শেষ মৌসুমে আমন ধানের চারা রোপণ

বহু প্রতিক্ষার বৃষ্টি এল। চার দিন ধরে ঝরল ঝর ঝর করে। তাতেই আমনের ক্ষেতে পানি জমেছে। চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন রংপুরের তারাগঞ্জের কৃষকরা। দেখে মনে হয় যেন আমন চাষের মৌসুমে আকাশের বৃষ্টির জন্য অধীর অপেক্ষায় ছিলেন তারা। পানির অভাবে আমনের চারা রোপণ নিয়ে দিশেহারা অবস্থায় ছিলেন তারা। অনেকে সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে পানি দিয়ে ক্ষেতে চারা রোপণ করেছেন। আবার কেউ কেউ সেচ দিয়েই টিকিয়ে রেখেছেন আমনের চারা। গত চার দিনের ঝর ঝর বৃষ্টিতে ক্ষেতে কিছু পানি জমায় তাদেরকে আর সেচ দিতে হবে না। তাতে করে কৃষকের মুখে একটু হাসি ফুটেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তারাগঞ্জে ১১ হাজার ৫৪৭ হেক্টর আবাদী জমি আছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৯৪২ হেক্টর জমিতে প্রতি বছর আমন ধানের চারা রোপণ করা হয়। আমনের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় ১৫ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু এবার মৌসুমের শুরু থেকেই টানা খরা শুরু হয়। যদিও আকাশে মেঘ জমে কিন্তু তা বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে না। বৃষ্টির আশায় থেকে থেকে অবশেষে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়ে এবং জমিতে সেব দিয়ে আমন ধানের চারা রোপণ করে। কিন্তু অধিকাংশ গবির কৃষকরা সেচের বাড়তি টাকা গুনতে পারেন নি তাই তারা বৃষ্টির অপেক্ষায় আকাশের দিকেই চেয়ে থাকেন। গত কয়েক দিনের ঝর ঝর বৃষ্টিতে তাদের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

শনিবার কথা হয় বানিয়াপাড়ার মাঠে ডাঙ্গাপাড়ার কৃষক আনছার আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আমন ধান তো হইল আকাশের পানি নির্ভর একটি ফসল। প্রতি বছরই তো হামরা আকাশের পানি দিয়ে আমন ধান নাগাই। কিন্তু এবার যে কি হইল পানির তো কোন দেখা নাই। গতবার তো বন্যার জন্য আমন ক্ষেত নষ্ট হয়া যায়। এবার ফির হামাক পানির জন্য হাহাকার করবার নাগোছে। মোর তো মনে হয় না মোর জীবনে এরকম একবারও দেখচুং। আল্লাহর রহমতে কয়দিন থাকি একনা ঝিরিত ঝারাত পানি হওছে। সেই পানিত উচা জমিগুলাত এ্যানা আমন ধান নাগাওচুন।

তের মাইলের ভাটার পার দোলায় আমন লাগাতে ব্যস্ত কৃষক নেছার উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কি আর কইম ভাই প্রতি বছর এ সময় বন্যা হয়া যায়। বন্যার জন্য আমন ধান কোনবার নাগারে পাইনা, যদিও কোনবার এনা আগুর করি নাগাই তাও আবার বন্যায় নষ্ট হয়া যায়। কিন্তু এবার যে কি হইল পানির তো কোন দেখাই নাই। তিন চার দিন ধরে মাঝে মাঝে এনা বৃষ্টি হওছে। সেই পানিত হাল দিয়ে চাষ করি আমন নাগাওচি। আকাশের পানি না হইলে এবার মোর আমন নাগা হইল না হয়।

ভীমপুর গ্রামের আরেক কৃষক হযরত আলী বলেন, ভাই দুনিয়াত সউক উল্টা পাল্টা হওছে। গত বছর এই সময় তো বন্যার পানিত গ্রাম-গঞ্জ ভাসি গেছিল। কিন্তু এবার পানির তকনে এলাও আমন ধান লাগার পাই নাই। সেই ধান শেষ সময় তো নমলা করি নাগাওছি। আল্লাহ জানে কপালত এবার কি হইবে, ফলন যে কেমন হইবে বোঝা মুশকিল।

সাতঘড়ি পাড়ার কৃষক নারায়ন রায় বলেন, ভগবান চোখ তুলি দেখছে। কয়দিন থাকি ঝিরিত ঝারাত একনা বৃষ্টি হওছে। এই পানি কোনা না হইলে এবার মোর আমন ধান নাগায় হইল না হয়। মোর যে ভুঁই খালি পানি খায়, সেই ভুঁইয়োত স্যালো দিয়া আবাদ করিলে কি পোষায় কন? আর তেলের যে দাম তাতে করি তো মোর তেলের টাকায় উঠিবার ন্যায়। সেই তকনে এতদিন মুই ধানও নাগাও নাই। এ্যালা দেওয়ার পানি হওছে ধান নাগাইলে কোন অসুবিধা নাই।

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএ/জে.

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ