প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ৫৬ টি ঘর পানিতে ভাসছে : আশ্রিতারা দুর্ভোগ

সারা দেশে গৃহহীন-ভূমিহীনদের মতো বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘর পেয়েছেন কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের ৫৬ টি পরিবার। টানা ভারি বর্ষণে বৃষ্টির পানি জমে নিচু জায়গায় নির্মিত ঘরগুলো প্লাবিত হয়েছে। ঘরগুলোর চারপাশে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অসহায় ভুমিহীন এসব মানুষ।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রধান মন্ত্রীর উপহারের ঘরগুলো বিলের মাঝখানে ও বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় ৫-৬ ফুট নিচু জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই সেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে সর্বত্র বৃষ্টির পানিতে সয়লাব। নাফনদী সীমান্তের বেড়িবাঁধের স্লুইসগেট গুলো বন্ধ থাকার কারণে পানি কোথাও সরে যেতে পারছে না। এতে করেঘরে ঢুকে পড়েছে পানি। ঘরে ঢুকে পড়া পানির দুর্ভোগের সঙ্গে সাপ, পোকা-মাকড়ের ভয়ে রাত কাটাচ্ছেন এই অসহায় মানুষগুলো। পানি বন্দী হয়ে কেউ কেউ আত্মীয় স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের বাসিন্দারা।

টেকনাফ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,
দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের অর্থায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে প্রথম পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্য নির্মিত টেকনাফ উপজেলায় ৮০টি ঘর ভুমিহীনদের মাঝে বিতরণ করা হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ৮০টি ঘরের মধ্যে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার থেকে পূর্ব দিকে দেড় কিলোমিটার ভেতরে সীমান্ত সড়কের কাছাকাছি ২৮টি এবং ওয়াবরাংয়ে ২৮টিসহ ৫৬টি ঘরের বাসিন্দারা এখন পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি বেড়িবাঁধের স্লুইসগেট বন্ধ রাখায় পানি সরতে না পেরে সর্বত্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
সৈয়দ আলম ওরফে লালু নামে একজন সুবিধাভোগী বলেন, তার কোনো জমি-জমা নেই।
প্রধানমন্ত্রী তাকে ঘর করে দিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের লোকজন এমন এক জায়গায় ঘর তৈরি করে দিয়েছেন যেখানে অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে এবং ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে।
লালু অভিযোগ করে আরও বলেন, এই এলাকার স্থানীয় একটি চক্র সীমান্তের বেড়িবাঁধের স্লুইসগেট বন্ধ রাখেছে। এতে আমরা পানিবন্দী হয়েছি। এই ঘরই আমাদের একমাত্র সম্বল। বৃষ্টির পানি নেমে গেলে আমরা সবাই আবার ঘরে ফিরে যাবো। ঘরগুলো পানিতে ভাসার কারণে গত তিনদিন চুলাও জ্বালাতে পারিনি তারা।

প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এর অদূরদর্শিতায় নিচু জায়গায় ঘরগুলো তৈরি এবং স্লুইসগেট গুলো বন্ধ রাখার কারণেই এই দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হ্নীলা ইউনিয়নের আবুল কালাম, মো. সাবের, সৈয়দুল আমিন ও হোসেন বলিসহ লবণ চাষিদের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সড়কের বেড়িবাঁধের স্লুইসগেট বন্ধ রেখেছে। ফলে টানা বৃষ্টিতে এলাকাটি পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েকজন অসাধু লবণ চাষির জন্য তাদের পুরো এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ তারা।

বর্তমানে হ্নীলা ইউনিয়নে ওই এলাকার পাঁচ শতাধিক মানুষ পানিবন্দি দিন কাটাচ্ছে। সেখানে সুপেয় পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সংকট দেখা দিয়েছে।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, ‘বেড়িবাঁধের স্লুইসগেটের অভাবে এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘরও রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত কমলে জমে থাকা পানিগুলো নিচে নেমে যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরগুলো ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছেন উল্লেখ করে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন ‘সীমান্ত সড়কে বেড়িবাঁধের স্লুইসগেটের যে সমস্যা হয়েছে, তা সমাধানের কাজ চলছে। আর কারা স্লুইসগেট গুলো বন্ধ রেখেছে তা খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রবল বর্ষণে যে সব পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদেরকে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক আর্থিক সহযোগীতা করে হচ্ছে এবং এই সহযোগীতা অব্যাহত থাকবে।

ডেইলিরূপান্তর/আরএ

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ