‘অনলাইন গণমাধ্যম মেইনস্ট্রীম মিডিয়ায় পরিণত হচ্ছে’

মানুষ এখন আর অযথা সময় নষ্ট করে টেলিভিশন দেখতে চায় না, রেডিও শুনতে চায় না। মুদ্রিত খবরের কাগজের প্রতি দিন দিন আগ্রহ হারাচ্ছে। পাঠক, শ্রোতা ও দর্শকদের চাহিদা সেখানে পূরণ হচ্ছে না। এ সময়ে সংবাদের জন্য মানুষের পছন্দসই ও ভরসাস্থল হল অনলাইন গণমাধ্যম।

বিশ্বব্যাপী অনলাইন নিউজ মিডিয়া এখন শক্তিশালী, প্রভাবশালী, ক্ষমতাবান, মর্যাদাপূর্ণ ও সর্বাধুনিক গণমাধ্যম। এটি এখন জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম। ক্রমশঃ মেইনস্ট্রীম মিডিয়ায় পরিণত হচ্ছে। আগামী দিনে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে নেতৃত্ব দিবে ও রাজত্ব করবে অনলাইন গণমাধ্যম।

Online will be king. এটি এক চরম বাস্তবতা। বিজ্ঞান ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলে নিউ মিডিয়া খ্যাত অনলাইন গণমাধ্যমের উৎপত্তি। ২০৫০ সালের মধ্যেই আরো অনেক কিছু আবিষ্কার হবে। টাইম ম্যাগাজিনে সেগুলো প্রকাশিত হয়েছে অনেক আগেই। বিজ্ঞানীরা নিরন্তর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও ডিজিটালাইজেশনের এ যুগে বিশ্ব আজ হাতের মুঠোয়। সংবাদ এখন মানুষের দোরগোড়ায়। মানুষ এখন আর সংবাদের জন্য বসে থাকতে চায় না।

পৃথিবীতে এক সময় প্রিন্ট মিডিয়া খ্যাত সংবাদ পত্র দাপিয়ে বেরিয়েছে। রেডিও আবিষ্কারের পর তা কিছুটা হোচট খায়। স্যাটেলাইট ভিত্তিক টেলিভিশন চালু হওয়ার পর খবরের কাগজ ও রেডিও এর যৌবন তীব্র ভাবে ঝাঁকুনি খেয়েছে।ইন্টারনেট ভিত্তিক অনলাইন গণমাধ্যম (নিউজপোর্টাল, রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদ সংস্থা) এর উৎপত্তির পর পূর্বাপর মিডিয়াগুলো অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে।

যুগে যুগে জনগণের জন্য জনগণের স্বার্থ উন্নয়নে যে সকল মিডিয়া যথাযথ ভূমিকা রাখবে সেটিই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। বিকাশমান অনলাইন গণমাধ্যম সেটি পূরণ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেরও প্রভাব বিস্তার কম নয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অনলাইন গণমাধ্যম অনবদ্য ভূমিকা রাখছে। সরকারী চাকরিজীবীগণ তা মাঝে মাঝে ভূলে যান। মনে রাখতে হবে, সরকারী চাকরিজীবী রাষ্ট্রের কর্মচারী (public servant),মালিক নয়। জনগণের সেবা করাই তাদের মূল দায়িত্ব।

সারা পৃথিবীতে আজ অনলাইন মিডিয়ার জয়-জয়কার চলছে। সাংবাদিকতা কিংবা গণযোগাযোগে নিত্য নতুন বাহনের পরিবর্তন ঘটলেও এর মৌলিক নীতিমালা চিরকাল এক ও অভিন্ন। জয় হবে অনলাইন গণমাধ্যমের। ট্রেডিশনাল মিডিয়াগুলো (প্রিন্ট,ইলেকট্রনিক) ধরাশায়ী হচ্ছে নিউ মিডিয়াগুলোর (অনলাইন নিউজ মিডিয়া, মোবাইল, ইন্টারনেট ও সোস্যাল মিডিয়া) কাছে। আমি প্রিন্ট মিডিয়ার একজন শিক্ষার্থী। আঞ্চলিক স্থানীয় একটি দৈনিকের নির্বাহী সম্পাদক ও একটি জাতীয় দৈনিকের ব্যুরো প্রধান হয়েও এটি স্বীকার করছি অনলাইনের পাল্লা অনেক ভারী।

ফেসবুক কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোন একটি প্লাটফর্মে কিছু বললে বা লিখলে অথবা আধুনিক মোবাইল ফোন বা যে কোন ধরনের ক্যামেরা ব্যবহার করে তা দিয়ে ছবি উঠালেই সাংবাদিক হওয়া যায় না।

সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মী হতে হলে প্রয়োজনীয় জ্ঞান, পেশাগত প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুশীলনসহ যে কোন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিস কাল অতিক্রান্ত করতে হয়।
প্রতিটি পেশাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানজনক। এবং প্রতিটি পেশার নিজস্ব কিছু নিয়ম -কানুন, বিধি-বিধান, পেশাগত আচরণবিধি, আলাদা বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা আছে। সাংবাদিকতাও এর বাইরে কিছু নয়।

বর্তমান যুগ অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগ। ইন্টারনেটের বদৌলতে অনলাইন, ডিজিটালাইজেশন, আইসিটি এ সময়ের চরম বাস্তবতা। আপনি সোস্যাল মিডিয়ায়, ব্লগ সাইটে লিখুন, কথা বলুন, ডিভাইস ব্যবহার করে ছবি তুলুন, ভিডিও আপলোড করুন। সমস্যা নেই। এটা আপনার বাকস্বাধীনতা। ফান্ডামেন্টাল রাইটস। কিন্তু সাংবাদিক না হয়ে নিজেকে সাংবাদিক দাবী করছেন কেন? বরঞ্চ আপনি নিজেকে লেখক, ব্লগার, অনলাইন সোস্যাল এক্টিভিস্ট বা আলোকচিত্রী পরিচয়ে অভিষিক্ত করুন। অনেক অনেক সম্মান বয়ে আনবে।

দুনিয়ার সব মানুষই খবর ও খবর আদান-প্রদানের সাথে জড়িত। ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পর্যায় পর্যন্ত মানুষই সংবাদের সোর্স হিসেবে কাজ করছে। আপনি যে বা যারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করছেন ঠিক তদ্রূপ আপনিও সাংবাদিক কিংবা গণমাধ্যমের সোর্স।

আমরা জানি, অসম্পাদিত কোন প্লাটফর্ম গণমাধ্যম নয়। আমাদের এ কথা ভালভাবে বুঝতে হবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্পাদিত কোন প্লাটফর্ম নয়। এখানে কোন সম্পাদক নেই। তথ্য বা সংবাদের ফাইল/কপি এডিটিং হয় না। সত্যতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা, সংবাদ মূল্য ও বস্তুনিষ্ঠতা যাচাইয়ের সুযোগ নেই। এ কাজগুলো গণমাধ্যম করে থাকে। সাংবাদিকরা করে থাকেন। আপনি তো এ কাজ করছেন না। তবে আপনি সোর্স বা সুত্র হিসাবে কাজ করছেন। সন্দেহ নাই।

পৃথিবীতে এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লব চলছে। বিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতি ও অব্যাহত অগ্রযাত্রার ফলে সভ্যতা অনেক দুর এগিয়ে গেছে। বলা হচ্ছে এখন সিটিজেন জার্নালিজম এর যুগ। অনলাইন গণমাধ্যমের জয় জয়কার চলছে। বিশ্বের সর্বাধুনিক, শক্তিশালী ও জনপ্রিয় গণমাধ্যম অনলাইন মিডিয়া। ইট উইল বি কিং। আর সাংবাদিকতা হল সবচেয়ে ক্ষমতাবান,মর্যাদাপূর্ণ ও মহৎ একটি পেশা।

প্রসংগ ক্রমে কথা বলতেই হয় আপনি যদি শুধুমাত্র ফেসবুকে কিছু লিখেই নিজেকে সিটিজেন জার্নালিস্ট ভেবে থাকেন। তাহলে ভুলের মধ্যেই আছেন। সিটিজেন কিংবা পার্সোনাল জার্নালিজমেরও প্রথাগত কিছু নিয়ম আছে। দেখুন ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্টরা কিভাবে কাজ করে। তারা গণমাধ্যমের সাথে সম্পর্ক রেখেই সাংবাদিকতার চিরাচরিত নিয়ম অনুসরণ করেই কাজ করছেন। টাইপিং মিস্টেক, ফ্রন্ট সমস্যা, উচ্চারণ সম্পর্কিত নানা জটিলতা থাকলেও সাধারণ শব্দাবলীর প্রতিনিয়ত বানান ভুল মেনে নেয়া কষ্টকর। ১৫ লাইনের প্রেসরিলিজে ৩০ টি বানান ভুল, এটা কোন ধরনের সাংবাদিকতা? সাংবাদিক হতে হলে ভালো পড়াশোনাও করা
লাগে।

এ কথা মনে রাখতে হবে যুগে যুগে প্লাটফর্ম পরিবর্তন হচ্ছে। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক (সাউন্ড ও মোশন) আর এখন অনলাইন মিডিয়া। এভাবে সময়ে সময়ে রূপের পরিবর্তন হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে বাহনের চিত্র পাল্টাচ্ছে। কিন্তু সাংবাদিকতার মৌলিকত্ব বা বিশেষত্ব হারিয়ে যায় নি। যে মিডিয়া বা যে ধরনের গণমাধ্যমে কাজ করেন না কেন, সাংবাদিকতার বুনিয়াদি মৌলনীতি সকল জায়গায় সকল সময়ে এক ও অভিন্ন।

সাংবাদিকতার পাঠ ভিন্ন ভিন্ন প্লাটফর্মে উপস্থাপনা, কলা কৌশল ও রচনারীতিতে কিছুটা বৈসাদৃশ্য থাকলেও মূল বিষয় তথা সাংবাদিকতার মৌলিক ধারণার ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য নেই।

আতংক ছড়ানো, গুজব মিডিয়ার কাজ নয়। সাংবাদিক তিনিই যিনি সংবাদ বিশারদ। সমাজে ভয় ছড়ানো, ভীতিকর পরিবেশ তৈরী কিংবা মুখরোচক কোন কিছুই মিডিয়ার কাজ নয়। মিডিয়া সত্যতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা ও সংবাদমূল্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ ও পক্ষপাতহীন হয়ে সংবাদ পরিবেশন করবে।

আমরা যা পাই তা দেখাই, এটা কোন সাংবাদিকতা নয়। অনেকটাই ক্রিমিনাল অফেন্স(ফৌজদারি অপরাধ)।

অবশ্যই সাংবাদিক Obaidullah Bin F Rahman এর মন্তব্য যৌক্তিক ও সময়োপযোগী, “বসুন্ধরা এমডিকে নিয়ে দেশের মিডিয়া যা দেখালো আর পরিমনিকে যে কায়দায় কাভারেজ দিল এর পর মিডিয়ার গ্রহনযোগ্যতা আর বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে কিছু বলার নেই। হ্যাঁ, ভেদভেদা টিভি গুলো পাবলিকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অতিষ্ঠ করে ফেলে, তবে এরাই মাঝে মধ্যে বেশ কঠিন কঠিন বাস্তব সত্য তুলে ধরে দেশ ও দশের পক্ষে। তথাকথিত মেইনস্ট্রিম মিডিয়া যখন দলকানা মালিককানা ভুমিকায় তখন সোস্যাল মিডিয়াকেই জনগণ গুরুত্ব দেওয়া স্বাভাবিক।।”

মিডিয়ার প্রথম সারির হাউজগুলোও অনেক সত্যতার মাঝেও তিলকে তাল করে, নয়কে ছয় করে ,সত্যকে অসত্য আর অসত্যকে সত্য করে ঠিক তেমনি সোস্যাল মিডিয়াও অনেক ভেজাল আর উপদ্রবের মধ্যেও সত্যকে শুধু ফুটিয়ে তোলে না, বাঁচিয়েও রাখে।

এখন সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন সংবাদ কি, কোনটি সংবাদ আর কোনটি সংবাদ নয়, কোনটি প্রকাশ উপযোগী, কোনটি কতটুকু লাইভ করা যাবে, সংবাদ নিশ্চিতকরণের উপায় কি, সংবাদ আকর্ষণের উপাদান, সংবাদের উপাদান, সংবাদ ধারণা, সংবাদ কাঠামো, সংবাদ পরিবেশন, সংবাদ রচনার বিশেষ দিক, সংবাদ সম্পাদনা, সংবাদের মানদন্ড, সংবাদের কাজ, সংবাদের বৈশিষ্ট্য, গণমাধ্যম কিংবা সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য, দায়িত্ব, প্রকৃতি ও পরিধি এবং এর কার্যাবলীসহ ইত্যাদি বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সম্যক ধারণা অর্জন করা।

সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা কি ও কেন, সাংবাদিকের অধিকার, গুণাবলী, দায়িত্ব ও কর্তব্য, সাংবাদিকের নৈতিকতা, সাংবাদিকতার নীতিমালা, সাংবাদিকতার লক্ষ্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা, সংবাদের মূল উপাদান সত্যতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সংবাদমূল্য, সংবাদ বিচার্যের ইন্ডিকেটর, সংবাদমূল্য নিরূপণের শর্ত, সংবাদের মানদন্ড, সংবাদের মূলনীতি সত্যতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা ও পক্ষপাতহীনতা, প্রতিবেদন রচনায় বস্তুনিষ্ঠতা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে। জানতে হবে নিজের পরিচয় ও পেশা সংক্রান্ত নূ্নতম বিষয়সমুহ।

পেশাদার সাংবাদিকরা অনলাইন গণমাধ্যমের নেতৃত্বে আসতে বাঁধা কোথায়? পেশাদার সাংবাদিকগণ পেশা নিয়ে বেঁচে থাকুক, কিন্তু অনলাইন গণমাধ্যমের বিরোধিতা করে নয়। অনলাইন গণমাধ্যম বিজ্ঞানের আশীর্বাদ। এটি বিকাশমান ধারা। এটি কে হেয় করে প্রযুক্তির ধাবমান অগ্রযাত্রাকে ঠেকানো যাবে না। এটিকে গ্রহণ করে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পেশাদার সাংবাদিকদের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। লেখাপড়া না জানা, কম শিক্ষিত ও অদক্ষ লোকজন সব জায়গাতেই আছে। এদের ব্যাপারে প্রত্যেকেই স্ব স্ব অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। উকিলদের বার কাউন্সিল আছে, চিকিৎসকদের বিএমডিসি আছে কিন্তু সাংবাদিকদের এরকম কিছু নেই।

এজন্য প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন ও প্রেস কমিউনিটি কে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।
হাহা। এ ধরনের লোকজন সব জায়গায় আছে। এদেরকে দিয়ে কোন প্লাটফর্মকে চিত্রায়িত করা ঠিক না।

আর আমরা যারা আছি হুট করে অনলাইন একটি প্রতিষ্ঠা করেই সাংবাদিক হই নি। এই যে বিড়ম্বনা এ থেকে মুক্তি পেতে সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু প্রিন্ট মিডিয়ার বন্ধুদের সহনশীল আরো হতে হবে। সুবিধা নিতে অনলাইন আর বিরোধিতা সবার আগে এ নীতি ভাল নয়। কয়েকদিন আগে সিলেটের প্রথম শ্রেনীর ছাপার কাগজের জনৈক সাংবাদিক একটি বিশ বাক্যের প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বিশটি বানান ভূল করেছেন। এটি তো আর প্রিন্টিং মিসটেক নয়। এটা দূর্বলতা কিংবা অজ্ঞতা। তাই বলে গোটা প্রিন্ট মিডিয়াকে তো আর হেয় করতে পারি না আমরা। এই যে অযোগ্য, অদক্ষ, অশিক্ষিত লোক সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে। সচিবালয় থেকে প্রাইমারী স্কুল পর্যন্ত। এদেরকে দিয়ে সম্ভাবনাময় যুগোপযোগী কোন প্লাটফর্মকে বিকলাঙ্গ করা যায় না। বিকশিত করতে দিন। জনগণ ও দেশ উপকৃত হবে।

আশার দিক হলো অনেক উচ্চ শিক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণরা এদিকে ধাবিত হচ্ছে। সাংবাদিকতা কে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বাস্তবতা কে ওয়েল রিসিভ করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু হিংসা বা বিরোধিতা কাম্য নয়।

আর হ্যাঁ, অনলাইন গণমাধ্যমেও উচ্চ শিক্ষিত তরুণরাও এগিয়ে আসছে। অস্বীকার করার উপায় নেই। আর অনেকেই প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পাশাপাশি এখানে কাজ করছেন। রাষ্ট্রকে সুযোগ দিতে হবে আইন প্রতিষ্ঠার জন্য। সব ঠিক হবে, সময়সাপেক্ষ। এদেশে ইংরেজরাই সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন ও রেজিস্ট্রেশন এর আওতায় আনার প্রক্রিয়া প্রথম শুরু করেছিল। তখন সাংবাদিকরা সেটিকে কালো আইন বলেছিল। আজকে সেটি রক্ষা কবচ। সব কিছুতেই সময় লাগে। সহনশীল মনোভাবের মধ্যেই কল্যাণ।

অনেকেই বলেন, এখন তো প্রিন্ট মি‌ডিয়া বা ই‌লেট্র‌নিক মি‌ডিয়ায় আ‌ন্দোলন বা বস্ত‌নিষ্ট খবর প্রচা‌রে কিছুটা ভাটাভাটা ভাব র‌য়ে‌ছে। সে ক্ষে‌ত্রে মানু‌ষের ভরসার জায়গা দখল ক‌রে নি‌চ্ছে অনলাইন মাধ্যম। আমরা অনলাইন মাধ্য‌মের উজ্জল সম্ভাবনা লক্ষ কর‌ছি। অনলাইন ইতিমধ্যে জনপ্রিয়, ভবিষ্যতে তা একচেটিয়া ভাবে মানুষের সকল তথ্য ও চিত্র তুলে ধরবে।

আমেরিকায় এক সময় বিচারক নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা হয়েছিল। তখন বাবুর্চি ও বিচারক হয়েছিল। গণতন্ত্রের হাল তারা ছেড়ে দেয় নি। কালক্রমে বিকশিত গণতন্ত্র পাক্কা গণতন্ত্র হয়েছে। আমি যেটা বলছি সারা দুনিয়ার কথা বলছি। বাংলাদেশে যদিও অনলাইন গণমাধ্যম বিকাশমান ধারা। কিন্তু পৃথিবীবাসী এর সুফল পাচ্ছে। অস্বীকার করার উপায় নেই। অনলাইন বলেন আর প্রিন্ট বলেন আর টিভি বলেন সব জায়গায়ই ব্যক্তি বিশেষের দূর্বলতা থাকতেই পারে। এটা দিয়ে সামগ্রিক কোন প্লাটফর্ম কে দোষারোপ করা জ্ঞানবানদের কাজ নয়।

তবে এটাও সত্য অনলাইন পোর্টালে এমন এমন লোকজন নিউজের দায়িত্বে নিয়োজিত যাদের মানহীন নিউজ অনলাইন মিডিয়াকে হাসির পাত্রে পরিনত করে ফেলছে।

মূলধারার মিডিয়া বা মূলধারার গণমাধ্যম হল একটি শব্দ এবং সংক্ষেপণ যা বহু লোককে প্রভাবিত করে বৃহৎ গণ সংবাদমাধ্যমকে সম্মিলিতভাবে উল্লেখ করতে ব্যবহৃত হয় এবং চিন্তার প্রচলিত স্রোতের প্রতিফলিত ঘটায়।

এটি বিকল্প ধারার মাধ্যমের বিপরীতে ব্যবহার হয় যাতে মুলধারার উৎসের মতভিন্নতার সাথে আরো মতবিরোধ তথ্যসহ চিন্তার সামগ্রী বেরিয়ে আসে।

এ শব্দটি প্রায়শ: সংবাদপত্র ও সম্প্রচার মিডিয়া সহ বৃহৎ গণ সংবাদসংস্থা গুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাবে সংজ্ঞায়িত হয়। কথোপকথনে এ শব্দটি বিরোধ সৃষ্টি করে মিডিয়া মহলে।

ইন্টারনেট আবিষ্কার হওয়ার ফলে আরো বৈচিত্র্যময় হয় ও বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি জোরেশোরে প্রকাশিত হয়। মুল ধারার মিডিয়া শব্দটি মর্যাদাহানিকর হচ্ছে কখনো কখনো। ল্যমস্ট্রীম মিডিয়াও একটি বিকল্প ছদ্মবেশী দৃষ্টিভঙ্গি।

যেখানে ভূলভাল সংবাদ প্রকাশিত হয়।একটি শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া তখনই পঙ্গু হবে যখন ইহা নৈতিকতা বাদ দিয়ে অপসাংবাদিকতা করবে। একটি নিউ মিডিয়া তখনই মুলধারার মিডিয়া হবে যখন ইহা জনগণের উপর জনসমাজে বিশাল প্রভাব বিস্তার করবে। ভেবে দেখুন।

বাংলাদেশে মূলধারার গণমাধ্যম বলে এই সময়ে কিছু নেই, অনলাইন ও সামাজিক যোগাোগ মাধ্যমই এখন মুখ্য, অন্যরা সব গৌণ।একথাও সত্য ফেসবুক ইউটিউব এসবের মাধ্যমে রেভ্যুলেশনও হতে পারে কিন্তু তা পত্রিকা টেলিভিশনের বিকল্প নয়।

একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক লিখেছেন, সাংবাদিকতার ব্যবসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুইটা এলিমেন্ট হলো আই বলস (পাঠক/দর্শকের সংখ্যা) এবং এড ডলারস (বিজ্ঞাপনের টাকা)। আই বলস বিক্রি করে এড ডলারস কামানো— এখন পর্যন্ত এটাই সাংবাদিকতার সবচেয়ে ডোমিনেন্ট বিজনেস মডেল। এর বাইরে আছে সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক আর নন-প্রফিট/পাবলিক সার্ভিস বিজনেস মডেল। ইন্টারনেটের প্রসারের কারণে সাংবাদিকতার মূল বিজনেস মডেলটাই এখন একটা ক্রাইসিসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে — মানুষ এখন আর ওইভাবে পত্রিকা পড়েনা বা টিভি দেখেনা। একসময় পত্রিকার পাতায় বা টিভির স্ক্রিনে যে আই বলসগুলো থাকতো সেটা এখন চলে গেছে ফেসবুক আর ইউটিউবে। সাথে গেছে এড ডলারসও — অনলাইন বিজ্ঞাপনের নিয়ন্ত্রণ এখন গুগোল আর ফেসবুকের হাতে।

সাংবাদিকতার ব্যবসায় টিকে থাকতে হলে নতুন-পুরাতন মিডিয়া আউটলেটগুলোকে এই হিসাবটা বুঝতে হবে। পত্রিকা বা টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে নিউজ বিজনেসের দিন শেষ। এখন নিউজ বিজনেসে থাকতে হলে এড ডলারস কামাতে হবে ফেসবুক আর ইউটিউবেই। বাংলাদেশে এই স্পেসটার যে কী হিউজ পটেনশিয়াল সেটা আমরা বুঝতেছিনা।

উদাহরণ দিয়ে বলি। আল জাজিরা ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিটের “অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন” ডকুমেন্টারিটার ইংরেজি ভার্সন ইউটিউব ভিউ পাঁচ মাসে আট মিলিয়নের উপর; বিবিসি বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে “কোভিড পরবর্তী কালো, সাদা বা হলুদ ছত্রাকের সংক্রমণ কেন হয়?” শীর্ষক একটা ভিডিওর ভিউ পাঁচ দিনেই দুই লাখের উপর। এই যে বিপুল সংখ্যক আই বলস, এর মাধ্যমে কিন্তু এড ডলারস কামাচ্ছে গুগোল, সাথে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সেটার ভাগ পাচ্ছে আল জাজিরা, বিবিসি বা সময় টিভির মতো লিগ্যাসি নিউজ অর্গানাইজেশনগুলো। কিন্তু লিগ্যাসি মিডিয়ার ওভারহেড কস্ট এতো বেশি যে শুধুমাত্র ইউটিউব আর্নিং দিয়ে তারা টিকতে পারবেনা।

এইখানেই আমি নতুন জেনারেশনের ডিজিট্যাল-ন্যাটিভ নিউজ এন্টারপ্রেনারদের ক্ষেত্রে অবারিত সম্ভাবনা দেখি। পাঁচ-ছয়জনের ছোট্ট একটা টিম যদি একটা বিশেষ নিশ — শেয়ার মার্কেট, স্পোর্টস, ক্রাইম, ওয়ার্ল্ড নিউজ ইত্যাদি— নিয়ে ইউটিউব আর ফেসবুকে কন্টেন্ট প্রডিউস করতে শুরু করে তাহলে দুই- তিন বছরের মধ্যেই ব্রেক ইভেন করে একটা সাস্টেইনেবল আউটলেট দাঁড় করানো সম্ভব, যদি ইউটিউব/ফেসবুক আর্নিংয়ের সাথে ইভেন্ট, স্পনসরড কন্টেন্টের মতো রেভিনিউ স্ট্রিমগুলোও এড করা হয়।

এক্ষেত্রে ইনভেস্টমেন্ট আর ওভারহেডও থাকবে কম। বাংলাদেশে সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ভাবছেন তারা এই লাইনে একটু চিন্তা করতে পারেন।

সম্প্রতি তথ্য মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে ‘নিউ মিডিয়া’ উইং গঠন করছে। অনলাইন গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা ও সেবাদানের লক্ষে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ব্যবস্থাপনারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাথে সম্প্রসারণশীল গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যেএ ‘সোশ্যাল এন্ড নিউ মিডিয়া উইং’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়।

অসম্পাদিত প্লাটফর্ম গণমাধ্যম নয় এটিই আগেই আমরা বলেছি। ফেসবুকে লাইভ ,সোস্যাল মিডিয়া মাস মিডিয়া নয়। তবে তা গণমাধ্যমেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে এ সময়ে।পৃথিবীতে এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লব চলছে।মানুষ ও মেশিনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে প্রতিনিয়ত। এ যুদ্ধে মানুষকে জয়ী হতে হবে।বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা ও টেকসই উন্নয়নে অনলাইন গণমাধ্যম সহযাত্রী হিসেবে কাজ করছে।

একটি যৌক্তিক ও সময়োপযোগী দাবী হলো সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রী হওয়া উচিত।বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ অত্যন্ত জোর দিয়ে এ দাবিটি করে যাচ্ছেন। এটি শতভাগ যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। সাংবাদিক হতে হলে কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রী প্রয়োজন।এতে সাংবাদিকতা পেশার গুণগত মান অনেক বেড়ে যাবে।দূর হবে অরাজকতা ও অপসাংবাদিকতা।

সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সারা বিশ্বের উচ্চ মানসম্পন্ন ও অতি মর্যাদাপূর্ণ পেশাগুলোর একটি। দুনিয়ার একমাত্র প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান পেশা এটি। রাষ্ট্র কিংবা সামরিক শক্তির সমান্তরালে এর অবস্থান বললেও অত্যুক্তি হবে না। ইহা সকল পেশার চাইতে ক্ষমতা ও প্রভাবের দিক দিয়ে অনেক অনেক শক্তিশালী। একটি রাষ্ট্র্রের আইন,বিচার ও শাসন বিভাগের (নির্বাহী) মত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সমন্বিতভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে থাকে। সেখানে সংবাদ মাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ (fourth state) বিবেচনা করা হয়। কারণ সংবাদ মাধ্যমের অনুপস্থতি কিংবা মিডিয়ার স্বাধীনতা না থাকলে গণতন্ত্র ব্যহত হয়। বিকলাঙ্গ হয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা। থমকে দাঁড়ায় উন্নয়ন। ভুলুন্ঠিত হয় নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার।

গণমাধ্যম হল সমাজের দর্পণ। সংবাদপত্র হল জ্ঞানের ভান্ডার। সাংবাদিকরা জাতির জাগ্রত বিবেক। দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন। রাষ্ট্র ও সমাজ যেখানে ব্যর্থ প্রেস সেখানে সফল। দুনিয়ার একমাত্র পেশা যেখানে কাজ করতে হলে বহুমুখী প্রতিভার প্রয়োজন। সকল বিষয় ও সকল পেশা সম্পর্কিত জ্ঞান ও সম্যক ধারনা থাকতে হবে। এমনিতেই সাংবাদিকদের ষষ্ট ইন্দ্রিয় ও তৃতীয় নয়নের অধিকারী হতে হবে। মোট কথা দক্ষ ও মানসম্মত সংবাদ বিশারদ বা সংবাদ কর্মী হতে হলে মেধা ও জ্ঞানের বিকল্প নেই।

বাংলাদেশে তৃনমুল বা মফস্বল এলাকায় মেধাবী ও শিক্ষিত সাংবাদিকদের সংকট অতি চরমে। ভাবতে অবাক লাগে পড়াশোনা নাই, শিক্ষা নাই এরকম সাংবাদিক পরিচয় ধারীরা প্রচণ্ড দাপট দেখিয়ে চলে। বেশ কয়েকদিন আগে দেশের আধা সামরিক বাহিনীর এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা নেতৃস্থানীয় সাংবাদিকদের এক সভায় বললেন আপনাদের মফস্বল এলাকার প্রতিবেদকদের লেখাপড়ার মাত্রা একটু কম মনে হল। সেদিন নামকরা দু’পত্রিকায় দেখলাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেলা প্রশাসনের এই দু’অফিসারের পদবী লিখতে রীতিমত ভুল করেছেন।

আমি ভাল করে জানি, এটা প্রিন্টিং মিস্টেক নয়। অজ্ঞতাজনিত ভুল। জেলা প্রশাসক একই সাথে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা কালেক্টর তা অনেকেই জানেন না। এরকমভাবে অনেক বিষয় অনেক সাংবাদিকদের অজানার মধ্যে। ফলে জনগণের মাঝে ভুল বার্তা আমরা পৌঁছে দিচ্ছি। তা কোনভাবেই কাম্য নয়। এজন্য শিক্ষার বিকল্প নেই। এতে যে শতভাগ সমাধান হবে তা নয়। তবে বিকশিত ও উন্নত হবে তাতে সন্দেহ নেই।

সংবাদ মাধ্যম এখন শিল্প। সাংবাদিকতা এখন পেশা। ইহা শুধুমাত্র সৃজনশীলতা নয়। তাই এ পেশা ও শিল্পকে কাঠামোবদ্ধ করতে হবে। পেশাদারিত্ব প্রতিষ্টিত করতে হবে। তবে নিয়ন্রিত কিংবা আরোপিত নয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি ও নব নব আবিষ্কারের দরুন সভ্যতা প্রতিনিয়ত ক্রম বিকাশমান। আজকের সভ্যতা বিজ্ঞানের দান।পৃথিবীতে চলছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগ। সারা বিশ্ব এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। মানুষ আর মেশিনের যুদ্ধ চলছে। মিডিয়া এখন আর খবরের কাগজে সীমাবদ্ধ নয়।

রেডিও, টেলিভিশন ছাড়িয়ে এখন ইন্টারনেটে, ডিজিটালে। গণমাধ্যম’র এখন নতুন ও সর্বাধুনিক সংস্করণ ‘অনলাইন গনমাধ্যম’। এটা সভ্যতার অগগ্রতি। এটাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। হেলায় ফেলে দেয়ার সুযোগও নেই। এটাকে নিয়ে চলতে হবে। সারা দুনিয়ায় ইহা এখন সবচেয়ে প্রভাবশালী ও শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অদুর ভবিষ্যৎ এ মিডিয়া জগতে অনলাইন উইল বি কিং। একটি বিকাশমান ধারা হিসেবে ত্রুটি বিচ্যুতি থাকাটাই সবাভাবিক। এক্ষেত্রে সামন্তবাদী ধ্যান ধারনা বাদ দিয়ে মানবকল্যাণে এর উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত জাতীয় অনলাইন গনমাধ্যম নীতিমালা ২০১৭ এর প্রজ্ঞাপনে ‘অনলাইন গণমাধ্যম ‘ বলতে বাংলাদেশের ভুখন্ড হতে হোস্টিংকৃত বাংলা, ইংরেজী বা অন্য কোন ভাষায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইন্টারনেট ভিত্তিক রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্র বা ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে সম্প্রচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত স্থির ও চলমান চিত্র, ধ্বনি ও লেখা বা মাল্টিমিডিয়ার অন্য কোন রুপে উপস্থাপিত তথ্য -উপাত্ত প্রকাশ বা সম্প্রচারকারী বাংলাদেশী নাগরিক বা বাংলাদেশে নিবন্ধিত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে।

সুতরাং উন্নত বিশ্বের মত বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে।বরঞ্চ আরো বেশী। ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড এর কান্ট্রি গুলোতে বিখ্যাত পত্রিকাগুলো অনলাইনে গিয়ে আরো অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।তাই আমাদের দৃষ্টিভংগীকে প্রসারিত করতে হবে। আমাদের সমাজে একটি জিনিস প্রচলিত আছে। সুবিধা নেব কিন্তু স্পেস দেব না। এই জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

সর্বোপরি সাংবাদিকদের শিরদাঁড়া সোজা করে চলতে হবে। মেরুদণ্ডহীন হলে চলবে না। পেশী শক্তি কিংবা রাষ্ট্র শক্তির চামচামির নাম সাংবাদিকতা নয়। রাষ্ট্রের ভাল কাজের সহযোগীতা ও গণবিরোধী কাজের নিরংকুশ পক্ষপাতহীন সমালোচনার নামই সাংবাদিকতা।রাষ্ট্র কিংবা দেশেরকর্তা ব্যক্তিরা তাদের প্রয়োজনে অনেক কথা বলতেই পারেন। আমাকে ভাবতে হবে একাডেমিক নির্দেশনা এখানে কি। আইন কি বলে। হুজুগে অপরকে ঘায়েল করতে নির্লজ্জভাবে প্রচারণা চালানো সদাচারের আওতায় পড়ে কিনা একবার ভেবে দেখুন।
এটা আবারো বলছি। এটা জরুরী। অনলাইন -অফলাইন সকল স্তরে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। লেখাপড়া নাই এমন কেউ যেন সাংবাদিকতার কোন পদে না আসে। এ দায় রাষ্ট্রের, এ দায় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের। দায় সম্পাদক ও মালিকদের। সেই সাথে গণমাধ্যম এর মালিকানা আর কর্পোরেট, বুরোক্রাট, রাজনৈতিক কিংবা ব্যবসায়ীদের হাতে নয়, ফিরে আসুক জাত সাংবাদিক ও সংবাদসেবীদের কাছে।

 

 

লেখক: প্রধান সম্পাদক, ডেইলিরূপান্তর ডটকম।
নির্বাহী সম্পাদক- দৈনিক আলোকিত সিলেট।
সিলেট ব্যুরো চীফ- জাতীয় দৈনিক বিশ্ব মানচিত্র।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ