মাদক এখন হোম ডেলিভারিতে চলে

ডিজিটাল বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি কে কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন শ্রেনিপেশার মানুষ যেমন অনলাইন ব্যবসা শুরু করছে ঠিক সে সময়ে অনলাইন ব্যবসা থেকে পিছিয়ে নেই দেশের মাদক ব্যবসায়ীরা।
তারাও তাদের ব্যবসাকে যুগের সাথে তালমিলিয়ে আধুনিকায়ন করতে ও শতভাগ নিরাপদে তাদের মাদকসামগ্রী টার্গেট পারসন কে পৌঁছে দিতে তারা এ বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তারা এত সুক্ষ্মচাল দিয়ে থাকে তাদের দৃষ্টিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কে ফাঁকি দেয়া অনেক সহজ।
কিন্তু তা এত সহজ না। কারন যারা এ ব্যবসাটা পরিচালনা করে তাদের ই কোন না কোন লোক এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কে আগাম খবর দিয়ে দেয়। যেমনটা হতো এনালগ সিষ্টেম ব্যবসার ক্ষেত্রে।
মাদক কারবারীরা যত নতুন নতুন পন্থা বা পদ্ধতি অবলম্বন করে ব্যবসা করে তার চেয়ে অনেক চালাক হলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাদক কারবারীরা করোনার লকডাউন ও সামনে কোরবানীর  ঈদের বাজার ধরতে মাদকের হোমসার্ভিস বা হোম ডেলিভারি সিস্টেম চালু করছে।
কোরবানির ঈদকে টার্গেট করে শুরু হয়েছে মাদকের মজুদ। মাদকের ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তার জন্য মাদক ব্যাবসাকে রূপ দেয়া হয়েছে ডিজিটালে। এখন অনলাইনে বা মোবাইল ফোনে কল দিলেই বিক্রেতা মাদক পৌঁছে দিচ্ছে ক্রেতার বাসায়। মাদকের এ ধরনের হোম ডেলিভারিতে ব্যবহৃত হচ্ছে কিশোর গ্যাং, বোরকা পরিহিত সুন্দরী নারীরা।
মাদক আনা নেয়ার বাহন হচ্ছে এ্যাম্বুলেন্স, কাভার্ড ভ্যান, জরুরী সেবা কাজে ব্যবহৃত যানবাহন। করোনার মধ্যে ঈদের বাজারে মাদক চালান আনা নেয়ার খবর পেয়ে রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়ে ব্যাপক তল্লাশি ও কঠোর নজরদারি শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ ও র‌্যাব।
করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ঢাকাসহ সারাদেশে চলছে কঠোর বিধিনিষেধ। যানবাহন চলাচল বন্ধ। বিনা কারণে লোকজন বাইরে বের হলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গুনতে হচ্ছে জরিমানা। এরই মধ্যে অনেক মাদকসেবী বাসা থেকে বের না হওয়ায় তাদের কাছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের হোম ডেলিভারি হচ্ছে এ ধরনের খবর পেয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে কয়েক জনকে।
মাদক বেচাকেনার জন্য নিরাপদ কৌশল বেছে নিয়েছে বিক্রেতা ও ক্রেতারা। একটি মাত্র ফোন বা এসএমএসে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে বাসায়। খাবার বা পণ্য ঘরে বসে পেতে হোম ডেলিভারি সার্ভিস চালু হয়েছে অনেক আগেই।
আর এখন রাজধানীসহ দেশের অনেক জায়গায় চালু হয়েছে মাদকের হোম ডেলিভারি। চাইলেই ঘরে বসে পাওয়া যাচ্ছে যেকোন ধরনের মাদক দ্রব্য।মাদকসেবীদের জন্য নতুন এই ‘সেবা’ চালু করেছে পুরনো ও অভিজ্ঞ মাদক ব্যবসায়ীরা।
আকারে ছোট ও সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় ইয়াবার হোম ডেলিভারি ঠেকাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন গোয়েন্দারা। সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া মাদকের হোম ডেলিভারি ঠেকানো বেশ মুশকিল। আকারে ছোট মাদকদ্রব্যগুলোর হোম ডেলিভারিতে চাহিদা বেশি। শরীরের গোপন স্থানে লুকিয়ে এসব মাদকের ডেলিভারি দেয়া হয়।
তবে হোম ডেলিভারি ঠেকানো কঠিন হলেও অসম্ভব না। রাজধানীসহ সারাদেশে  মাদকের নিয়মিত হোম ডেলিভারি পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকা, তেজগাঁও, গুলশান, নিকেতন, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, মিরপুর, উত্তরা উল্লেখযোগ্য। আর এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা কেউই নতুন নয়, পুরনো মাদক ব্যবসায়ীরাই এ সেবা চালু করেছে। তবে নতুন মাদক ব্যবসায়ীদেরও মাদক ব্যবসায় নামার খবর পাওয়া গেছে। করোনাভাইরাসের মধ্যে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে মাদকের মজুদ করা হচ্ছে।
মাদকের হোম ডেলিভারির বাহক হিসেবে বোরকা পরিহিত নারী, সুন্দরী নারী ও শিশুদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য বহনকারীরা ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে চলাফেরা করে। সুন্দরী ও স্মার্ট নারীদের মাদকদ্রব্য পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হয়। আবার বোরকা পরিহিত নারীদের এ কাজে ব্যবহার করা হয়।
যাতে সন্দেহ করা না যায়, সেজন্য শিশুদের বাহক হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা পুরনো কৌশল। এখন হোম ডেলিভারিতেও তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে করোনার লকডাউনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কড়াকড়ির মধ্যে এ্যাম্বুলেন্স, পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যান, জরুরী সেবা কাজে নিয়োজিত স্টিকার লাগানো যানবাহনে মাদক বাহনের কাজে ব্যবহৃত হওয়ার তথ্য মিলছে।
লেখক- সাংবাদিক ও কলামিস্ট
E-mail- ganipress@yahoo.com
মুক্তকথন বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়েdailyrupantor.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।
  • 113
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ