বাংলাদেশ দলকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ভেট্টোরি

তামিম, মুশফিক, রিয়াদ, লিটন, সৌম্যরা কুইন্সটাউনে এসে পৌঁছেছেন আগের দিনই। ১৪ দিন পর অবশেষে সবাই মিলে একসাথে অনুশীলন করলো টাইগার ক্রিকেটাররা।

কুইন্সটাউনের জন ডেভিস ওভালে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত মধ্যরাত আড়াইটায়) অনুশীলন শুরু হয় বাংলাদেশ দলের।

বিসিবি মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম জানিয়েছেন, যেহেতু পুরো দল একত্রে আজই প্রথম অনুশীলন করেছে, তাই অন্যদিনের চেয়ে আজকের প্র্যাকটিসের দৈর্ঘ্যটা একটু বেশিই ছিল। পুরো ৪ ঘণ্টা প্র্যাকটিস করেছেন ক্রিকেটাররা।

বৃহস্পতিবারের এ প্র্যাকটিস সেশনের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। দীর্ঘদিন পর আজ বাংলাদেশ দলের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন এ কিউই স্পিন বোলিং কোচ।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সেই গত বছর মার্চে করোনার ভয়াল থাবা শুরুর পর থেকেই টিম বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন ভেট্টোরির। হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো, পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসন, ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক, ট্রেনার নিক লি, ব্যাটিং কোচ জন লুইসরা এর আগেও বাংলাদেশে এসেছেন; কিন্তু ভেট্টোরি গত ১২ মাসে একবারের জন্যও বাংলাদেশে আসেননি। কোচিং করানোর তো প্রশ্নই আসে না।

অবশেষে এবার নিজেদের মাটিতে টাইগারদের কোচিং করানোর সুযোগ হাতছাড়া করেননি নিউজিল্যান্ডের এ সাবেক অধিনায়ক। নিজ মুখেই জানিয়েছেন, প্রায় দেড় বছর পর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কাছে পেয়ে, তাদের ট্রেনিং করিয়ে খুব ভাল অনুভব করছেন তিনি।

ভেট্টোরি বলেন, ‘সত্যি ফিরতে পেরে খুবই ভাল লাগছে, বিশেষ করে কুইন্সটাউনে বাংলাদেশের ছেলেদের সঙ্গে। প্রায় এক-দেড় বছর পর ছেলেদের দেখে খুব রোমাঞ্চিত আমি।’

স্পিনারদের সাথে নেটে কাজ করার মুহূর্তটা তার বেশি ভাল লেগেরছে। তাই মুখে এমন কথা, ‘ভাল লেগেছে পরিচিত মুখ দেখে। বিশেষ করে স্পিনারদের সঙ্গে নেটে ফিরতে পেরে। বেশ লম্বা সময় পার হয়ে গেছে। যে কোনো খেলা বা আউটডোরে যে কোনো কিছুই দারুণ এখন, নিউজিল্যান্ডের ভাগ্য খুবই ভাল, খেলা চালিয়ে যেতে পারছি আমরা এখানে। বাংলাদেশ সিরিজ সেটিরই ধারাবাহিকতা হতে যাচ্ছে।’

সবাই বলে নিউজিল্যান্ডের ‘উইন্ডি’ কন্ডিশন পেসার সহায়ক। সেখানে প্রচন্ড ঠান্ডা আর কনকনে বাতাসে বাড়তি গতি আর সুইং দুই’ই হয়। কিন্তু ভেট্টোরির ধারণা, এখানে স্পিনাররাও সফল হতে পারে। তার অনুভব, নিউজিল্যান্ডেও স্পিনাররা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

অতীতের কিছু উদাহরন টেনে ভেট্টোরি বলেন, ‘আমার মনে হয় স্পিনের একটা বড় ভূমিকা থাকবে, বিশেষ করে মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধিরা অস্ট্রেলিয়া সিরিজে যেমন করেছে, এমনকি অ্যাশটন অ্যাগার, অ্যাডাম জাম্পাদেরও ভূমিকা ছিল।’

ভেট্টোরির আশা, বাংলাদেশের মিরাজ, মেহেদি হাসানরাও এখানে কার্যকর হতে পারে। ‘সবাই জানে সীমিত ওভারে স্পিন কতোটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে মিরাজ, সে যেমন অভিজ্ঞ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে সিরিজে বেশ ভাল করেছে, সে অনেক বড় ভূমিকা পালন করবে। তার সঙ্গে মেহেদি, নাসুম আছে। আমি মনে করি তারা দলে জায়গা করে নিয়ে অবদান রাখতে পারে।’

তামিমের অধিনায়কত্বটা দলের জন্য প্লাস পয়েন্ট বলে মনে হয় ভেট্টোরির। কারন বাংলাদেশ এই সফরে (ওয়ানডে সিরিজে) এসেছে তামিমের অধিনায়কত্বে। সে খুবই খোলামেলা মানসিকতার। এর আগেও নিউজিল্যান্ডে কঠিন সফরের অংশ নিয়েছিল সে। সে জানে এখানে কী পরিকল্পনা কাজে আসেনি। এখানে কী কাজে লাগতে পারে- সেটা নিয়ে সে ইতিবাচকভাবে কাজ করছে। আমার মনে হয় এখান থেকে শুরু করাই আদর্শ। বাংলাদেশ এবার চেষ্টা করবে। আমরা জানি নিউজিল্যান্ড খুবই ভালো দল। আশা করি আমরা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিখব।’

 

 

 

ডেইলিরূপান্তর/আরএফ/ডি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ