ডিসি অফিসে চাকরি পেলেন তৃতীয় লিঙ্গের জনি ও মারুফ

রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ইলেক্ট্রো মেডিক্যালে ডিপ্লোমা করেছেন মারুফ। কিন্তু তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর সদস্য হওয়ায় ভাল কোন চাকরি পাচ্ছিলেন না। ভুগছিলেন চরম হতাশায়। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুল জলিল তার হতাশা দূর করে দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক মারুফকে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি দিয়েছেন নিজের কার্যালয়ে।

শুধু মারুফ একাই নন, জনি হোসেন নামের তৃতীয় লিঙ্গের আরেক জনের চাকরি হয়েছে রাজশাহী ডিসি অফিসে। অষ্টম শ্রেণি পাস করা জনি চাকরি পেয়েছেন অফিস সহায়ক হিসেবে। তাদের দুজনকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখায় পোস্টিং দেয়া হয়েছে।

গত শনিবার নিজের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক তৃতীয় লিঙ্গের দুজনকে চাকরি দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যতদিন পর্যন্ত তাদের স্থায়ী করা না যাবে ততদিন তারা জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বেতন পাবেন।

চাকরি পাওয়া জনি হোসেন বলেন, সবাই খুব ভালো আচরণ করছেন। আমার তো খুবই ভাল লাগছে। খাতাপত্র কোথায় কোথায় নিয়ে যেতে হবে সেগুলো আজ বুঝে নিলাম। পাশাপাশি কিছু নাস্তা-পানি নিয়ে যাওয়া আসার কাজ করেছি। তিনি বলেন, কখনও খেয়ে কখনও না খেয়েই দিন চলে গেছে। এখন চাকরি পেয়ে কতটা ভালো লাগছে সেটা ভাষায় প্রকাশ কারতে পারব না।

চাকরি পেয়ে নগরীর ডিঙ্গাডোবা এলাকার বাসিন্দা মারুফ বলেন, ‘আমি ইলেক্ট্রো মেডিক্যালে পড়াশোনা করলেও কম্পিউটারের কোর্স করেছি। এখানে নতুন চাকরিতে এসে খুব ভালো লাগছে। এখানে স্যারেরা খুব ভালো।

এ বিষয়ে, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, রাজশাহীতে প্রকৃত তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর সদস্যদের শনাক্ত করে পর্যায়ক্রমে তাদের যোগ্যতানুসারে বিভিন্ন স্থানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। দুই জনকে আমার অফিসে মাস্টার রোলে নিয়োগ দিলাম। এটি একটি যুগান্তকারী অধ্যায় হয়ে থাকবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ