পৃথিবী ও প্রজন্মকে বাঁচানোই জেবার পণ

জলবায়ু সম্পর্কে ছোট বেলায় বই পুস্তকে পড়ে আসলেও তা স্পষ্ট ছিলোনা্। জলবায়ু সংকট বিষয়ে আমার বৃহৎ ধারণার বিস্তার সেদিন থেকে শুরু হয় যেদিন থেকে আমি ইয়ুথনেটে যোগ দেই। জলবায়ু বিষয়টি যে এতো বিস্তর, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে যে জলবায়ু সুরক্ষায় আমাদের অনেক গুরুত্বপুর্ন দায়িত্ব রয়েছে। চোখে আঙুল দিয়ে এসব আমাকে দেখিয়ে দিয়েছে ইয়ুথনেট। আমাদের দেশে অনেক ধরনের সংগঠন রয়েছে । কিন্তু জলবায়ুর সুবিচার নিয়ে কাজ করা সংগঠন আমার চোখে ইয়ুথনেটই প্রথম। বলছিলেন সিলেটের তরুণ জলবায়ু কর্মী হুমায়রা আহমেদ জেবা।

সিলেট এমসি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী জেবার বেড়ে উঠা সিলেট শহরে । ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের সেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে সামাজিক কার্যক্রমের যাত্রা শুরু। বর্তমানে তিনি ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস নেটওর্য়াকের প্রশিক্ষণ নিয়ে জলবায়ু সুবিচার আদায়ে সক্রিয়ভাবে নানা ধরনের প্রচারণা ও মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। জেবা বলেন, আমি একজন জলবায়ু যোদ্ধা। আমার অনেক পরিচয়ের মধ্যে আজ এই পরিচয় সবার কাছে দিতে আমি বেশি গর্ববোধ করি।

তিনি আরো বলেন, যেদিন থেকে ইয়ুথনেটে যোগ দিয়েছি সেদিন থেকেই নিজেকে পৃথিবী বাঁচানোর একজন অস্ত্রবিহীন যোদ্ধা হিসেবে ভেবে নিয়েছি। আমার কাজ হচ্ছে এই ধরিত্রীকে জলবায়ুর সংকট থেকে যাতে রক্ষা করা যায়। এই কথাটি মাথায় রেখে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।

জেবার মতে, সৃষ্টির শুরু থেকে আমরা আমাদের একমাত্র আবাসস্থল পৃথিবী থেকে হাজারো সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছি। কিন্তু বিনিময়ে আমরা পৃথিবীকে কি দিচ্ছি? একবারো কি আমরা নিজেকে এই প্রশ্ন করি?

অবস্থাটা এমন হয়ে ওঠেছে, “উপকারীকে বাঘে খায় স্বরূপ।

অধিক হারে মানুষের কার্বন নির্গমনের ফলে দিন দিন পৃথিবী তার বিরূপ প্রভাব আমাদেরকে দেখিয়ে দিচ্ছে। অসময়ে বন্যা, ঝড়, বৃষ্টি, খরা, ছাড়াও অসংখ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিদিন। আর এই দুর্যোগ সৃষ্টি হওয়ার প্রধান কারণ হলো জলবায়ুর পরিবর্তন । জলবায়ুর এই বিরূপ পরিবর্তনের জন্য দায়ী সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ৷ আমরা আমাদের নিজেদের অজান্তেই আমাদের ক্ষুদ্র কতিপয় স্বার্থের জন্য জলাঞ্জলি দিচ্ছি আমাদের অনেক বড় বড় স্বার্থ।

পৃথিবীর যা ক্ষতি হয়েগেছে তা পুষিয়ে ওঠা হয়তো পুরোপুরি আমাদের জন্য সম্ভব নয়। আমরা সবাই জানি যে তরুণদের হাত ধরেই নতুনত্বের সৃষ্টি হয়। আমাদের পূর্বপুরুষরা যা করে গেছেন তার ফল ভোগ করছি আমরা বর্তমান প্রজন্ম । ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে এরূপ জলবায়ু জনিত ক্ষতির সম্মুখীন না হয় এই ব্যাপারে বর্তমান প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি ।

তিনি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন ,আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়া সম্ভব যদি সবাই এখনই জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে উদ্যোগী হয়। জেবার দু’চোখ ভরা স্বপ্ন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম শুদ্ধ জলবায়ু।এ স্বপ্ন বাস্তবায়নেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জলবায়ু সুবিচার আদায়ের লক্ষ্যে ।

ডেইলিরুপান্তর/আবির

  • 302
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ