সিলেটে কয়েলের ধোঁয়া তোয়াক্কা করছে না মশা: নীরব সিসিক

সিলেট নগরীতে মশার উৎপাত বেড়েই চলেছে। শীত একটু কমার সাথে-সাথে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে জনজীবন।

দিন-রাত বা উচ্চতা, রাস্তা-ঘাট বা ঘর, কিছুতেই কোনো সমস্যা নেই। দলবল নিয়ে পোঁ পোঁ শব্দে রক্তের সন্ধানে সারাক্ষণই চলছে অভিযান। এদিক-সেদিক কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি শেষে শিকার ঠিক করেই ফুটিয়ে দিচ্ছে হুল। এই হলো এখন সিলেট নগরীর চিত্র। ক্ষুদ্র মশার উপদ্রবে রীতিমতো অসহায় এ সিলেট সিটির মানুষ।

মশা ঠেকাতে কয়েল জ্বালিয়ে, অ্যারোসল দিয়েও কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন অনেকে। জ্বলন্ত কয়েলের ধোঁয়ার ওপর দিয়েই ঘুরছে মশা। দিনের বেলাতেও মশারি টাঙাতে হচ্ছে অনেককে।

মশার জ্বালায় অতিষ্ঠ নগরীর ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাজেরা খাতুন হ্যাপি ও তারস্বামী রাজু মিয়া জানান, মশার জ্বালায় বাইরের দিকের জানালা-দরজা বন্ধ রাখতে হয়, বন্ধ থাকার কারণে দিনের আলো বাতাসও কিছুই দেখতে পাই না। বাসায় কয়েল জ্বালাই, অ্যারোসল দিই, তবুও মশার কোনো কমতি নেই। কিছুই কাবু করতে পারছে না মশাদের।

তবে মশার উৎপাত ঠেকাতে সিসিকের গতিশীল কার্যক্রম না থাকায় সিলেট সিটি কপোরেশনের ব্যর্থতাকে দোষছেন বাসিন্দারা। এ ব্যাপারে কথা হয়-নগরীর আম্বরখানা এলাকার বাসিন্দা সঞ্চয় দাসের সাথে। তিনি জানান-মশার উপদ্রবের কারণে দিনের বেলাতেও শান্তিতে থাকার উপায় নেই।

কয়েল দিলেও কোন কাজ হচ্ছে না।কয়েল এর উপর আরো আরাম করে মশা বসে থাকে, মশারি লাগিয়ে রাখতে হচ্ছে। আমার বাসায় ছোট বাচ্চা আছে তো, এর জন্যই বেশি প্রবলেম হচ্ছে। সন্ধ্যার পরেও যদি রাতে নয়টা-দশটার দিকে জানালা-দরজা একটু খুলি, মশায় সারা ঘর ভরে যায়। তিনি জানান, বেশ কয়েক মাস ধরে ওই এলাকায় দেয়া হয়নি মশা মারার কোন ঔষধও ।

মশার উপদ্রবের ঠিক একই চিত্রের কথা তুলে ধরেন নগরীর সুবিদ বাজার এলাকার বাসিন্দা ইমতিয়াজ হাসান জাবেদ। তিনি বলেন, আমি একজন প্রবাসী গত একমাস হলো আমি দেশে এসেছি। কিন্তু এই এক সপ্তাহে আমার এলাকায় মশার যে পরিমান যন্ত্রণা আমি দেখছি, এতে করে এখানে সুস্থ থাকার কোন উপায় নেই। নিজ তলা থেকে পাঁচ তলা সব জায়গায় একই অবস্থা। মৌচাকের মতো মশার মিছিল, আর যে জায়গায় কামড় দেয় সেই জায়গা লাল হয়ে দাগ পড়ে এবং ফুলে যায়। বিশেষ করে বাচ্চাদের বেলায়। একেতো করোনার ভয় এর মাঝে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে আছি।

আইন শৃংখলা রক্ষায় যারা নিয়মিত কামান দাগা করেন, তাদেরকে উল্টো কামান দাগিয়ে বেড়াচ্ছে মশা বাহিনী। অনেকটা দলবেধে হানা দেয় বলে জানালেন আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মফিজুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের দিন রাত ২৪ ঘন্টা কাজ করতে হয়। অফিসে বসে কাজ করাই দায় হয়ে পড়েছে মশার যন্ত্রণায়। একটু বিশ্রাম নিবেন সে

টাও সম্ভব হয় না। একই অভিজ্ঞতা অন্যান্যদেরও । বাসা কিংবা অফিসে, সর্বত্রই যন্ত্রণার নাম মশা।
মশার উৎপাত ঠেকাতে সিলেট সিটি কপোরেশনের ব্যর্থতাকে দোষছেন সচেতন নাগরিকরা। এ ব্যাপারে সুশানের জন্য নাগরিক (সুজন) সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- নগরীতে মশার উৎপাত বেড়ে চলেছে, এ ব্যাপার কোন খেয়াল নেই সিলেট সিটি কপোরেশন কর্তৃপক্ষের। দেশবাসী এখনও ডেঙ্গু আতঙ্কমুক্ত হতে পারেনি। বাড়ির ভেতরে ও বাইরে জমা পানিতে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। এছাড়া যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে রাখার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। নগরবাসীর অনেকেই সচেতন হচ্ছে না। সেই সাথে যারা এই নগরীর দায়িত্বে রয়েছেন তাদেরও কোন খেয়াল আছে বলে মনে হয় না। যে কারণে নগরবাসীর ভোগান্তি আরো বাড়ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলদের আরো সচেতন হতে হবে। তাদের মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকাবাসীকে সচেতন করতে হবে, কেউ যদি যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে তার উপর জরিমানা করতে হবে, তা না হলে এই মশার উৎপাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। আর সিটি কপোরেশনের মাধ্যমে মশার ঔষধের ব্যবস্থা করা স্থানীয় কাউন্সিলরদের দ্বায়িত্ব। এ বছর মশা নিয়ন্ত্রণে এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় নি বলে আমার মনে হয়। ঠিক সময় মতো যদি ব্যবস্থা গ্রহন করা না হয় তাহলে মশা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না। তাই এ বিষয় এ স্থানীয় কাউন্সিলদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ ব্যপারে কাউন্সিলরদের সাথে কথা বললে- সিলেট সিটি কপোরেশনের পাঁচ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ জানান – আমি আমার ওয়ার্ডে বর্তমানে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করছি, সব এলাকায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হলে আমি মশার ঔষধের ব্যবস্থা করবো। কত দিন পরে জানতে চাইলে তিনি বলেন- এটা তো বলতে পারবো না । এই বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কি না তা সিটি কপোরেশনের মেয়র মহোদয় বলতে পারবেন।

এ ব্যপারে সিলেট সিটি কপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হতে হয়। গত দু’দিন থেকে অনেক বার তার মোবাইল ফোনে সহ বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু কোন ধরনের সাড়া পাওয়া যায় নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ