শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবীতে রাজপথে সিলেটের শিক্ষার্থীরা: ২ দিনের আল্টিমেটাম

করোনার ১১ মাসে, অস্তিত্ব সংকটে

অবশেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবীতে রাজপথে নামলেন,সিলেটের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাস্তায় নেমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে সিলেটে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। রাজপথে নামার কারন হিসেবে জানিয়েছেন করোনা প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ সে জন্য এতো আয়োজন।

একদিকে যেমন অস্থিত্ব সংকটের কবলে সিলেটের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের বিদ্যাসাগর ও বন্ধ। ফলে গতকাল দেড় ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের পর দুদিনের আল্টিমেটাম দিয়ে  মানববন্ধন তুলে নেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রয়ারি) দুপুর ১২টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা চৌহাট্টায় বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা প্রায় ১ ঘন্টা চৌহাট্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রনালয় বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এম.সি কলেজ গণিত বিভাগের মাস্টার্স পরীক্ষার্থী আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন নিন্টু মালাকার, দোয়েল রায়, শ্যামলী দাস, গোলাম কিবরিয়া, সৈয়দ আকমল হোসাইন, মোহাম্মদ হোসাইন, শাহ রোকনুজ্জামান রোখন, সৈকত ভৌমিক, তানজিনা বেগম, সাগর আহমদ, আব্দুল­াহ আল তুহিন, একেএম জুমায়েল বক্স, মনিরা ইয়াছমিন, আব্দুল­াহ আল শাহেদ, এনামুল ইমাম, উমা সরকার, আরএস শাওন, দেবল পাল, ফারজানা খানম জেবিন সহ আরো শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও প্রায় ৫ শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


শিক্ষার্থীরা বলেন, যেখানে সারা দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা থেকে শুরু করে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে দেশের শিক্ষাখাতকে ধ্বংস করার পায়তারা হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা- অবিলম্বে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জোর দাবি জানান। রাজধানীর শাহবাগ ও চট্টগ্রামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের হামলা ও গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তি দাবি করা হয়।

আগামী ২৭ ফেব্রয়ারি শনিবারের মধ্যে তাদের দাবি না মানা হলে শনিবার বেলা ১১টায় সিলেট নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচী, প্রতিকী পরীক্ষা পালন করা হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এ আন্দোলনে সিলেটের বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

এছাড়াও মানববন্ধন ও বিক্ষোভে এমসি কলেজ, দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজ, সিলেট সরকারি কলেজ, মদন মোহন কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, মঈন উদ্দিন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচি পালনকালে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী গোল বৃত্তবন্দি হয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে চারদিকের রাস্তায়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে স্লোগানে স্লোগানে তাদের দাবিগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

মানবব্ন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান মাস্টার্সসহ সকল পরীক্ষার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষা মেনে দ্র”ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ছাত্রাবাস খুলে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। এদিকে, কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর তাদের দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে দেবেন জানান শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত:করোনাভাইরাস সংক্রমণের ১১ মাসে অস্তিত্ব সংকটের কবলে পড়েছে সিলেটের প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। টিউশন ফি ভিন্ন পদ্ধতিতে আদায় হলেও নানা টালবাহনায় ছাটাই করা হচ্ছে শিক্ষকদের। এতে মানবিকতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। এমনটি জানিয়েছেন মানুষ গড়ার কারিগররা। কেউ কেউ মুখ খুললে ও অনেকে সামাজিক দায়কদ্ধতার কারণে চুপ।

জানাগেছে,সিলেটের অসংখ্য প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেকে নামমাত্র বেতনে শিক্ষককতা করছেন। এতে কিছুটা বেঁচে থাকার খোড়াক মিলে। এমন প্রেক্ষাপটে করোনা পরিস্থিতিতে এই শিক্ষকরা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরাও এখন চরম বিপাকে ।

তবে মহামারীর ১১ মাসে দেশের ৬০ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ স্কুল খুলে দেয়ার পক্ষে। তবে ৫২ শতাংশ মানুষ স্কুল খুলে দেয়ার পর সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কার কথা বলেছেন। এছাড়াও দেশের প্রায় ৫৫ শতাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে নিরাপদ বোধ করছেন না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ