সিরাজদিখান খিদিরপুরে ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

লকডাউনের সুযোগে বিভিন্ন দপ্তরে ও চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে

মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের খিদিরপুর এলাকায় খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর/ভেকু) দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, এতে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হবে।

শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, সিরাজদিখান লতব্দী ইউনিয়নের খিদিরপুর চকে খননযন্ত্র দিয়ে আট-দশ ফুট গভীরতায় ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রাকে বোঝাই করা হচ্ছে। খননযন্ত্রের চালক আকাশ জানান, পাশের রামকৃষ্ণদী এলাকায় অবস্থিত ইটভাটায় মাটি নেওয়া হচ্ছে। ইটভাটাটির মালিকের নাম জহিরু ও ইকবাল। তাদেও বাড়ি পূর্ব রাম,কৃষ্ণদী গ্রামে। আকাশ আরও জানান, কিছু জমি সরকারের আর কিছু জমির মালিকেরা মাটি বিক্রি করেন। এক বিঘা জমির মাটির দাম ২৫ হাজার টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাটি বিক্রেতা একাধিক ব্যক্তি জানান, ধান চাষ করে লাভ হয় না। তাই তাঁরা খিদিরপুর গ্রামের মৃত আওলাদ হোসেন সরকারের ছেলে শামীম সরকার,সিরাজুল সরকারের ছেলে মোঃ জনি,সামসুল সরকারের ছেলে শহীদুল ইসলাম সরকারের কাছে মাটি বিক্রি করছেন। পাশের লতব্দী গ্রামের বাসিন্দা বশির মিয়া বলেন, ‘মানুষে জমিনের মাটি কমটাকায় কিনে আর নিরিহ লোকের জমি জোর করে কেটে নিছে ভূমিদস্যু খিদিরপুর গ্রামের মৃত আওলাদ হোসেন সরকারের ছেলে শামীম সরকার, সিরাজুল সরকারের ছেলে মোঃ জনি, সামসুল সরকারের ছেলে শহীদুল ইসলাম সরকারের সিন্ডিকেট।

তারা উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে ও চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে লকডাউনের সুজোগে জোর করে ফসলী জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। দেখার কেউ নেই।

উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ফসলি জমির উপরিস্তরের ছয় ইঞ্চি গভীরতায় মাটি কেটে নিলে উর্বরতা নষ্ট হয়। এর পর যে মাটি থাকে, তাতে ফলন ভালো হয় না। প্রতিবছর লতব্দীতে ৫ থেকে ৬ শতাংশ আবাদযোগ্য জমি কমছে।

সিরাজদিখান সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহম্মেদ সাব্বির সাজ্জাদ বলেন, সরকারি জায়গার মাটি কাটার জন্য জরিমানা করছি । অনেক সময় মালিক মাটি বিক্রি করলে আইনিভাবে তাঁদের করার কিছু নেই।

 

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএফ/কে.

এ বিভাগের আরো সংবাদ