সারাদেশ টিকাগ্রহীতা সংখ্যা ছাড়াল দেড় লাখ

জাতীয়ভাবে করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ার চতুর্থ দিনে সারাদেশে টিকা গ্রহণ করেছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪৫১ জন। এর আগেরদিন এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৮২ জন।বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি টিকাদান কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিন সারাদেশে টিকা নেন ৩১ হাজার ১৬০ জন। আর গণটিকাদানের দ্বিতীয় দিনে সোমবার ৪৬ হাজার ৫০৯ জন টিকা নিয়েছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগরে টিকা নিয়েছেন ৪০ হাজার ৯০৭ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২৮ হাজার ২৯২ জন এবং নারী ১২ হাজার ৬১৫ জন।

বুধবার ঢাকা মহানগরীসহ ঢাকা বিভাগে টিকা নিয়েছেন ১২ হাজার ৬৬৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭ হাজার ৫৪৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৩৭ হাজার ৪৫৮জন, রাজশাহী বিভাগে ১৭ হাজার ৯৭১ জন, রংপুর বিভাগে ১৪ হাজার ২২৪ জন, খুলনা বিভাগে ১৭ হাজার ১১৫ জন, বরিশাল বিভাগে ৬ হাজার ১৪৭ জন এবং সিলেট বিভাগে টিকা নিয়েছেন ১৭ হাজার ৮০ জন।

গত ২৭ জানুয়ারি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে পাঁচজনকে টিকা দেওয়া হয়। পরে ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় জাতীয়ভাবে টিকাদান কার্যক্রম।

এদিকে টিকা নিচ্ছেন বিদেশি কূটনীতিকরাও। জানাযায় ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের করোনাভাইরাসের টিকাদান শুরু করেছে সরকার। বুধবার বিকেলে মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট হাসপাতালে এই টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনও করোনার টিকা দেন।
প্রথম দিনে ঢাকায় ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন ভ্যাটিক্যান সিটির রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি, তুরস্ক, ফ্রান্স, ইতালি, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের মিশনপ্রধানসহ প্রায় ৩০ জন কূটনীতিক টিকা নেন।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশে যত দেশের কূটনীতিক আছেন, সকলের জন্য আমরা আলাদাভাবে এখানে টিকাদানের আয়োজন করেছি। পর্যায়ক্রমে সকল কূটনীতিকই ভ্যাকসিন নিতে পারবেন।

সপ্তাহে দুই দিন কূটনীতিকদের জন্য টিকাদানের সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদেশি মিশনের বাইরে আন্তর্জাতিক সংস্থার দপ্তরে কর্মরত বিদেশিদের তালিকাও চেয়েছে সরকার। তারাও এ হাসপাতাল থেকে

টিকা নিতে পারবেন। টিকা নিয়ে আমরা যেমন আত্মবিশ্বাসী, কূটনীতিকরাও আত্মবিশ্বাসী।
ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনজি টিরিংক বলেন, এমন উদ্যোগের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ, কোনো ধরনের লাইন ছাড়া টিকা নেওয়া যাচ্ছে। এর মাধ্যমে আমরা টিকাদানের ক্ষেত্রে ভালো উদাহরণ তৈরি করতে পারি এবং এটা মানুষের মধ্যে আস্থা আনবে।

ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতা কোন পর্যায়ে রয়েছে, এটা তার প্রতিফলন। এক্ষেত্রে সহজ বাস্তবতা হচ্ছে, দুই দেশকে একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি চালাতে হবে। ভারত, বাংলাদেশ ও আমাদের প্রতিবেশীদের একইসঙ্গে টিকা নিতে হবে।

সারাদেশ/সমকাল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ