মন্ত্রিসভা রদবদলের গুঞ্জনে চিন্তিত কয়েকজন মন্ত্রী

মন্ত্রিসভায় রদবদল আসছে এমন গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে বাতাসে। কয়েক দিনের মধ্যে এই রদবদল হচ্ছে বলে আলোচনা রয়েছে। রদবদল হলে পুরনো কয়েকজন মন্ত্রী বাদ পড়তে পারেন। যুক্ত হতে পারেন কয়েকজন। রদবদলের আভাসে এরইমধ্যে কয়েক মন্ত্রী চিন্তিত। কেউ কেউ পদোন্নতির আশায় রয়েছেন। মন্ত্রীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন সরকারপ্রধান। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার তিন জন সদস্য ও ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, মন্ত্রিসভার রদবদলের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার। কাকে নিয়ে বা কাকে বাদ দিয়ে তিনি মন্ত্রীসভা চালাবেন সেটা তিনিই ভালো বলতে পারেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের একজন মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই এরকম একটা বড় পরিবর্তনের আলোচনা শুনছি। তবে এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আমাদের খুব বেশি জানার সুযোগ নেই। কিছুটা জানলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানতে পারেন। মন্ত্রিসভায় রদবদল বা পরিবর্তনের বিষয়ে সকল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

মন্ত্রিসভার তিন সদস্যের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, অর্থ, শিল্প, বাণিজ্য, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, পরিবেশ, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ-জ্বালানী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি যুক্ত হতে পারে নতুন মুখ। দু-একটি মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সরকার প্রধানের ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রিসভার সকল সদস্যের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সফলতা ও ব্যর্থতায় ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর ভূমিকা বিবেচনায় রদবদল বা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন সরকারপ্রধান। মন্ত্রিসভার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত দক্ষ ও ভাবমূর্তি সম্পন্ন রাজনীতিকদের স্থান করে দিতেই এমন পরিবর্তনের কথা ভাবছেন প্রধানমন্ত্রী।
সূত্রগুলো আরো জানায়, করোনা পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভার কিছু সদস্য নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের ব্যর্থতার দায় নিতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই। ওই মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাদের ওপর কিছুটা বিরক্ত শেখ হাসিনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের একজন মন্ত্রী বলেন, চলতি মাসেই বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে- এমন একটি আলোচনা রয়েছে বিভিন্ন মহলে। বাদ দেওয়ার পাশাপাশি নতুন দু-তিনজন তরুণ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী বলেন, কারো ব্যর্থতা, কারো দক্ষতা ও কারো দুর্নীতি সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে আসছে। সেকারণেও কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে বাদ দিতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই এখতিয়ার একমাত্র শেখ হাসিনার রয়েছে। তিনি চাইলে কাউকে বাদ দিতে পারেন, কাউকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

গত বছরের ২৪ নভেম্বর ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন ফরিদুল হক খান। করোনাজনিত কারণে অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মৃত্যুতে শূন্য হয়ে পড়ে ওই পদটি।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়ের পর দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৭ জানুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। এরপর ২০১৯ সালের ১২ জুলাই স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইমরান আহমদকে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণ মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরাকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এরপর আর কোনো রদবদল হয়নি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায়।

পূর্বপশ্চিমবিডি/ডেইলি রূপান্তর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ