সিলেটে বাম জোটের কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার অভিযোগ, আহত ১০

সিলেটে বামজোটরে অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । বাম জোট নেতাদের অভিযোগ এতে তাদের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন । যদিও পুলিশ বলছে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। বাম নেতার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ছেড়ে অন্যত্র কর্মসূচী পালন করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

সবার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষাসহ ৮ দফা দাবিতে আজ বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচী শুরু করে বাম জোট। করোনা ইস্যুতে স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপন নিয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বুধবারের এই অবস্থান কর্মসূচী শুরু করে বাম জোট।

তবে বাম নেতাদের অভিযোগ, কর্মসূচী শুরুর পর পুলিশ এসে অবস্থান কর্মসূচী তুলে নিতে বলে। আমরা তাতে রাজী না হওয়ায় পুলিশ হামলা চালায়। সমাবেশ থেকে ক্যামেরা, মোবাইল, সাউন্ড সিস্টেম, ব্যানার পুলিশ ছিনিয়ে নেয় বলে্ও জানিয়েছেন বাম জোট নেতারা। নেতাদের দাবি, পরে নেতাকর্মীরা পুলিশের হামলা উপেক্ষা করে পুনরায় অবস্থান নেন এবং সমাবেশ চালিয়ে যান।

তারা জানান, পুলিশী হামলায় আহত হয়েছেন বাসদ (মার্কসবাদী)’র সদস্য রেজাউর রহমান রানা, প্রসেনজিৎ রুদ্র, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক নাবিল হোসেন, শ্রাবণ দাস, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টে সিলেট নগর শাখার কর্মী সাকিব রানা, দোয়েল রায়, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সংগঠক লাভলুসহ অন্তত ১০জন।

তবে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোর্তিময় সরকার বলেন, পুলিশ কোনো হামলা চালায় নি। তারা যে এলাকায় কর্মসূচী করছিলেন সেখানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আদালতসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। তাই নিরাপত্তার সার্থে তাদের এই স্থান ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে কর্মসূচী পালন করতে বলেছিলো পুলিশ। এই অনুরাধ করায় বাম নেতারাই পুলিশরে উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

এ ঘটনার পর বাম গণতান্ত্রিক জোট সিলেট জেলার সমন্বয়ক ও বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলার আহ্বায়ক কমরেড উজ্জ্বল রায়ের সভাপতিত্বে ও বাসদ জেলা সদস্য প্রণব জ্যোতি পালের পরিচালনায় পুলিশী অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাসদ সিলেট জেলার সমন্বয়ক কমরেড আবু জাফর, সিপিবি সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আনোয়ার হোসনে সুমন, যুব ইউনিয়ন সিলেট জেলার সভাপতি নিরঞ্জন দাস খোকন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট নগর শাখার সভাপতি সঞ্জয় কান্ত দাস, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক নাবিল হোসেন প্রমুখ। এর পূর্বে বামজোটের নেতাকর্মীরা সিলেট রেজিষ্ঠারি মাঠে জমায়েত হয়ে মিছিল সহকারে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ে সমাবেশে মিলিত হন।

বক্তারা বলেন, গত একমাস ধরে সিলেটের স্বাস্থ্যখাতের দূর্নীতি, অনিয়ম বন্ধসহ ৮দফা দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছিল। সিলেটের প্রত্যেকটি পয়েন্টে অনুষ্ঠিত পথসভায় নানাভাবে পুলিশ হয়রানি করেছে। এর ধারবাহিকতায় আজ জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের সামনে পুশিল অত্যন্ত নেক্কারজনক হামলা পরিচালনা করলো। অমরা মনে করি সিলেটের জেলা প্রশাসকের ইন্ধনেই পুলিশ এই হামলা পরিচালনা করেছে। দেশে আওয়ামী সরকার একটি ফ্যাসিবাদী শাসন পরিচালনা করছে, আর এই জনবিচ্ছিন্ন শাসন পরিচালনার জন্য আমলা নির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। সিলেটের জেলা প্রশাসকের এই ভূমিকা তাই প্রমাণ করে। ৮দফা দাবিতে গত একমাস ধরে বাম গণতান্ত্রিক জোট সিলেটের সাংবাধিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। সবাই বামজোটের উত্থাপিত দাবির সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেছেন। ফলে বামজোটের দাবির এই যৌক্তিকতা ও আন্দোলনকে দমন করতেই এই হামলার পরিচালনা করে।
বক্তারা আরো বলেন, আজকের অবস্থান কর্মসূচিতে হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করেন। একই সাথে সিলেটে স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম, দূর্নীতিবদ্ধসহ বামজোটের উত্থাপিত ৮দফা দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলার আহ্বান জানান। আজকের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচির প্রতিবাদে বৃহস্পতবিার বিকাল ৫টায় কোর্ট পয়েন্টে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ