রাব্বি উদ্ভাসিত হতে চান আবার…

২০০৮ সালে গ্রামীণফোন পেসার হান্টের টপ সিক্সে থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটের মর্যাদার আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে আসা। দীর্ঘ সাত বছর খেলেছেন প্রিমিয়ার লিগে। মাঝে একবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে দলে ডাক পেলেও লাইন লেংন্থ টিক রেখে নিখুঁত জায়গায় বলা করে যাওয়া পেসার রাব্বির জায়গা ছিল দলের সাথে গ্রুপ ফটো সেশন পর্যন্তই। তাই বলে কি ধমে যাওয়ার পাত্র কামরুল ইসলাম রাব্বি?

‘হারিয়ে যেও না ফুরিয়ে যেও না আমার আগামী গানের ভাষা
এখনও শরীরের পরতে পরতে উতরোল উতরোল জীবন পিপাসা…’

কবির সুমনের এই গানের লাইনের মতোই রাব্বি হারিয়ে যেতে চান নি। বারবার লড়াই করেছেন বাংলাদেশের জার্সি পরে বিশ্ব মাতাতে। কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যাবসায়ের ফলশ্রুতিতে ঢাকার মরা উইকেট গুলোতে তিনি গতির ঝড় দেখিয়েছেন, সুইং আর ভেরিয়েশন দিয়ে কাবু করেছেন দেশসেরা ব্যাটসম্যানদের। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জাতীয় দলের দরজা খুলে দেয়া নিয়মিত পারফর্মার রাব্বির জন্য। এরপর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে সাতটি টেস্ট খেলেছেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। জাতীয় দলে খুব একটা আশা জাগানিয়া পারফর্ম্যান্স না থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে রাব্বি অপ্রতিরোধ্য।

জাতীয় দল ও ঘরোয়া ক্রিকেট মিলিয়ে তেরো বছরের ক্যারিয়ার যুদ্ধ আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে কামরুল ইসলাম রাব্বির মুখোমুখি হয়েছিলো ডেইলি রূপান্তর । সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাইফ হাদি

– একে একে দীর্ঘ সাত বছর যুদ্ধ করেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। অতঃপর সেই কাঙ্ক্ষিত জার্সিটি গায়ে জড়িয়েছেন। এর ভেতরের জার্নি টা কেমন ছিল?

রাব্বি: সাত বছর আগে (অভিষেক) আমি যখন প্রথম খেলা শুরু করি তখন অনেক ‘রোমাঞ্চিত’ ছিলাম। মনে মনে চিন্তা করতাম যে, জাতীয় দলে খেলবো, ভালো পারফর্ম করবো, অনেক নামি-দামী খেলোয়াড় হবো। তবে, একটা পর্যায়ে এসে বুঝলাম যে, জাতীয় দলে প্রবেশ এতো সহজ নয়। এখানে অনেক সময় পার করতে হবে। তারপর অনেক জায়গায় পারফর্ম করতে থাকলাম, ভালো খেলতে থাকলাম এবং তখন মনে হতো যে, আমি হয়তো জাতীয় দলের অনেক কাছে চলে আসছি। বিভিন্ন রকমের ইনজুরি, বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কারণে সাত বছর পরেই অভিষেক হলো। অনেক কষ্ট করছি, অনেক পরিশ্রম করছি তারপর ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফর্ম করছি। এর মধ্যে আবার এক বছর ইনজুরিতে ছিলাম। সব মিলিয়ে এই জার্নি আমার জন্য ছিল প্রায় পাঁচমিশালি ধরণের। তবে অভিষেকের দিনটায় খুব বেশি আনন্দিত ছিলাম যে, যাই হোক আমি জাতীয় দলে আমার নাম লেখাচ্ছি।

– টেস্ট ক্রিকেটের মাধ্যমেই জাতীয় দলে পা রাখলেন আপনি। ওয়ানডে বা টি-২০ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হোক, নিজের এরকম কোন ইচ্ছে ছিল কি?

রাব্বি: আমি সবসময় ভাবতাম যে, টেস্ট ক্রিকেট থেকেই আমার অভিষেক হবে। সাদা ড্রেসেই শুরু হবে এমনটাই আমার মনে হতো। তবে, আমার খুবই ইচ্ছে ছিলো যে, আমি লাল-সবুজের রঙিন জার্সি গায়ে দিয়েই শুরুটা করবো। এখনো আমি কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি, ভালো করে খেলে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ আমার এই ইচ্ছাটাও একদিন পূরণ করবেন।

– প্রথমবার যখন দেশের জার্সিটা গায়ে জড়িয়েছিলেন, সেই সময়ের অনুভূতি কেমন ছিলো?

রাব্বি: (তৃপ্তির দীর্ঘশ্বাস)প্রথম যখন টেস্ট ক্রিকেটের সাদা জার্সিটা গায়ে জড়িয়েছিলাম, সেই সময়ের অনুভূতিটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। তবে, মাঠে নামার পর আমি কি করছি না করছি সেটা মাথায় ছিল না। আমি ভালো বোলিং করবো, ব্যাটিং করবো মোট কথা নিজের পারফর্ম নিয়ে খুব বেশি চিন্তায় ছিলাম।

– শুরুর দিকে আপনাকে টেস্ট ফরম্যাটের জন্য বিবেচনা করা হতো। কিন্তু, বর্তমান সময়ে আপনি সীমিত ওভারের ম্যাচগুলোতে দারুণ পারফর্ম করে যাচ্ছেন। রঙিন পোষাকের ক্রিকেটে কি অভিষেকের জন্য মুখিয়ে আছেন?

রাব্বিঃ আলহামদুলিল্লাহ, টেস্ট ক্রিকেটের মাধ্যমে অভিষেক হওয়াটা অনেক বড় ব্যাপার। টেস্ট ক্রিকেট দিয়েই অভিষেক হউক এটা সব ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে। আমার অভিষেকটা টেস্টে হয়েছে এজন্য আমি আল্লাহ পাকের কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি এবং আমাকে যারা সুযোগ করে দিয়েছেন তাদের কাছে অনেক কৃতজ্ঞ। হ্যাঁ, রঙিন পোষাকে এখন ভালো খেলতেছি। আমার যদি অভিষেক হয় তাহলে আমি চেষ্টা করবো যাতে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করতে পারি এবং বেশ লম্বা সময় ধরে যেন জাতীয় দলকে সার্ভিস দিতে পারি। অবশ্যই, রঙিন পোষাকে খেলার ইচ্ছেটা আছে, এবার দেখা যাক আল্লাহ কি করেন।

– টানা দুটি টুর্ণামেন্টে দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্স করেছেন এরপরেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডাকা হয় নি। ভালো পারফর্ম করে ডাক না পেলে আক্ষেপটা কি কাজ করে?

রাব্বিঃ প্রত্যেকটা টুর্ণামেন্টেই ভালো খেলতেছি বা ভালো পারফর্ম্যান্স হচ্ছে। আমি চাই প্রত্যেকটা টুর্ণামেন্টে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করতে ভালো খেলতে। দেখেন আমার কাজ হচ্ছে ধারাবাহিক পারফর্ম করা। জাতীয় দলে তো সবাই খেলতে চায়, সবারই ইচ্ছে থাকে জাতীয় দলের হয়ে খেলার। তবে এটা তো আমার হাতে নাই, যারা সিলেকশন কমিটিতে যারা আছেন তারা দেখবেন। আক্ষেপ বা মন খারাপ হয় যে, আমার কেন হচ্ছে না। তবে যদি সুযোগ পাই তাহলে ভালো খেলবো ইনশাআল্লাহ।

– বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও বেশ ভালো করছেন। ব্যাটিং নিয়ে কি আলাদা কাজ করা হচ্ছে?

রাব্বিঃ হ্যাঁ, আমি যখন জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে খেলেছি তখনও কিন্তু আমি বেশ লম্বা সময় উইকেটে থাকতে পারতাম। ব্যাটিং নিয়ে এখনো কাজ করে যাচ্ছি, যাতে যখনই দলের প্রয়োজন হবে আমি যেন আমার শতভাগটা দিতে পারি। বোলিংয়ের পাশাপাশি অবশ্যই ব্যাটিং নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এবং ব্যাটিংয়ে আগের থেকে অনেক উন্নতিও হয়েছে। আসলে দেখেন, মাঠের বাইরে আমি ব্যাটিং বা বোলিং নিয়ে যেই কষ্ট করে যাচ্ছি সেটা যখন আমি মাঠের খেলার শতভাগ দেখাতে পারবো তখন ফল আসবে। ব্যাটিংয়ে এই সিজনটা অনেক ভালো গিয়েছে আর এটার ধারাবাহিকতাই আমি রাখতে চাই, ইনশাআল্লাহ।

– ক্রিকেটের কিংবা ক্রিকেটের বাইরে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

রাব্বিঃ আপাতত আমার সব পরিকল্পনা ক্রিকেটকে ঘিরেই। আরো বেশকিছু দিন খেলাটা চালিয়ে যেতে চাই সেই লক্ষ্যে হার্ডওয়ার্ক করছি, নিয়মিত জিম করছি, ডিসিপ্লেন লাইফ চালিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ ভাবে ফিটনেসের উপর বেশ জোর দিয়েছি। কারণ, ফিটনেস যতো ভালো রাখতে পারবো তত বেশি দিন খেলা চালিয়ে যেতে পারবো। আপাতত ক্রিকেট নিয়ে ভাবছি, যাতে কমপক্ষে আরো ৬/৭ বছর ক্রিকেট চালিয়ে যেতে পারি। এছাড়া পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত আছি, পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশনটা শেষের দিকে। পড়াশোনাটা শেষ হলে পরে ভাববো আসলে ক্রিকেটের পরে কি করা যায়। আপাতত ক্রিকেট এবং পড়াশোনার বাইরে আর তেমন কিছু ভাবছি না।

 

 

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএফ/এইচ.

  • 4.9K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ