সারাদেশে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আছে বলে বঙ্গবন্ধু উৎসব হচ্ছে

বঙ্গবন্ধু উৎসবে অধ্যাপক ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য অধ্যাপক ডf. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন,‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। আমরা সার্বভৌম বাংলাদেশ পেতাম না। বাঙালি জাতির নির্দিষ্ট মানচিত্রও তৈরি হতো না। আজকে আমরা বাংলাদেশ পরিচয়ে বিদেশের দূতাবাসে, বাংলাদেশী পরিচয়ে কর্মযজ্ঞ চালাতে পারতাম না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তাই বঙ্গবন্ধুর এ ঋণ কোনো দিন শোধ করার নয়। দিনবদলের এই সময়ে যার যার অবস্থান থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনা করতে হবে। গত ১৮ মার্চ সিলেট জেলা পরিষদের আয়োজনে বঙ্গবন্ধু উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. মোর্শেদ বলেন, এদেশে যেমন ভালো মানুষ ছিলো তেমনি মিরজাফর ছিলো। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর শুরু হল ইতিহাস বিকৃতি। পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টের পর থেকে এই বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ হয়ে গেল। বঙ্গবন্ধুর সব ইতিহাস নিষিদ্ধ হয়ে গেল। সেই পরিস্থিতিতে কিছু ক্ষমতালোভী স্বাধীন বাংলায় সেনাশাসনকে বাঙালির বুকের উপর চাপিয়ে দিল।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে এসে প্রধান মন্ত্রী শেখহাসিনা বাংলাদেশকে নতুন পথের আলো দেখিয়েছিলেন, যখন তিনি ক্ষমতায় আসলেন তখন জনগণ আবারো দেশের সঠিক ইতিহাস জানলো। সেই ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

ডা.মোর্শেদ বলেন. স্বাধীনতাবিরোধী পরাজিত অপশক্তি এখনও দেশকে ধ্বংসের জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সারাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যত উন্নয়ন হয়েছে, উন্নয়ন সবার সামনে আজ দৃশ্যমান। তিনি জাতীয় চার নেতার দেখানো পথ অনুসর করে দেশের উন্নয়ন কাজে কাজ করার আহ্বান জানান,

তিনি বঙ্গবন্ধুর জন্ম রাজনীতি ও জনসেবার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তার আদর্শ আমাদেও কে প্রেরণা যোগায় তিনি ইতিহাসের শ্রেষ্ট মানুষ তাকে অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন,সারাদেশে মুজিবের আদর্শ আছে বলে আজ এই উৎসব হচ্ছে। সমগ্র দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জিবিত হয়ে দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত আছে। যারা বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস মুছে ফেলতে চেয়েছিল তারা আর পারবে না। এক মুজিব লুকান্তরে লক্ষ মুজিব ঘরে ঘরে।

ডা.মোর্শেদ বলেন,‘বঙ্গবন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে সব সূচকে অগ্রগতি, সাফল্য আর উন্নয়নের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এ সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুত্তি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন দেশের ভেতর-বাইরে প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন শুধু উন্নয়নের রোল মডেলই নয়, একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবেও প্রশংসিত।

ডা.মোর্শেদ বলেন, স্বাধীনতার ডাক কে দিয়েছিলো? বঙ্গবন্ধু নিজের জীবন বাজি রেখে দেশের কথা চিন্তা করে ধাপে ধাপে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা দেশের হাল ধরেছেন বলে যে দেশ তলানীতে ছিলো সে দেশ আজ মধ্যেম আয়ের দেশ,বর্তমান সরকার ৪১ সাল পর্যন্ত থাকলে এই দেশ উন্নত মহাদেশে রূপান্তরিত হবে। তিনি বলেন, দিনবদলের এই ডাকে জঙ্গি মুক্তু সন্ত্রাসমুক্ত দেশে গড়ার পাশাপাশি যার যার অবস্থান থেকে স্বপ্নর সোনার বাংলা গড়তে হবে।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত’র পরিচালনায় এসময় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্যে রাখেন, একুশে পদক প্রাপ্ত ফটো সাংবাদিক,পাভেল রহমান,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্যে রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক মো. ফজলুল কবীর, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবজিৎ সিংহ, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সিলেট বিভাগের সাধারণ সম্পাদক নিলান্জনা যুঁই।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিবৃন্দ কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান,নেতৃবৃন্দ। পরে মুক্তিযুদ্ধের বাতিঘর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গীতি নৃত্যালেখ্য পরিবেশন করা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ