ওসমানীনগরে মসজিদের কাঁঠাল নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা

সিলেটের ওসমানীনগরে মসজিদের কাঁঠাল নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনার ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষ ওসমানীনগর থানায় পাল্টা-পাল্টি মামলা করেছে। দুটি মামলায় আসামি দেখানো হয়ে মোট ৪৫ জনকে। ঘটনার পর থেকে এলাকা পুরুষ শূন্য রয়েছে।

গত শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের কামালপুর বাইতুল মামুর জামে মসজিদে একটি কাঁঠালের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামকে কেন্দ্র করে ওসমানীনগর উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি ও হেফাজত নেতা মাওলানা সুয়েব ও উমরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাওছার আহমদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয় মসজিদ অঙ্গন ও আশপাশের এলাকা। দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিসহ একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১৪ জন আহত হন। খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় শনিবার গভীর রাতে উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দিলে পাল্টাপাল্টি মামলা দুটো রেকর্ড করা হয়।

রোববার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেটের এডিশনাল এসপি (ওসমানীনগর সার্কেল) মো. রফিকুল ইসলাম।

এ সময় ওসমানীনগর থানার ওসি শ্যামল বণিক, দুটি মামলার ইনভেস্টিগেশনের দায়িত্বে থাকা ওসি (তদন্ত) মাছুদুল আমিন ও এসআই স্বাধীন চন্দ্র তালুকদার তার সঙ্গে ছিলেন। এক পক্ষের মামলার বাদী সাইফুল আলম শ্যামল বলেন- আমার আব্বা, চাচারা জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলেন। নামাজ শেষে বৃষ্টি থাকায় সবাই মসজিদে আটকা পড়েন। এরপর কাঁঠালের নিলামকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জেরে বিবাদীরা মসজিদে ঢুকে আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। বিবাদীদের এই হামলা আমরা পূর্বপরিকল্পিত হিসাবেই মনে করছি।

মামলার বিবাদী উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল আহমদ বলেন, সংঘর্ষের সময় আমি উভয়পক্ষকে সামলানোর চেষ্টা করছিলাম। এ সময় একজন আমার মাথায় আঘাত করলে আমি তার হাত থেকে লাঠি কেড়ে নেই। ভিডিও চিত্রে সেই লাঠিসহ আমায় দেখানো হয়েছে। বিবাদীদের হামলায় আমাদের বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত হয়েছেন।

ওসমানীনগর থানার ওসি শ্যামল বণিক বলেন, মসজিদে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় উভয় অভিযোগ মামলা আকারে নিয়ে আসামি ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অধিকতর তদন্ত করে উভয় মামলার চার্জশিট প্রদান করা হবে।

 

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএফ/জে.

  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ