সিলেটে চাকরি প্রার্থীদের মাঝে বাড়ছে হতাশা

স্মরণকালের বৈশ্বিক করোনাভাইরাস মহামারিতে মন্দা অবস্থা চলছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে চাকরির বাজারেও।সারাদেশের সাথে দেশের সবচেয়ে ধনাঢ্য বিভাগ সিলেট হলেও।সেখানেও  নতুন করে পড়েছে এর প্রভাব।

বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মর মাঝে। ফলে দেশের আগামির সম্ভাবনাময় দেশের হালধরা চাকরি প্রার্থীদের বাড়ছে হতাশা বাড়ছে ক্ষোভ। অনেকে ছন্দহীনতায় অনেকে ঝড়িয়ে পড়ছেন অনেক অপরাধের সাথে। কেহ কেহ পরিবার পরিজনের মানসম্মানের দিকে তাকিয়ে মুখ খোলে কথা বলতে পারছেন না। সুতারাং এই যখন বাস্তবতা তখন।

গত ২০১৯ সালের মার্চ মাস থেকেই একে একে স্থগিত হয়েছে বিসিএসসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা। এই সময়ে সরকারি-বেসরকারি নতুন কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তি নেই বললেই চলে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আগামী দিনে কর্মসংস্থানের সুযোগ আগের চেয়ে কমবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। ফলে চাকরিপ্রার্থীরা চরম হতাশায় ভুগছেন সিলেটর হাজার হাজার তরুণ প্রজন্ম ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও চাকরির বাজার আগের জায়গায় ফিরবে না। কারণ করোনা কমসংখ্যক লোক দিয়ে বেশি কাজ করা শিখিয়ে গেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ফলে যাঁরা তথ্য-প্রযুক্তিসহ নানা কাজে দক্ষ এবং যেকোনো ধরনের কাজ করার মানসিকতা রয়েছে, তাঁদের আগামী দিনে চাকরি পেতে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না।

চাকরির বাজার নিয়ে সম্প্রতি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) একটি প্রতিবেদন থেকে জানাযায় করোনাভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশে চাকরির বাজারে ধস নেমেছে। চাকরির বিজ্ঞাপন ব্যাপকভাবে কমেছে। গত বছরের মার্চের তুলনায় এ বছরের মার্চে চাকরির বিজ্ঞাপন ৩৫ শতাংশ কম ছিল। গত এপ্রিলে কমেছে ৮৭ শতাংশ। এপ্রিলে পোশাক ও শিক্ষা খাতে ৯৫ শতাংশ কম চাকরির বিজ্ঞাপন দেখা গেছে। উত্পাদনমুখী শিল্পে ৯২ শতাংশ কম চাকরির বিজ্ঞাপন এসেছে। স্বাস্থ্য খাতে চাকরি কমেছে ৮১ শতাংশ। তথ্য-প্রযুক্তিকে আগামী দিনের সম্ভাবনা হিসেবে ধরা হলেও সেখানে চাকরির বিজ্ঞাপন কমেছে ৮২ শতাংশ। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরির বিজ্ঞাপন কমেছে ৬৪ শতাংশ।

বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ করে জানাযায় তরুণদের কাছে এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় চাকরি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেয়া৷ এ বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চে ৪১ তম বিসিএস-এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু করোনার কারণে তা আটকে যায়৷ চাকরি প্রার্থী তরুণদের বড় একটি অংশ এই বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন৷ কিন্তু পরীক্ষা আটকে যাওয়ায় তারা এখন হতাশ৷

সিলেট এমসি কলেজর মাস্টার্সের ছাত্র শাওনা জানান, অনার্স শেষ করেই সিভিল সার্ভিসের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন৷ তিনিও এখন হতাশ৷ তার কথা, ‘‘আমাদের এই সময়ে দৌড়ের মধ্যে থাকার কথা৷ কিন্তু এখন হল ছেড়ে বাড়িতে বসে ঝিমুচ্ছি৷ আমদের বন্ধুদেরও একই অবস্থা৷’’

একই কলেজর আরেক ছাত্র মইনুল হক আবীর বলেন, ‘‘এখন তো বেসরকারি চাকরিও নেই৷ পড়াশুনাও বন্ধ৷ কোনো কাজ পাচ্ছি না৷ তাই বাড়িতে বসে আছি৷ পরিবারে হতাশা৷ আর সেই হতাশা আমার নিজের মধ্যেও৷ কবে যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে কেউ বলতে পারছে না৷’’

এদিকে করোনার আগে যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলো দেয়া হয়েছিল সেগুলোও এখন স্থগিত আছে৷ বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে করোনাকালে নতুন করে কোনো নিয়োগ হয়নি৷ আর বিসিএস-এর বাইরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিয়োগও বন্ধ রয়েছে৷ বিশেষ করে পুলিশে সাব-ইন্সপেক্টর পদে বড় একটি নিয়োগ হওয়ার কথা ছিল তা-ও বন্ধ৷ বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও নিয়োগ বন্ধ আছে৷

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপই চলমান সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, সরকার এবং বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নিয়োগের ব্যাপারে কিছু সংকেত আসা উচিত তাহলে চাকরি প্রত্যাশীরা হতাশ হবেন না। নতুবা এ দুশ্চিন্তা আরো বাড়বে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে।

সিলেটের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের  সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা জুড়েশুরে বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বর্তমানে সব ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। যার কারণে দুশ্চিন্তা তাড়া করছে চাকরি প্রত্যাশীদের। এছাড়াও যারা চাকরিতে প্রবেশের নির্ধারিত বয়সের শেষদিকে রয়েছেন, তাদের দুশ্চিন্তা আরো বাড়ছে। এ অবস্থায় সরকারের উচিত এসব চাকরি প্রত্যাশীর কথা বিবেচনায় এনে বয়সের সীমাটা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করা। আর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে নিয়োগ পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা।
করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাত ছাড়া আর কোনো সরকারি চাকরিতে নিয়োগ হয়নি৷ বেসরকারি খাতে তো উল্টো চাকরি যাচ্ছে অনেকের৷ ফলে চাকরি প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে হতাশা৷

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ