীম হোসেন। সময়টাকে কিভাবে সর্বোচ্চ কাজে লাগানো যায় এই নিয়ে চলতে থাকে তার বিভিন্ন ধরনের চিন্তাভাবনা। উল্লেখ্য, শামীম হোসেন আগে থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠণের সাথে জড়িত থাকার পাশাপাশি ‘সিলসা’ নামক একটি শিক্ষামূলক সংগঠনের রাবি শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

শামীম হোসেন বলেন, “আমি অনেক গুলো সংগঠনের সাথে কাজ করেছি, নেতৃত্ব দিয়েছিও বেশ কয়েকটি সংগঠনে যা আমার জন্য বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করতে সহায়তা করে এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি আমি প্রচুর পরিমানে রিসার্চ করে নতুন কিছু উদ্ভাবনের জন্য আগ্রাসী হয়ে থাকি যা আমাকে এসেন্ড গঠন করতে সহায়তা করেছে। এসেন্ড সম্পর্কে বলতে গেলে এসেন্ড এর পূর্ণরুপ হচ্ছে এসোসিয়েশন ফর সোস্যাল কন্ট্রিবিউশান এন্ড এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট। অর্থাৎ, এসেন্ড সামাজিক, শিক্ষা এবং ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট এই কয়টি বিষয়ের সম্মিলিত একটা প্রতিষ্ঠান। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান আমার জানামতে এতোগুলো বিষয় একসাথে নিয়ে কাজ করছে না বা করার সাহস দেখিয়েছে বলে আমার মনে হয় না। আমি এটাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। এখানে একাডেমিক এবং নন একাডেমিক শিক্ষা যেমন, এসএসসি,এইচএসসি, অ্যাডমিশন সিকার্স বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক শিক্ষা এবং সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আমাদের দেশের বিপুল পরিমাণ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিত থাকে! তাদের সঠিক গাইডলাইন দিয়ে ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করাও আমাদের একটি কাজ।আমরা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ধরনের লেখা, ব্লগ, সেশন,ওয়ার্কশপ আয়োজন করে থাকি। আমরা বিভিন্ন ন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইনার এনে আমাদের যুব সমাজকে কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড এর সাথে পরিচিতি করাচ্ছি।সম্প্রতি, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি কর্তৃক আয়োজিত আইটি রিলেটেড আইডিয়া পিচিং কম্পিটিশন এ আমি অংশ নেই এবং আমার এসেন্ড সম্পর্কে ধারণা দেই। তারা আমার আইডিয়াটি বাংলাদেশের সেরা স্টার্টআপ আইডিয়ার একটি হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং আমার সংগঠন কে একটি প্রাতিষ্ঠানিক অফিস প্রদান করে। আমার এখানে আমাকে সহায়তা করছেন বেশ কয়েকজন প্রডাক্টিভ শিক্ষার্থী যারা আমার ই ব্যাচমেট অথবা জুনিয়র। আশা করি, তাদের হাত ধরে সংগঠনটি আরও এগিয়ে যাবে, তারাও নতুন কিছু শিখে দেশকে কিছু দিতে পারবে।”

এ ব্যাপারে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ও এসেন্ড এর প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট টিম এর ডিরেক্টর মোঃ সারজিদ হোসেন বলেন, “একদম প্রথম বর্ষ থেকেই আমি সিলসা তে জয়েন করি, সেখানে শামীম ভাই আমার কাছে অসাধারণ একজন ব্যক্তিত্ব মনে হয় এবং তার সাথে কাজ করে আমি বেশ স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করি। তার ই ধারাবাহিকতায় এসেন্ড এর সাথে আমার শুরু থেকেই পথ চলা। আমাকে শামীম ভাই একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেন, আশা করছি আমি এখান থেকে অনেক কিছু শেখার পাশাপাশি এসেন্ড কেও অনেক কিছু দিতে পারবো। শেরপুর নিয়ে কি চিন্তা তার এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে সারজিদ হোসেন বলেন, শেরপুর এমন একটি শহর যেখানে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই। এর জন্য শেরপুরের অনেক শিক্ষার্থী ই কর্পোরেট কালচার এর দিক থেকে পিছিয়ে আছে। আমি চাই শেরপুর এর বিভিন্ন ন্যাশনাল ও এমপিভুক্ত কলেজগুলোও এসেন্ড এর ছোয়া পাক এবং তারাও কর্পোরেট কালচার শিখতে পারুক। এতে করে, আমাদের শেরপুরের মানুষের জড়তা কমার পাশাপাশি কমিউনিকেশন স্কিল টা বাড়বে যার ইম্প্যাক্ট তারা তাদের ক্যারিয়ার গড়তে কাজে লাগাতে পারবে। আমি চাই শেরপুরের প্রতিটি শিক্ষার্থী অনেক বেশি দক্ষ, অভিজ্ঞ ও স্মার্ট হোক। আমি মনে করি,এসেন্ড হতে পারে শেরপুরের যুবাদের ক্যারিয়ার গঠণের অন্যতম একটি প্ল্যাটফর্ম ।এটা আমার স্বপ্ন আর আশা করি, এসেন্ড এর মাধ্যমেই আমি সেই স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হবো।”

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ