আমি অসুস্থ হাঁটতে পারছি না, দয়া করে কিছু করেন: পরী মনি

রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আজ বৃহস্পতিবার চিত্রনায়িকা পরী মনিকে সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর পরী মনির কথা হয় তার আইনজীবীদের সাথে। এসময় পরী মনি আইনজীবীদের বলেন, ‘আমি খুবই অসুস্থ। হাঁটতে পারছি না। জেলে থাকলে আমার অবস্থা আরও সংকটাপূর্ণ হয়ে যাবে। দয়া করে আমার জন্য কিছু করুন।’ পরী মনির আইনজীবী মজিবুর রহমান এ কথা বলার বিষয়টি জানান।

এরপর বেলা ১১ টা ৩০ মিনিটে শুনানির জন্য তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের এজলাসে তোলা হয়। তবে পরী মনিকে দেখতে আইনজীবীদের ভিড়ের জন্য শুনানি শুরু করতে বিলম্ব হয়ে ১:৪৬ মিনিটে শুরু হয়।

শুনানি শুরু হলে পরী মনির আইনজীবী মজিবুর রহমান আদালতে বলেন, আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। কিন্তু কি কারণে আবার রিমান্ড চাওয়া হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট নয়। পরী মনির কাছে দুইবার রিমান্ড নিয়ে যা যা জানার দরকার তা হয়ে গেছে। বলা হয়েছে পরী মনির কাছে মাত্র চার গ্রাম আইস মাদক পাওয়া গেছে। কিন্তু এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১ বছর। কিন্তু মাননীয় আদালত এমন মামলায় কেন আবার রিমান্ড প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আসামি একজন নারী ও সম্মানীয় ব্যক্তি। তাকে যদি বার বার রিমান্ডে নেওয়া হয় তাহলে সমাজে কি মেসেজ যাবে। সবাই পরী মনির মুক্তির জন্য পত্রিকায় ও সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখি করছে। আমরা মনে করছি এ মামলায় আর কিছু নেই। তাই তার রিমান্ড আর প্রয়োজন নেই বলে আমরা মনে করছি।

এসময় রাষ্ট্রপক্ষের ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু আদালতে বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। এ মামলায় অনেক তথ্য উপাত্ত বের হচ্ছে। এছাড়া আইন সবার জন্য সমান। চিত্রনায়িকা হোক আর যাইহোক।

পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন না মঞ্জুর করে আরও একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ রিমান্ড আদেশের তিন দিনের মধ্যে জিঙ্গাসাবাদ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

এ শুনানি শেষে পরী মনি বিচারককে বলেন, ‘আমার নানা-ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে চাই। এরপর বিচারক অনুমতি দেন। বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে পরী মনির নানা কাঠগড়ার বাইরে থেকে পরী মনির সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় পরী মনির দুই খালাত ভাই পাশে ছিলেন। দুই মিনিট কথা হয় তাদের। কি কথা হয়েছে জানতে চাইলে পরী মনির খালাত ভাই বলেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।

এদিকে শুনানি শেষে আদালত থেকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার সময় হাজতখানার গেটের সামনে পড়ে যান পরী মনি। তার আইনজীবী বলেন, পরী মনি অসুস্থ। এছাড়া জেল খানার ধকল সইতে পারছে না। কারণ তিনি একজন নারী। এ মামলায় এতোবার রিমান্ড নেওয়ার কেন প্রয়োজন। কি উদ্দেশ্য আপনারা সবই জানেন।

এর আগে ১৬ আগস্ট মামলাটিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা সিআইডি পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত শুনানির জন্য আজ বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) দিন ধার্য করেন।

এর আগে মাদক মামলায় গত ১৩ আগস্ট পরী মণি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে রিমান্ড শেষে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

বনানী থানায় পরী মণি ও তার সহযোগী দীপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮- এর ৩৬ (১) এর সারণি ২৪(খ)/৩৬ (১) এর সারণি ১০ (ক)/৪২(১)/৪১ ধারায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে র‍্যাব। এ মামলায় প্রথম দফায় ৫ আগস্ট চারদিন এবং দ্বিতীয় দফায় দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট বিকেলে ঢাকাই চলচ্চিত্রের এ নায়িকার বনানীর বাসা চারদিক ঘিরে ফেলে প্রায় চার ঘণ্টা ভেতরে তল্লাশি শেষে পরী মনিসহ ৩ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তার বাসা থেকে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিপুল পরিমাণ মদ, এলএসডি উদ্ধার করা হয়।

জাতীয়/এসডি

  • 49
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ