বাংলা ভাষার অগ্রযাত্রা

মনের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হলো ভাষা।এটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়।বহমান নদীর মতো চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এগিয়ে চলে সামনের দিকে।অনেক ভাষা কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আবার অনেক ভাষা স্ব-মহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভাষার স্থায়িত্ব মূলত নির্ভর করে সাধারণ মানুষ ভাষাটি কতোটা চর্চা করছে তার উপর। ভাষাবিদদের হিসাব অনুযায়ী পৃথিবীর মোট ভাষার সংখ্যা প্রায় ৮০০০। ‘এথনোলগ-দ্য ল্যাংগুয়েজেস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামের ভাষা সংক্রান্ত একটি প্রকাশনার ১৯৯৯ সালের জরিপ অনুযায়ী পৃথিবীর ভাষার সংখ্যা প্রায় ৬০০০। তবে বর্তমানে পৃথিবীতে প্রচলিত ভাষা আছে প্রায় ৩৫০০-এর উপরে।
ভাষাভাষী জনসংখ্যার বিবেচনায় বাংলা ভাষার স্থান বিশ্বে চতুর্থ। বিশ্বের প্রায় ত্রিশ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের সরকারি ভাষা বাংলা। এছাড়া ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দীপপুঞ্জের অন্যতম ভাষাও বাংলা।ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্য ও পাকিস্তানের করাচীর দ্বিতীয় সরকারি ভাষা হলো বাংলা। ২০০২ সাল থেকে সিয়েরা লিওনের একটি অন্যতম সরাকারি ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। অনেক বাধা পেরিয়ে, অনেক রক্ত গায়ে মেখে বাংলা ভাষা আজকের অবস্থানে এসেছে।
বাংলা ভাষার উদ্ভবের সুনির্দিষ্ট সময় নির্ণয় করা বেশ কঠিন। বাংলা ভাষার শিকড় নিহিত আছে মূলত ইন্দো- ইউরোপীয় ভাষায়। এ-ভাষায় কথা বলে এমন কিছু মানুষ ভারতবর্ষে আসেন বহুকাল আগে। তাদের মুখের ভাষা একসময় মাগধি প্রাকৃতে পরিবর্তিত হয় এবং পরবর্তীতে মাগধি অপভ্রংশ পার হয়ে ৯০০-১০০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ভারতীয় আর্যভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়। উদ্ভবের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাকে তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায়ে ভাগ করে দেখা হয়: প্রাচীন বাংলা (৯০০/১০০০-১৩৫০), মধ্যবাংলা (১৩৫০-১৮০০) এবং আধুনিক বাংলা (১৮০০-বর্তমান)।
চর্যাপদকে বাংলা ভাষার প্রাচীন নিদর্শন বলা হয়ে থাকে।চর্যাপদের সময়কাল নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কারও মতে খ্রিস্টীয় ৭ম-১০ম শতক। আবার কারও মতে খ্রিস্টীয় ৮ম-১২শ শতক। তবে এ-বিষয়ে কারও দ্বিমত নেই যে, চর্যাপদ রচিত হয়েছিল পাল আমলে। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ উদ্ধার করেন। এতে ৫০টির মতো কবিতা ও গান রয়েছে। এগুলো মূলত সমাজের সাধারণ মানুষের সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনার উপর ভিত্তি করে রচিত। চর্যাপদের ভাষা স্থায়িত্ব লাভ করার আগেই ভারতের কর্ণাটক থেকে আগত সংস্কৃতভাষী সেন শাসকেরা বাংলা ভাষা চর্চা নিষিদ্ধ করেন। তাদের ভয়ে সমাজের অভিজাত লোকজন বাংলা ভাষা চর্চা করা বাদ দিলেও সাধারণ মানুষ কখনো বাংলা ভাষার চর্চা বন্ধ করেনি।
১২০৩ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির মাধ্যমে সেন আমলের অবসান হয়।মানুষ আবার বাংলা ভাষা চর্চা করার সুযোগ পায়। তবে ব্যক্তিজীবনে ব্যবহৃত হলেও এ-সময়ে উল্লেখযোগ্য কোনো সাহিত্য বাংলা ভাষায় রচিত হয়নি।
প্রাচীন বাংলার পরেই চলে আসে মধ্য বাংলা বা মধ্যযুগ। বাংলা ভাষার অগ্রযাত্রায় মধ্যযুগের অবদান অপরিসীম।
হাজি শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে বাংলাভাষী অঞ্চলকে একত্রিত করে ‘সুবহি বাঙ্গালা’ নাম দেন এবং এর অধিবাসীদের নাম দেন বাঙ্গালী। সেই থেকেই মূলত আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে পরিচিত। ভাষার অগ্রযাত্রা নির্ণয়ের অন্যতম প্রধান মাপকাঠি হলো সংশ্লিষ্ট ভাষায় রচিত সাহিত্যের অগ্রগতি। মধ্যযুগে বড়ু চণ্ডীদাস রচনা করেন ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'(১৩৫০) কাব্য, পরে শাহ মুহাম্মদ সগীর রচনা করেন ‘ইউসুফ জুলেখা’ (১৩৮৯-১৪১০)। পরবর্তীকালে মালাধর বসু, জৈনুদ্দীন, বিজয় গুপ্ত, কৃত্তিবাস প্রমুখ সাহিত্যিকগণ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন।পাঠান সুলতানদের শাসনামালে (১৩৩৮-১৫৭৫) বাংলাভাষা আরও এগিয়ে যায়।এরপর মোঘল আমলে সৈয়দ সুলতান, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, আব্দুল হাকিম, দৌলত উজির বাহরাম খান, সৈয়দ আলাওল প্রমুখ সাহিত্যিকগণ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ব্যাপক উন্নতি সাধন করেন। এ-সময় বাংলাভাষায় অনেক বিদেশি শব্দ সংযুক্ত হয়।মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে শুধু কাব্য সাহিত্যই পাওয়া যায়।
মধ্যযুগ মূলত বাংলা ভাষার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে দেয়। বাঙালি জাতির স্বীকৃতি ও পরিচিতি লাভ, বাংলা শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধকরণ এবং লিপিপদ্ধতি প্রনয়ণ এ-সময়কালের উল্লেখযোগ্য অবদান। বাংলা শব্দভাণ্ডারের প্রধান উপাদান সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত তৎসম, তদ্ভব ও অর্ধতৎসম শব্দ। সেই সাথে আছে অজস্র দেশি শব্দ, যেগুলি হয়তো দ্রাবিড়, অস্ট্রিক বা ভোটবর্মী ভাষা থেকে এসেছে।
এছাড়াও আছে প্রচুর ফারসি, আরবি, ইংরেজি, পর্তুগিজ এবং অন্যান্য বিদেশি শব্দ।বিভিন্ন সময়ে বাংলাভাষী অঞ্চল বিদেশিদের দ্বারা শাসিত হওয়ায় বাংলা ভাষায় এসব বিদেশি শব্দ সংযুক্ত হয়েছে। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের ‘বাঙ্গালা ভাষার অভিধান’-এর মোট শব্দের পরিসংখ্যান নিয়ে দেখেছিলেন যে, তাতে তদ্ভব ৫১.৪৫%, তৎসম ৪৪%, ফারসি-আরবি ৩.৩০%, ইংরেজি-পর্তুগিজ ইত্যাদি ১.২৫%। অবশ্য এ-পরিসংখ্যান থেকে ব্যবহারিক (কথ্য ও লেখ্য) কোনো প্রকৃত ছবি পাওয়া যায় না। বাংলালিপি পদ্ধতি এসেছে মূলত প্রাচীন ভারতীয় ব্রাক্ষ্মীলিপির বিবর্তিত রুপ কুটিল লিপি থেকে। পরবর্তীতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় লিপিপদ্ধতি আদর্শায়িত হয়।
উনিশ শতকে শুরু হয় আধুনিক যুগ।বাংলা ভাষায় রচিত গদ্যের সূচনালগ্ন বলা যায় এ-সময়টিকে। খ্রিস্টধর্ম প্রচারকদের প্রচেষ্টায় বাংলায় প্রথমবারের মতো গদ্য- ভাষার কার্যকর ব্যবহার শুরু হয়।১৮০১ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর তার প্রধান উইলিয়াম কেরি ও তাঁর সহযোগী বাঙালি পণ্ডিতদের প্রচেষ্টায় বাংলা ভাষায় সৌষ্ঠবপূর্ণ গদ্য-সাহিত্য রচনার পথ প্রশস্ত হয়। পরবর্তীতে রাজা রামমোহন রায়, ভবানীচরণ বন্দোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মধুসূদন দত্ত, মীর মোশাররফ হোসেন প্রমুখের অনবদ্য প্রচেষ্টায় বাংলা ভাষার উৎকর্ষ সাধিত হয়। ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামমোহন রায় ‘গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’ নামক একটি ব্যকরণ গ্রন্থ রচনা করেন। এই মহান সমাজসংস্কারক বাংলা ভাষায় গতিশীলতা ও আধুনিকতা নিয়ে আসার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। এ-সময়ের আরেকজন দিকপাল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলালিপি পরিমার্জিত করেন। বাংলা ভাষাকে একটি পরিপূর্ণ ভাষায় পরিণত করার জন্য তাঁর অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।রাজা রামমোহন রায় গদ্যের যুগোপযোগী কাঠামোগত দিকটি নির্মাণ করেন এবং এতে প্রাণ সঞ্চার করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
বিশ শতকে বাংলা ভাষা উন্নীত হয় অনন্য উচ্চতায়।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, প্রমথ চৌধুরী, মোহিতলাল মজুমদার, জীবনানন্দ দাস, জসীম উদ্দীন, ফররুখ আহমদ প্রমুখ কবি-সাহিত্যিকগণ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে অনেক অনেক সমৃদ্ধ করেন। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পাওয়ায় বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করে। বিশ শতকে বাংলা ভাষার ইতিহাসে অন্যতম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি এবং ইউনেস্কো কতৃক ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করা।ভাষা আন্দোলনই মূলত বাঙালির অধিকারবোধ তীব্রভাবে জাগিয়ে তোলে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলা ভাষার অগ্রযাত্রা চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান জঘন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় ঘোষণা করন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’।উপস্থিত ছাত্র-জনতা এর তীব্র প্রতিবাদ করেন। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পল্টন ময়দানের জনসভায় একই ঘোষণা প্রদান করেন।এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ৩০ জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে। নতুনভাবে গঠিত হয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। ২১ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট এবং ঐদিন রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারিসহ সভা, সমাবেশ, মিছিল এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিকে মিছিল এগিয়ে নিয়ে যায়।পুলিশ মিছিলের উপর গুলিবর্ষণ করলে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ অনেকে শহিদ হন, অনেকে আহত হন। এ-খবর ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে। ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ শীর্ষক কবিতা এবং কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ ‘স্মৃতির মিনার’ কবিতাটি রচনা করেন। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচনা করেন, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি,’ সঙ্গীতশিল্পী আব্দুল লতিফ রচনা ও সুর করেন, ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’।ড. মুনীর চৌধুরী জেলে বসে রচনা করেন ‘কবর’ নাটক, জহির রায়হান রচনা করেন ‘আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাসটি।
মূলত বাঙালিই একমাত্র জাতি যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে। অবশেষে পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় এবং ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। এটা বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতির জন্য অনন্য এক অর্জন।
বিশ শতকে বাংলা ভাষার গতিরোধ করার চেষ্টা হলেও এ-শতকেই মূলত বাংলা ভাষা সবচেয়ে বেশি বিকশিত হয়েছে। বিশ শতকের সাহিত্যের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করলেই ভাষার অগ্রযাত্রা সম্পর্কে সম্যক ধারনা লাভ করা যায়। বাংলা ভাষায় রচিত ছড়া, কবিতা, গান, প্রবন্ধ, নাটক, গল্প, রম্যরচনা, উপন্যাস সুগন্ধী ফুলের মতো প্রস্ফুটিত হয়ে বাংলা ভাষা নামক বৃক্ষকে চিরঞ্জীব করে তুলেছে। বিশ শতকের প্রথমার্ধে তৈরিকৃত ভিত্তির উপর দ্বিতীয়ার্ধের কবি-সাহিত্যিকগণ নান্দনিক চুনকাম করেছেন।সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, অন্নদাশংকর রায়, বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে, বিমল মিত্র, সুকান্ত ভট্টাচার্য, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, এস ওয়াজেদ আলী, কাজী মোতাহার হোসেন, বেগম সুফিয়া কামাল, আবু ইসহাক, জহির রায়হান, শওকত ওসমান, শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, সেলিনা হোসেন, নির্মলেন্দু গুণ, আলাউদ্দিন আল আজাদ, বিপ্রদাশ বড়ুয়া প্রমুখ কবি-সাহিত্যিকদের হাতের ছোঁয়ায় বাংলা ভাষা উপহার দিয়েছে অসাধারণ সব সাহিত্যকর্ম।জীবনের প্রতিটি স্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে এ-শতকে।বাংলা ভাষার অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান।
বিপুলসংখ্যক জনসংখ্যা দ্বারা চর্চিত একটি সাবলীল ভাষার গতি কখনো রোধ করা যায় না।বাংলা ভাষা তার উৎকৃষ্ট প্রমান।শত বাধা পেরিয়ে বাংলা ভাষা এগিয়ে চলেছে এবং অনন্তকাল গতিশীল থেকে অনুভূতি প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হয়ে থাকবে অগণিত মানুষের, উপহার দিয়ে যাবে নন্দিত সাহিত্য।

 

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক ভোরের কাগজ।
  • 160
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ