পাকিস্তান ছেড়ে যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার হলেন ইমরান তাহির

ক্রিকেটে ইমরান নামটি বেশ জনপ্রিয়। এ নাম শুনলে প্রথমে পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কথা বলবেন সবাই।

তবে সঙ্গে তাহির নামটি যুক্ত হলেই এক পলকে মন উড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকায়।

দৃশ্যপটে ভেসে উঠবে প্রোটিয়াদের জার্সিতে ২২ গজের ঘূর্ণি বলের এক জাদুকরকে। যাকে ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার দল অকল্পনীয় ছিল একসময়।

দেশটির হয়ে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেছেন বীরদর্পে। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেক একটু বয়স করেই হয়েছে।

২০০৯ সালে ৩২ বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলেন তিনি। শেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০১৯ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে।

এ ১০ বছরের ক্যারিয়ার দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে ১০৭ ওয়ানডে খেলে নিয়েছেন ১৭৩ উইকেট। ৩৮ টি-টোয়েন্টি খেলে ৬৩ উইকেট এবং ২০টি টেস্ট খেলে ৫৭ উইকেট জমা করেছেন তাহির।

এমন সাফল্য সত্যি ঈষর্ণীয়। তবে তাহিরের ভাগ্যটা অন্যরকম হতে পারত। কারণ তিনি একজন পাকিস্তানি, সে কথা সবারই জানা।

পাকিস্তানের লাহোরে জন্ম ইমরান তাহিরের। বেড়ে ওঠাও সেখানেই। পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন এ ক্রিকেটার।

কিন্তু যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় দলে সুযোগ হয়নি তার। পাক দলে খেলতে না পারার কষ্টটা তাকে এখনও পোড়ায়।

কীভাবে আর কেনইবা পাকিস্তান ছেড়ে সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন এই ডানহাতি লেগ ব্রেক বোলার? সুযোগ পেয়েছিলেন জ্যাক ক্যালিসদের দলে?

সম্প্রতি পাকিস্তানি এক চ্যানেলের কাছে সেই গল্প জানিয়েছেন ইমরান তাহির নিজেই। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলার সুযোগটা নাকি করে দিয়েছিলেন তার স্ত্রী।

এ জন্য স্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

ইমরান তাহির বলেন, ‘পাকিস্তান ছাড়া আমার জন্য কঠিন ছিল। কিন্তু ঈশ্বরের আশীর্বাদে ও দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলতে পারার মূল কৃতিত্ব আমার স্ত্রীর।’

তিনি জানান, তার স্ত্রীর নাম সুমাইয়া দিলদার। তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান এক রমণী। আর তার প্রেম ও ভালোবাসায় অবশেষে পাকিস্তান ছেড়ে উড়াল দেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেই রমনীর হাত ধরেই নেলসন ম্যান্ডেলার দেশটিকেই আপন করে নিয়েছেন তাহির। এর পর ২০০৯ সালে ৩২ বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক।

এর পরও শিকড়ের টান ভোলেননি ৪২ বছর বয়সী এ সাবেক তারকা ক্রিকেটার।

পাকিস্তান দলের হয়ে না খেলতে পারা আজও পোড়ায় তাকে।

সেই হতাশার কথা ব্যক্ত করতে তিনি জানান, পাকিস্তানে একের পর এক দল পাল্টে খেলেছেন বিভিন্ন ঘরোয়া লিগে।

ইমরান বলেন, ‘আমি লাহোরে ক্রিকেট খেলতাম এবং সেখানে থাকার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আমি আমার ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় পাকিস্তানে খেলেছি। কিন্তু সেখানে সুযোগ না পাওয়ায় আমি হতাশ।’

তথ্যসূত্র: ক্রিকেট পাকিস্তান

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ