ইংল্যান্ডে শিথিল হচ্ছে লকডাউন

আগামী ১২ এপ্রিল থেকে লকডাউন বিধিনিষেধ শিথিল হচ্ছে ইংল্যান্ডে। সোমবার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এই তথ্য জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল থেকে ইংল্যান্ডের আউটডোর এবং ইনডোর রেস্তোঁরা ও পানশালাগুলো খোলা যাবে। এছাড়া স্পা সেন্টার, বিউটি পার্লার, সেলুন, চিড়িয়াখানা, থিমপার্ক এবং সিনেমা হলগুলোও খুলে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

একই পরিবারের সদস্যরা ইংল্যান্ডের ভেতরে ভ্রমণ করতে পারবেন, তবে ভ্রমণের সময় অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। গ্রন্থাগার ও কমিউনিটি সেন্টারগুলো খুলে দেওয়া হবে।

বিয়ের অনুষ্ঠানের ওপর থেকে বিধিনিষেধও উঠে যাবে ১২ এপ্রিল থেকে, তবে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানেই ১৫ জনের বেশি অতিথি থাকতে পারবেন না। বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে দর্শনার্থীরা যেতে পারবেন, কিন্তু দু’ জনের বেশি দর্শনার্থী একসঙ্গে আশ্রমে বসবাসকারী কোনো প্রবীন সদস্যের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না।

ভাষণে বরিস জনসন বলেন, ১২ এপ্রিল থেকে ইংল্যান্ডজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভ্রাম্যমান দল টহল দেবে এবং যেসব নাগরিক নিজেদের সঙ্গে করোনা নেগেটিভ সনদ বা টিকা গ্রহণের সনদ রাখবেন, শুধু তাদেরকেই বাইরে বেরুনোর অনুমতি দেওয়া হবে।

গত বছর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে ব্যাপকভাবে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় জানুয়ারিতে লকডাউন জারি করেছিল ব্রিটেনের সরকার। তারপর গত ২৩ তারিখ লকডাউন শিথিলে চার ধাপের পরিকল্পনা পেশ করেছিলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী।

সেই পরিকল্পনায় তিনি বলেছিলেন, ৮ মার্চ ইংল্যান্ডের স্কুলগুলো খুলে দেওয়া হবে। ১২ এপ্রিল খুলে দেওয়া হবে নিত্য প্রয়োজনীয় নয়— এমন পণ্যসামগ্রীর দোকান, সেলুন, পানশালা-রেস্তোঁরা, থিয়েটার ও সিনেমা হল, স্টেডিয়ামগুলো।

আগামী ১৭ মে নাগাদ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের নিষেধাজ্ঞাও তুলে দেওয়ার চিন্তাভাবনা ব্রিটেন সরকারের রয়েছে বলে সোমবারের ভাষণে জানিয়েছেন বরিস জনসন। তবে পাশাপাশি এ ও বলেছেন, অন্যান্য দেশে সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় কোন কোন দেশের সঙ্গে ফ্লাইট যোগাযোগ আপাতত শুরু হবে— সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

ভাষণে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি সত্য যে আমরা সংক্রমণের সর্বোচ্চ পর্যায় পার করতে সক্ষম হয়েছি; কিন্তু সবসময়ই আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, পৃথিবীতে এখনও এই প্রাণঘাতী ভাইরাসটি প্রবল শক্তিতে টিকে আছে। এ কারণে সবসময়ই আমাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যদি সতর্কতায় ঢিল পড়ে, তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।’

এ বিভাগের আরো সংবাদ