মহাদেবপুরে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গরু-ছাগলের হাট, অতিরিক্ত খাজনা আদায়

নওগাঁর মহাদেবপুরে মরণব্যাধি করোনাভাইরাস কে উপেক্ষা করে স্বাস্থ্য বিধি না মেনে গরু ও ছাগলের জমজমাট হাট বসেছে। সরকার ঘোষিত লকডাউন এর তোয়াক্কা না করে কিভাবে হাট চলছে তা নিয়ে সর্বত্র ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।

১৭ এপ্রিল শনিবার বিকেলে সরেজমিনে উপজেলা সদরের গরু ও ছাগলের হাটে গিয়ে দেখা যায় স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাই নেই। গাদাগাদি করে কেনাবেচা করা হচ্ছে গরু ও ছাগল। এছাড়াও অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে ভরী ভরী।

সরকার ঘোষিত লকডাউন এর পর থেকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন সময় উপজেলা সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, মাস্ক বিতরণ ও মোবাইল কোটে জরিমানা করা হয়। ঠিক একই সময়ে স্বাস্থ্য বিধি না মেনে কিভাবে এসব হাটে গরু ছাগল কেনা বেচা হচ্ছে তা নিয়ে সর্বত্র হইচই পড়ে গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে মহাদেবপুর হাট-বাজারের ইজারাদার এমদাদুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকে মাইকিং করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট পরিচালনা করার অনুমতি দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান মিলনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট-বাজারে গরু-ছাগল কেনাবেচা করতে বলা হয়েছে। সেটি সঠিক ভাবে হচ্ছে কিনা দেখার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ফরিদুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারন কর্মকর্তা এ কে এম জামান, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কর্মকর্তা আব্দুস সালাম ও উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ রয়েছেন।

কোন স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না ও অতিরিক্ত খাজনা নেয়া হচ্ছে মর্মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে জানালে তিনি তাৎক্ষণিক ভাবে কমিটির সদস্যদের হাটে পাঠিয়ে দেন।

কমিটির সদস্যরা স্থানীয় ছাগলের হাটে গেলে হাটের লোকজন, কর্মরত সাংবাদিক ও কমিটির সদস্যদের ত্রিমুখী তর্ক বিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে কর্মকর্তারা হাটে বেচা কেনা বন্ধ করে দেন। তবে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের বিষয়টি প্রমাণিত হলেও হাট ইজারাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

করোনাকালীন সময়ে এভাবে হাট-বাজারে বেচাকেনা করতে পারবে কিনা তা জানতে জেলা প্রশাসকের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অপরদিকে উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের আলেফ উদ্দিনের পুত্র আকাশ হোসেন জানান, তিনি মহাদেবপুরে হাট থেকে একজোড়া ছোট ছাগল ক্রয় করেন। যার ক্রয় মূল্য নির্ধারিত হয় ৩৮০০ টাকা। কিন্তু খাজনার চেক কাটার সময় তার নিকট ৬০০ টাকা চাওয়া হয়। সে দিতে আপত্তি জানালেও তারা জোর করে ৪০০ টাকা নেন। কিন্তু সেটিও রশিদে লিখে দেননি।

এভাবে প্রতিদিন হাট ইজারাদারদের অশোভনীয় আচরণ ও অতিরিক্ত খাজনা নেয়ার গুরুতর অভিযোগ করেন হাটে আসা উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মুকুল হোসেন, বাগডোব গ্রামের কুদ্দুস আলী, পৈতা গ্রামের একাব্বর হোসেন, কৃষ্ণ গোপালপুর গ্রামের সুমন হোসেন, বিনোদপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম ও ৩৬৬ নং রশিদের ক্রেতা দুলাল হোসেন ক্ষোভের সাথে জানান, বর্তমান সরকার মরণব্যাধি করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী লকডাউন দিয়েছে। করোনাভাইরাস কে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রমজান মাসে মসজিদে নামাজ সীমিত করেছে।মসজিদে ২০ জন মুসল্লির অতিরিক্ত নামাজ আদায় করা যাবে না। সেখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগমে জমজমাট গরু ছাগলের হাট বসেছে কিভাবে তা তাদের বোধগম্য নয়। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে মরণব্যাধি করোনাভাইরাস আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা করেন।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত এসব হাট-বাজার বন্ধের পদক্ষেপ নিয়ে তাদের সকল ভালো কাজের ধারা অব্যাহত রাখবেন বলে জোর দাবি সচেতন মহলের।

 

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএফ/এ

এ বিভাগের আরো সংবাদ