উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে সিলেটে চলছে নিষিদ্ধ যানবাহন

 মুল সড়ক বন্ধ  অলিতে গলিতে বাড়ছে যানজট

নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজিবাইকের চাপে সিলেট নগরীর এখন যানজট ও দুর্ঘটনার নগরীতে পরিণত হয়েছে। তবে যানজট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে প্রশাসন। সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরীর স্টেশন রোড, সিলেট মেডিক্যাল গেটের সামনে, সড়কগুলো থাকে ইজিবাইকের দখলে। অসহনীয় যানজট ছড়িয়ে পড়ে মূল সড়ক থেকে অলিগলিতে।

এদিকে নয়া বছরের শুরুতে সিলেট নগরীর কেন্দ্রস্থল কে যানজটমুক্ত করতে চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার-বন্দরবাজর সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশ। একই সঙ্গে ওই সড়কে অবৈধ আওতায়। কিন্তু এদিকে যখন শৃংখলা এসেছে অন্যদিকে বেড়েছে সেই নিষিদ্ধ গাড়ি।সেটির নাম অটো রিকশা। যেটি শুধু বিদ্যুতের ন্যায় চলে। ফলে মূল সড়কেযাত্রী না আসার কারনে এবং ফ্রন্ট লাইনের ট্রাফিকরা না দেখার কারনে সিলেটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার উৎপাত বাড়ছেই। বিশেষ করে অলিতে গলিতে এর বড় মহামারি চলছে।

কোনো অবস্থাতেই তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছেনা। বিগত দিনে ট্রাফিক পুলিশ প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫টি অটোরিকশা আটক করলেও এখন দিনে এবং রাতে তাদেও রাজত্ব কায়েম করছে। রাজপথ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আরো শতশত অটো রিকশা। তাদেও গন্তব্য জল­ার পার থেকে মদিনা মার্কেট এবং মদিনা মার্কেট থেকে নগরীর অন্যান্য জায়গায় তাদের দেখা মিলে।

সিলেট মহানগরীর যানজট দুর্ভোগের জন্য দায়ী কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। সিলেট সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্লেট নিলেও তারা সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোয় নিয়মিত চলাচল করছে। বিশেষ করে যেসব পাড়া বা মহল­ায় ট্রাফিক পুলিশ নেই তেমন ছোটছোট রাস্তাগুলো সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব ত্রি-চক্রযান দখল করে রাখে। এতে নগরবাসীর রিকশা সংকট কিছুটা লাঘব হলেও যানজট আর ছোটখাটো দুর্ঘটনা প্রায় লেগেই থাকছে। তাদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার কোন উপায়ও নেই।

জানাযায়, অটো রিকশায় পরিবহনের জন্য সিটি করপোরেশনের কোনো নিবন্ধন নেই। এরপরও প্রকাশ্যে ট্রাফিক পুলিশের চোখের সামনে সিলেট নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল­া দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কয়েক হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা। অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে নগরবাসী। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনাও।

নগরবাসীর ভাষ্য, নগরে প্রচুর নিবন্ধনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এর আধিক্য সবচেয়ে বেশি নগরের ২৭টি ওয়ার্ডের কমবেশি সব পড়া-মহল­াতেই। এর বাইরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও এসব যান চলতে দেখা যায়। অথচ অবৈধ রিকশা উচ্ছেদে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ কিংবা ট্রাফিক পুলিশ কোনো ভূমিকাই নিচ্ছে না।

এব্যপারে সিসিক সুত্র বলছে শীগ্রই অভিযানে নামবে তারা। গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, নাইওরপুল, শিবগঞ্জ, সোবহানীঘাট, উপশহর, পাঠানটুলা, সুবিদবাজার, চৌকিদেখী, শাহি ঈদগাহ, কদমতলী, ভার্থখলা, হুমায়ুন রশীদ চত্বর, সুরমা মার্কেট, তালতলা, কিনব্রিজ এলাকা, তোপখানা, কাজীরবাজার, শেখঘাট, লামাবাজার, রিকাবীবাজার, কাজলশাহ, বাগবাড়ি, টিলাগড়, লোহারপাড়, কুমারপাড়া, নয়াসড়ক এলাকায় অবাধে ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা চলাচল করছে।

অনুসন্ধানে দেকা যায়, নগরের মদিনা মার্কেট থেকে কালীবাড়িগামী সড়কে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে ৪০টি ব্যাটারিচালিত রিকশাকে চলাচল করতে দেখা গেছে। সাড়ে ১২টা থেকে পৌনে একটা পর্যন্ত মদিনা মার্কেট-পাঠানটুলা সড়কে ১৬টি রিকশাকে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। মদিনা মার্কেট ও পাঠানটুলা এলাকার দুজন ব্যবসায়ী জানান, এসব অবৈধ রিকশার কারণে অতিরিক্ত চাপে নগরে যানজট বাড়ছে। প্যাডেলে চালিত রিকশায় সময় বেশি লাগায় অনেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় ওঠেন এবং প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন।

সুবিধ বাজার এলাকার মইনূল ইসলাম আবির বলেন, গতি বেশি হওয়ায় উল্টে যাওয়ার আশঙ্কায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়তে ভয় হয়। তবে নগরে এখন এত বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা, যে কারণে সবাই এতে উঠছেন। অনেকে সময় বাঁচানোর জন্যই এসব যানে চড়ছেন।

সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স শাখা জানিয়েছে, নগরে প্রায় কয়ে হাজার বৈধ রিকশা রয়েছে। এর বাইরে সবকটি অবৈধ রিকশা রয়েছে। আর ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্চ আদালতের নির্দেশে নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এসব রিকশা ঠিকই অবাধে চলাচল করছে।

নগরবাসী জানিয়েছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার পাশাপাশি প্যাডেলে চালিত নিবন্ধনহীন অবৈধ রিকশাও নগরে দেদার চলাচল করছে। এ ছাড়া শহরতলির বিভিন্ন ইউনিয়নের নিবন্ধিত রিকশা নীতিমালা লঙ্ঘন করে নগরে চলে আসায় যানজট বেড়েছে।

সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স কর্মকর্তা মো: আব্দুল আজিজ বলেন, অবৈধ রিকশা কিংবা ব্যাটারিচালিত রিকশা পুলিশের জব্দ করার কথা। এরপরও সর্বোচ্চ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের স্বার্থে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষও মাঝেমধ্যে অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। তবে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অনেক রিকশাচালকই সটকে পড়েন। অভিযান শেষ হলেই এসব রিকশা পুনরায় নগরের রাস্তায় চলাচল শুরু করে দেয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (ট্রাফিক) জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, এসব আমরা দেখি না এগুলো সিটি করপোরেশন দেখে। আমারা আইন শৃংখলার ব্যত্যয় হলে সেগুলো দেখবো। তিনি বলেন এগুলোর লাইসেন্স দেয় কে? সেটি দেখতে হবে।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন জিন্দাবাজার থেকে চৌহাট্র পর্যন্ত রিকশা চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। আমরা তো আর অলিতে গলিতে দেখতে পারব না।

জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোর চলাচল নিষিদ্ধ। অবৈধ এসব যান চোখের সামনে পড়লেই ট্রাফিক পুলিশ আটক করে আইনি ব্যবস্থা নেয়। এ কারণেই নগরে এসব যানের চলাচল এখন সীমিত হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো সড়কেই এসব যান চলাচল করে না। এরপরও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে, নগরে যেন অবৈধ এসব যান চলাচল করতে না পারে, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দিনে নগরীর প্রধান প্রধান রাস্তায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দেখা না গেলেও রাতে তাদের উৎপাত বৃদ্ধিপায়। কোনকোন রাস্তায় রাত ৮টার পরপরই তারা নেমে পড়ে। আর প্রধান প্রধান রাজপথে নামে ৯টার পর থেকে।

সচেতন যাত্রীরা বলছেন,এসব অটোরিকশা চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নেই। আর তাই নেই দক্ষতাও। তারা রাস্তায় অতিরিক্ত স্পিডে চালানোর ফলে স্পিড ব্রেকাওে ধাক্কা লেগে যাত্রীদের উল্টে পড়ার ঘটনা ছাড়াও অন্যান্য দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ