ইউপি নির্বাচন: একাধিক প্রার্থী নিয়ে চিন্তিত আওয়ামী লীগ-বিএনপি

গ্রামীণ জনপদে প্রার্থীদের মাঝে বাড়ছে সালাম আদাব

করোনা ভাইরাস মহামারির শেষ কবে বিশ্ব জুড়ে এ প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা হলেও এর মধ্যেই দেশে সময় ঘনিয়ে আসছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। তবে ইউপি নির্বাচন মানে গ্রামীণ জনপদে উৎসবের আমেজ। সেটাকে প্রাণবন্ত করে তুলতে গ্রামীণ জনপদের রাজনীতি এখন বেশ নড়েচড়ে বসেছে। আলোচনার টেবিলে নির্বাচন আর নির্বাচন। চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তরুণ ভেটাররা আলোচনার টেবিলে আনছেন বিগত চেয়ারম্যান মেম্বাররা কে কি দিলেন বা কে কতটুকু মারলেন।

সুতরাং এই যখন প্রসঙ্গ তখন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সিলেট বিভাগের গ্রামীণ জনপদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণা জমে উঠেছে। প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন পেতে চলছে তাঁদের দৌড়ঝাঁপ। ধরনা দিচ্ছেন জেলা-উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কাছে। নির্বাচনী উত্তাপ এবং প্রার্থীদের এমন দৌড়ঝাঁপ শুরু হলেও দুই দলেই এখনো প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়নি। মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রার্থী বাছাই নিয়ে (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি) উভয় দলে বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা করেছেন দুটি দলের স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতারা।

সম্প্রতি সিলেট বিভাগের জনপদে সরেজমিনে দেখা যায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণায় সরগরম গ্রামীণ জনপদ। গ্রামে গ্রামে গিয়ে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি ভোটারদের কাছে দোয়া চাচ্ছেন তাঁরা। সুনামগন্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগন্জ উপজেলার বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় নানা শ্রেণি-পেশার বেশ কয়েকজনের সঙ্গে। তাঁরা বলেন, করোনা উপেক্ষা করে উপজেলার ইউনিয়নে দিন–রাত প্রচারণা চালাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে এলাকা। অনেকে নিজের ছবিসংবলিত নতুন বছরের ক্যালেন্ডার ছাপিয়ে ভোটারদের মধ্যে বিলি করেছেন। কেউ কেউ বিনা দাওয়াতেই হাজির হচ্ছেন বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে। মুঠোফোনে খুদে বার্তায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও চলছে প্রচারণা।

প্রার্থীরা কেউ দলীয় পরিচয়ে, কেউ বিগত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষার দাবি করে, কেউ মসজিদ-মন্দির, ক্লাব-সমিতির উন্নয়নে অর্থ সহায়তা দিয়ে, কেউ উন্নয়নের নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। ভোটাররাও সম্ভাব্য এই প্রার্থীদের এসব তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের চাপ যতই থাকুক না কেন, বড় দুটি দল সৎ, যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিদের প্রতি সমর্থন দেবে।

তবে এ জেলার আওয়ামী লীগ ও বএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন,কেন্দ্রের নির্দেশনা পেলেই বাছাই শুরু এবং মাঠ জরিপের মাধ্যমে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা হবে। তারা কেন্দ্রের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন বলে জানান।

কয়েকটি ইউনিয়নের মনোনয়নপ্রত্যাশীদেও সাথে কথা বলে জানাযায়। এবারের প্রার্থীরা গরীব দু:খী মেহনতি মানুষের পাশে থাকতে চান। তবে ভোটররা বলছেন ইউপি নির্বাচন কে সামনে রেখে নতুন নতুন প্রার্থীরা মুখরোচক প্রতিশ্রæতি দিচ্ছেন। তবে যারা গরীব দ:ুখী মেহনতি মানুষের পাশে থাকবেন বলছেন অথচ অনেকে করোনার সংকটে যে পাশে ছিলেন না। যদিও এসব তোপের মুখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজের পরিচয় সম্বলিত ভিজিটিং কার্ড বিলি করেছেন। সবমিলিয়ে গ্রামীণ জনপদের রাজনীতিতে বাইছে ইউপি নির্বাচনের হাওয়া।

সিলেট জেলা উপজেলার গ্রমানী জনপদের দেখা যায় ইউপি নির্বাচন কে কেন্দ্র করে বাড়ছে সালাম আদাব। সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা হাজির হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। গ্রামীণ জনপদের সচেতন ভোটাররা বলেন, তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি অথচ সম্ভাব্য প্রার্থীদেও তত্পরতা দেখলে মনে হতে পারে, আর কদিন পরেই যেন ভোট। ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে বাড়ি, পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার ও রাজনৈতিক কার্যালয়গুলো এখনই প্রায় সরগরম। কোথাও কোথাও শুরু হয়ে গেছে নগদ অর্থের ছড়াছড়িও।

ইউপি নির্বাচনের পাশাপাশি জেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরাও এখন থেকেই মাঠে তত্পর। দেশে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচন হয় ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর। সেই হিসাবে বছরের শেষ দিকে জেলা পরিষদের নির্বাচন হওয়ার কথা।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, আইন অনুযায়ী জেলা পরিষদ প্রথমবার গঠনের ক্ষেত্রে প্রথম নির্বাচনের তারিখ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ঠিক করেছে। সে অনুযায়ী ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছিল ইসি। প্রথমবার পরিষদের মেয়াদ শেষে পরের নির্বাচনগুলোতে কমিশন নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করবে।

জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় জেলা পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন থেকেই আগাম বিনিয়োগ করতে শুরু করেছেন ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পেছনে। কেউ কেউ ঐসব প্রার্থীদের নির্বাচনের পুরো খরচও বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা খরচ করা শুরু করেছেন। ফলে ইউপি ও জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন থেকেই টাকার ছড়াছড়ি শুরু হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাজনৈতিব বিশ্লেষকরা বলছেন ‘আসলে আমাদের পুরো প্রক্রিয়াটিই কলুষিত। দলীয় ভিত্তিতে এসব নির্বাচন করার কারণে এখানে মনোনয়ন বাণিজ্য হয়। ফলে অনেকের কাছে বিষয়টি একতরফা বানিজ্য বলে মনে করছেন তারা।

তবে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সিলেট বিভাগের বিভিন্ন ইউনিয়নের সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। প্রার্থীদের প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার পাড়া-মহল্লা, হোটেল-রোস্তোরা ও চায়ের দোকান। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোট ও দোয়া নিতে ছুটছে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। বর্তমান চেয়ারম্যানদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবী জানাচ্ছেন অনেকে ।

এছাড়া অনেক প্রার্থী জাতীয় উৎসবে নানা রংয়ের ব্যানার পোস্টারের মাধ্যমে তাদের প্রার্থিতা জানান দিতে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ অব্যাহত রেখেছেন। বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানসমূহে তাদের উপস্থিতি লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ