ক্যাচ ছেড়ে ম্যাচ হারল বাংলাদেশ

কথায় আছে ক্যাচ মিস মানেই যেন ম্যাচ মিস! তার ওপর প্রতিপক্ষ যখন প্রবল শক্তিশালী নিউজিল্যান্ড তখন এমন ভুল ম্যাচ থেকে তো দলকে ছিটকে দেবেই। ক্রাইস্টচার্চে তামিম ইকবাল-মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাটে দল পেয়েছিল লড়াকু পুঁজি। বাংলাদেশের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিততে হলে কিউইদের রেকর্ড গড়তে হতো। নিউজিল্যান্ডের মাঠে প্রথম জয়ের সম্ভাবনাটাও উঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু ফিল্ডাররা যদি হাতে মাখন মেখে নামেন, তবে কি আর প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির দেখা হয়?

হয়নি, ক্রাইস্টচার্চের মাঠে পরে ব্যাট করতে নেমে রেকর্ড গড়া রান তুলে হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তুলে নিয়েছে ৫ উইকটের জয়। সঙ্গে তিন ম্যাচ ওয়ানডের সিরিজটাও নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।

অথচ মঙ্গলবার ভিন্ন কিছুও হতে পারত। শুরুতে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরেছিল টাইগাররা। ১০.৫ ওভারে ৫৩ রান তুলতেই কিউইদের নেই ৩ উইকেট। তারপর ম্যাচে যতটা প্রভাব থাকার কথা ছিল, ততটা হয়নি। ডেভন কনওয়ে ও টম ল্যাথামের ব্যাটে দাপটে এগিয়ে গেছে তারা। বলা ভালো, পথটা করে দিয়েছে বাংলাদেশই।

নিউজিল্যান্ডের তখন রান ১৭১/৩। ঠিক ওই সময়েই হতাশ করেন মুশফিকুর রহিম। তাসকিন আহমেদের পেসে জিমি নিশাম ঠিকঠাক খেলতে পারেননি। বল তার ব্যাট ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটের পেছন। কিন্তু মুশফিক বল গ্লাভসে জমাতে পারেননি। অথচ তার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের জন্য এটা দুরূহ ছিল না আদৌ! কনওয়েকে ফেরানোর পরই নিশামকে তুলে নিতে পারলে ম্যাচটা টাইগারদেরও হতে পারত। নিশাম ৩ রানে জীবন পেয়ে থামেন ৩০-এ!

এরপরই জীবন পান টম ল্যাথাম। বোলার সেই তাসকিন। তখন কিউইদের রান ৩৫.৩ ওভারে ১৭২। এবার ল্যাথাম ব্যাট চালিয়েছিলেন শক্ত হাতে। বল কাভারে দাঁড়ানো মোহাম্মদ মিঠুনের সামনে। কিন্তু মিঠুন ক্যারি করতে পারলেন না। বল তার হাতের ঠিক সামনে পড়ল! সেই ল্যাথাম এরপর সেঞ্চুরি তুলেছেন, দলকে জিতিয়ে ছেড়েছেন মাঠ।

বাংলাদেশের ক্যাচ ফসকানোর গল্প এখানেই শেষ নয়। কিউই ইনিংসের ৩৬.৩ ওভারে যে ভুল করলেন মেহেদী হাসান, সেটা আন্তর্জাতিক ম্যাচে বড্ড বেমানান। পাড়ার ক্রিকেটেও এমন মিস হাস্যরসের জন্ম দেয়। ফ্ল্যাট বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়েছিলেন ল্যাথাম। বল সোজা বোলার মেহেদীর হাতে। কিন্তু বিস্ময়করভাবে বলটা হাতে রাখতে পারলেন না তিনি। ল্যাথাম এমন জীবন পেয়ে সুদে-আসলে সুযোগটা কাজে লাগালেন। তুলে নিলেন শতরান। দলকে জিতিয়েই ফিরলেন সাজঘরে! এখানেই শেষ নয়, সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট করার সুযোগ ছিল কয়েকটি। কিন্তু কোনো কাজেই লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।

এমন দৃষ্টিকটু ফিল্ডিংয়ের পর আসলে জয় প্রত্যাশা করতে পারে না বাংলাদেশ। শেষ অবধি হেরেই মাঠ ছাড়তে হলো তামিমদের। ব্যাটসম্যানরা যে সম্ভাবনার পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন, ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় সর্বনাশ! এখন ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের শঙ্কায় দল। শুক্রবার সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে কিউইদের সঙ্গে লড়বে বাংলাদেশ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ