কে সেই যুবক,যে সিসিক মেয়রের দিকে বন্দুক নিয়ে তেড়ে আসে!

সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) কর্মী ও পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষ চলাকালে বন্দুকসহ এক পরিবহন শ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ। সিসিকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর দিকে বন্দুক নিয়ে তেড়ে যান। পরে পুলিশ তাকে ধাওয়া করে আটক করে।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর একটার দিকে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ নিয়ে এ সংঘর্ষ বাঁধে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আবু ফরহাদ বলেন, পুলিশ আধঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়া হয়। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ফয়সল আহমদ ফাহাদ (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ শাখা জানায়, আজ দুপুরে কাউন্সিলর, ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিস্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সড়কের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে যান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় তিনি দেখতে পান পরিবহন শ্রমিকরা তখনও সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গাড়ি পার্কিং করে রেখেছেন। এসময় মেয়রসহ সিসিকের কর্মকর্তারা সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু করতে চাইলে তারা বাধা দেন। এনিয়ে আলাপচারিতার একপর্যায়ে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালায় পরিবহন শ্রমিকরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পরিবহন শ্রমিকদের হামলার পর পর সিটি করপোরেশনের কর্মীরাও পাল্টা হামলা চালায়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে পুলিশের উপরও হামলা চালায় শ্রমিকরা। এসময় অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাংচুর করা হয়। এবং চৌহাট্টা-আম্বরখানা, চৌহাট্টা-রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা-মিরবক্সটুলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম শাহ বলেন, মেয়র, কাউন্সিলর ও ম্যাজিস্ট্রেটদের সাথে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে পরিবহন শ্রমিকরা আচমকা হামলা চালায়। এসময় কাউন্সিলরসহ সিসিকের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, হামলার একপর্যায়ে বন্দুক নিয়ে একজন মেয়রের দিকে তেড়ে আসে। পুলিশ সাথেসাথে তাকে আটক করেছে। আমাদের আশঙ্কা মেয়রকে হত্যার উদ্দেশ্যই সে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসেছিলো।

এরআগে বুধবার সকাল থেকে অবৈধভাবে দখলে থাকা গাড়ির স্ট্যান্ড না ছাড়ার জন্য পরিবহন শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে সিসিকের উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ (ট্রাফিক) কমিশনার ফয়সল মাহমুদ বলেন, সরকারি রাস্তা দখল করে যানবাহন রাখা হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে। কিন্তু সম্প্রতি সিসিকের উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ায় চৌহাট্টাস্থ এলাকার অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ড সরানোর জন্য বলা হলেও শ্রমিকরা যানবাহন না সরিয়ে বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আন্দোলন শুরু করে। এক পর্যায়ে সিসিকের কর্মী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ