বাংলাদেশের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার যখন সিলেট

নগরীর সিলেটস্থ চৌহাট্টায় পূর্ণ নির্মাণের শেষের দিকে বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর শহীদ মিনার । ১০০ফুট উচ্চতা ভূমির ওপর ৪৫ফুট উচ্চতার স্তম্ভটির মাধ্যমে আন্দোলিত ভূমি থেকে জেগে ওঠা বাঙালির আবহমান সংগ্রামী চেতনাকে উপলক্ষ করে শহীদ মিনারের নকশাটি তৈরি করা হয়েছে।

শহীদ মিনারটি দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ প্রায় শেষের দিকে ।

শহীদ মিনারটির কাজ শেষ হওয়ার আগেই মানুষের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে মূল স্তম্ভের পাশাপাশি শহীদ মিনার এলাকায় মুক্তমঞ্চ রাখা হয়েছে। আছে বাগান, প্রদর্শনী কেন্দ্র , পাঠাগার, ব্যাক স্টেইজ, অনুশীলন পরিসর, ড্রেসিং রুম। শহীদ মিনার চত্বরে থাকবে সিঁড়ি।

শহীদ মিনারের আন্ডার গ্রাউন্ডে প্রায় চারশ’ মানুষ বসার মতো জায়গা রাখা রয়েছে। শহীদ মিনারের স্তম্ভের পেছনে অনেকটা সবুজ টিলার মতোই উঁচু-নিচু আন্দোলিত ভূমি । স্তম্ভের মধ্যে লাল গোলাকৃতি বস্তুটি যেন সূর্যোদয়ের মাধ্যমে নতুন বার্তা জানান দিতে পুনরায় নির্মিত শেষের দিকে সিলেটের এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।


১৯৮৮ সালে সিলেট ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক হিসাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার স্থাপন করা হয় । সিলেটের কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কিছু প্রতিশ্রুতিশীল মানুষ তখন সেই শহীদ মিনারের তৈরি করেন। তারপর থেকে সেই শহীদ মিনারই সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মর্যাদা লাভ করে।

কিন্তু ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সিলেট নগরীতে হেফাজতে ইসলামের মিছিল থেকে বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালায়।


তারপর এই শহীদ মিনারটি পুন:নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়। আধুনিক স্থাপত্যে নির্মিত শহীদ মিনারটির দৃষ্টিনন্দন নকশা এঁকেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষক শুভজিত চৌধুরী। তার সহযোগী স্থপতি হিসেবে কাজ করেছেন কৌশিক সাহা, মো. সিপাউল বর চৌধুরী, ধীমান চন্দ্র বিশ্বাস ও জিষ্ণু কুমার দাস। প্রকৌশলী হিসেবে আছেন হুমায়ূন খান ও দেবাশীষ ভট্টাচার্ ।

লেখাঃ সুমন চৌধুরী

এ বিভাগের আরো সংবাদ