ডিজিটাল যুগের হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বায়োস্কোপ খেলা

ডিজিটাল যুগের স্পর্শ আর সভ্যতার ক্রমবিকাশে আজ হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বায়োস্কোপ দেখা। কয়েক যুগ সময়কার আগে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিনোদন ছিল বায়োস্কোপ দেখা। এখন আর একবারেই এটি চোখে পড়ে না। শুধু বায়োস্কোপ নয়। প্রযুক্তির দাপটে গ্রামীণ অনেক খেলার অস্তিত্ব হারিয়েছে । গ্রামবাংলার এক সময়ের জনপ্রিয় খেলাগুলোর মধ্যে- হা-ডু-ডু, কাবাডি, ঘুড়ি খেলা, দাঁড়িয়াবান্ধা, ডাংগুলি, গোল্লাছুট, কুস্তি, গোশত চুরি, কুতকুত,চোর-পুলিশ, হাড়িভাঙা, ইচিং বিচিং, ওপেন টু বায়োস্কোপ, কড়ি খেলা, সাপ খেলা, কানামাছি, লাঠি খেলা, ষাড়ের লড়াই, বউ-ছি, বলী খেলা, টোপাভাতি, নোনতা খেলা, নৌকা বাইচ, লুডু খেলা, রুমাল চুড়ি, পুতুল বৌ, ফুল টোক্কা, বাঘ ছাগল, বরফ পানি, মার্বেল, মোরগ লড়াই, লাটিম, লুডু, ষোল গুটি, এক্কা দোক্কা, সাত পাতা, বটি বটি, দাপ্পা, রস-কস, চারগুটি, চেয়ার সিটিংসহ আরও হাজারো প্রকার খেলা। বাংলাদেশসহ ভারত উপমহাদেশের জনপ্রিয় এসব গ্রামীণ খেলাধুলা আজ প্রায় বিলুপ্ত।

গ্রামীণ এসব খেলাধুলা হলো বিনোদনমূলক, স্বাস্থ্য সচেতনমূলক ও প্রতিভা বিকাশের অন্যতম। যা আমাদের আদি ক্রীড়া সংস্কৃতি। এসব খেলাধুলা এক সময় আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করত। বর্তমানে গ্রামীণ খেলা গুলো বিলুপ্ত হতে হতে অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা স্বল্প প্রচেষ্টায় সংগ্রহ করতেই কঠিন হয়ে পড়েছে।

বর্তমান প্রযুক্তির সুবিধা ও এর ব্যবহারে এগিয়ে যাচ্ছে গোটা বিশ্ব। তখন কেন পিছিয়ে থাকবে আমাদের প্রাণের খেলাগুলো? আমাদের সকলের একটু চেষ্টাই পারে নতুন প্রজন্মকে এসব খেলার সাথে পরিচিত করাতে। যা আমাদের ইতিহাস আর শিকড়কে টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী একটা মাধ্যম।

সুনামগঞ্জের কৃষক মাহতাব মিয়া জানান, আগে ৫০ পয়সায় জন প্রতি বায়োস্কোপ দেখালেও এখন ১০ টাকায় ও সেটি দেখা যায় না । বরং এটি এখন বিলুপ্তির পথে।

সামিাউল কবির নামের আরেক সংস্কৃতি কর্মী বলেন, বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এই বায়োস্কোপ। এক সময় গ্রাম-বাংলার এমনকি শহরের শিশু-কিশোরদের বিনোদনের মাধ্যম ছিল বায়স্কোপ। কারণ তখন রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের এত প্রসার ছিল না। তাই গ্রামের হাঁট-বাজার বা মেলায় বায়োস্কোপ দেখা যেত। আবার বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরেও এই বায়োস্কোপ দেখানো হতো কিছু পয়সা কিংবা চাল, ডাল, ফল, শস্য বা শাকসবজির বিনিময়ে। কিন্তু এখন এই বায়োস্কোপ বিলুপ্ত প্রায়। নতুন আবিষ্কার ও হাতের কাছে ডিজিটাল সিনেমা দেখার জন্য সহজ লভ্য মোবাইল ফোন, টিভি, ডিভিডি,ল্যাপটপ ইত্যাদির মাঝে “বায়স্কোপ-এর ঠায় হতে যাচ্ছে জাদুঘরে।

তবে হারিয়ে যেতে বসা এই বায়োস্কোপ খেলাকে ধরে রাখতে হবে বলে তিনি জানান। তবে যারা এই খেলা দেখেছেন তারা মনে করেন রঙিন দুনিয়ায় এই পেশায় এখন কেউ আসতে চায় না। কারণ বায়োস্কোপে নানা রং-ঢংয়ের মাধ্যমে বর্ণনা দিয়ে একটি দৃশ্যকে বাস্তবে রূপান্তর করতে হয়, যা একটি কষ্টসাধ্য কাজ। নতুনরা এই কষ্ট স্বীকার করতে আগ্রহী নন। আবার প্রযুক্তি ভিত্তিক নানা বিনোদনের মাধ্যম আসায় বায়োস্কোপের প্রতি আগ্রহও কমে যাচ্ছে লোকজনের। কিন্তু বাংলার সব ঐতিহ্যকে ধরে রাখার ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ কারর জন্য জোড় দাবী জানিয়েছেন সচেতনমহল।

ডেইলি রূপান্তর /এসএম

এ বিভাগের আরো সংবাদ