ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি

গত কয়েকদিন ধরে শেরপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে অন্তত: ছয় গ্রামের ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও বাড়িঘর। ভাঙনরোধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভাঙন আরও বড় আকার ধারণ করার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

শেরপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বুক চিরে বয়ে চলেছে ব্রহ্মপুত্র নদী। এর দুই পাশ্বে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ না থাকায় প্রতি বছরই চলে আসছে নদী ভাঙ্গন। এতে প্রতি বছরই নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বাড়িঘরসহ নানা স্থাপনা। এ বছরও বর্ষার শুরুতেই এ নদের তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এতে প্রতিদিনই বিলীন হয়ে যাচ্ছে একরের পর একর আবাদী জমি। এরই মধ্যে আবাদকৃত বিভিন্ন সবজি খেতের ফসলসহ জমি ভেঙে পড়ছে নদীগর্ভে।

ইতিমধ্যে শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের চুনিয়ারচর, ভাগলগড়, জঙ্গলদি, বেপারীপাড়া, ডাকপাড়া, কামারেরচর ইউনিয়নের ৬নং চরসহ ৬টি গ্রামের অনেকেই তাদের বাড়ি-ঘর সরিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে চুনিয়ারচর গ্রামের ৩টি মসজিদ ও মাদ্রাসা নদী গর্ভে চলে যাবে।

এ মূহুর্তে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে চুনিয়ারচরসহ এ ৬টি গ্রামই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশংকা করছেন গ্রামবাসীরা।

নদী এভাবে ভাঙ্গতে থাকলে এসব গ্রামের বাড়িঘর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়বে। এতে হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনিতেই করোনার কারণে লকডাউনে এলাকার মানুষজন দুর্ভোগে রয়েছে। আর মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই নদীভাঙন। তাই ভাঙনরোধে দ্রুত সরকারিভাবে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে জানালেন জনপ্রতিনিধিসহ সকলেই।

এ ব্যাপারে আব্দুর রহিম বলেন, আমাদের পাশ্বে নদী ভাঙ্গতাছে, কারণ জামালপুরের পাশ্বে নদীতে বাধ দিয়েছে। তাই এহন নদী ভেঙ্গে ভেঙ্গে আমাগোরে দেহি আইতাছে। আমাগোর মসজিদ, স্কুল বাড়ী সবই এহন নদীয়ে নিযে যাবোগা। এহন আমরা কি করুম।

জামাল মিয়া বলেন, দুই বছর অয় আমি নয়া বাড়ী করছি। কত কষ্ট কইরা বাড়ি করছি এহন বাড়ীডাও ভাইঙ্গা যাবার নিছে। আমার দশ কাঠা জমির বগেুনের ক্ষেত ভাইঙ্গা নদীয়ে নিছেগা।

জমেলা বেওয়া জানান, আমরা গরীব মানুষ। আমাগোরে ৫ কাডা জমি আছিল। এই জমিডাও নদী নিতাছে গা। আমরা এহন কি কইরা খামু।

চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: আকবর আলী জানান, নদী ভেঙ্গে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা নদী গর্ভে চলে গেছে। এখন অসহায় এলাকাবাসীকে সরকারীভাবে ব্যবস্থা না করলে, ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো যাবে না। আমি সরকারের কাছে দাবী জানাই, এখানে ভাঙ্গন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশীদ বলেন, আমি ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছি। দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করে এখানে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বলেছি। আমি নিজেও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।

ডেইলিরূপান্তর/আরএ

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ