সিলেটে একই সীমানার ভেতরে গড়ে উঠেছে চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সিলেটে একই সীমানার ভেতরে গড়ে উঠেছে চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দেখাগেছে প্রথমে একটি ঈদগাহকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তারপর একই সীমানার ভেতরে গড়ে উঠে আরও তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখন সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় আলো ছড়াচ্ছে এই চার বিদ্যাপীঠ। বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুড় ইউনিয়নের চান্দাইরপাড়া গ্রামের এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নজর কেড়েছে সবার।

চান্দাইরপাড়া গ্রামে ঢুকলেই চোখে পড়বে সড়কের দু’পাশে সারি সারি বাড়ি আর বৃক্ষের রাজত্ব। গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে গড়ে ওঠা এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন ‘আলোর বাতিঘর’। গ্রামটি এলাকার মানুষের কাছে ‘শিক্ষাপল্লী’ নামে পরিচিত।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামের ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার কথা চিন্তা করে ১৯৩৪ সালে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ‘মিয়া চান্দাই (রহ.) ও মিয়া রাস্তি’র (রহ.) নামে একটি ঈদগাহ নির্মাণ করা হয়। এরপর এলাকাবাসীর অনুদানে একে একে গড়ে তোলা হয় চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি ঈদগাহের পূর্ব দিকে চান্দাইরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৫৩ শতক ভূমির ওপর নির্মিত বিদ্যালয়ে নতুন পুরাতন মিলিয়ে চারটি ভবন রয়েছে। যদিও শিক্ষার্থী অনুপাতে পর্যাপ্ত ভবনের সংকট রয়েছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা সাড়ে ৬০০। ১৫ শিক্ষকের ১১ জন এমপিওভুক্ত।

বিদ্যালয়ের সভাপতি বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বোয়ালজুড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনহার মিয়া বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় এলাকার মানুষের অবদান অনস্বীকার্য। যারা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছিলেন তাদের মধ্যে আজ অনেকেই বেঁচে নেই। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিদ্যালয়টির অগ্রযাত্রায় এলাকাবাসীর সহযোগিতা রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশীল চন্দ্র নাথ বলেন, বিদ্যালয়ে আরও ভবনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পর্যাপ্ত ভবন না থাকায় শ্রেণিকক্ষ সংকটে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শাখা পৃথক করা যাচ্ছে না। এলাকার কয়েকজন প্রবাসী ভবন করে দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।

এই বিদ্যালয়ের পশ্চিম দিকে অবস্থিত চান্দাইরপাড়া সুন্নিয়া হাফিজিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। ১৯৮০ সালে হাফিজি শাখা দিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া মাদ্রাসাটি ২০০ শতক ভূমির বিদ্যমান। রয়েছে সাতটি ভবন। দাখিল, আলিম ও ফাজিল মিলিয়ে ৬০০ শিক্ষার্থীকে পড়ানো হয়। শিক্ষক রয়েছেন ২১ জন। এর মধ্যে ১৬ জন শিক্ষক এমপিওভুক্ত।

মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. ছরওয়ারে জাহান বলেন, এমপিওভুক্তের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও অজানা কারণে আলিম শাখা এমপিভুক্ত করা হয়নি। আলিম ও ফাজিল শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বছরে প্রায় ১২ লাখ টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। এছাড়া ৩০০ শিক্ষার্থীর ধারণক্ষমতার একটি ছাত্রাবাস করা একান্ত প্রয়োজন। মাদ্রাসার উন্নয়নে যে কেউ আগ্রহী হয়ে এক লাখ টাকার অনুদান দিলে তিনি আজীবন দাতা সদস্য হওয়ার সুযোগ পাবেন।

উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদরাসার মধ্য স্থানে অবস্থিত গ্রামের প্রাচীন শিক্ষা বিদ্যাপীঠ চান্দাইরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৩৯ সালে এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৩০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করা হয়। রয়েছেন পাঁচজন শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রউফ বলেন, ২০১৬, ১৭ ও ১৮ সালের পিইসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি শতভাগ ফলাফল অর্জন করে। এর মধ্যে ১৬ সালে আটজন এ প্লাসসহ ট্যালেন্টপুলে তিনটি ও একটি সাধারণ বৃত্তি লাভ করে। ১৮ সালে তিনজন এ প্লাসসহ ট্যালেন্টপুলে একটি ও সাধারণ একটি বৃত্তি লাভ করে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ দিকে এবং বিদ্যালয়ের ঠিক সামনে রয়েছে রেনেসা কিন্ডারগার্টেন। কিন্ডারগার্টেনের ভাইস প্রিন্সিপাল আব্দুল হাফিজ জুয়েল বলেন, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে নার্সারি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শতাধিক শিশু পড়ে। ফলাফলের হারও সন্তোষজনক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ