অপরাজনীতি শুরু করেছেন ট্রাম্প

ক্ষমতার মেয়াদের একেবারের শেষ দিকে এসে নতুন অপরাজনীতি শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে করে চলতি সপ্তাহেই শুরু হয়েছে তার এই রাজনীতি।

সোমবার রাতে হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে বিশেষ এক অনুষ্ঠানে একটি বক্তব্য দেন ট্রাম্প।

সংক্ষিপ্ত অথচ কঠোর ওই বক্তব্যে নিজেকে সম্পূর্ণ নতুন রূপে পরিচিত ও উপস্থাপন করার চেষ্টা ছিল তার। আর সেটা নিশ্চিতভাবেই ‘আইন ও শৃঙ্খলার রক্ষক’ হিসেবে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ঘোষণার মতো করেই বললেন, ‘তোমাদের প্রেসিডেন্ট আমার প্রধান কাজই আইন ও শ্ঙ্খৃলা রক্ষা’।

সেই লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শহরে শহরে বিশেষ করে লিবারেল ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতে আরও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের ইঙ্গিত দেন তিনি।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেশ কয়েকটি শহরের রাস্তায় রাস্তায় অপরিচিত ও অনেকটা সেনাবাহিনীর মতো দেখতে সশস্ত্র বাহিনীকে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

অনেকটা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো পোর্টল্যান্ড ও অরেগন শহরের রাস্তা থেকে বিক্ষোভকারীদের দ্রুতই ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষার নামে এমন কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে মার্কিন জনগণের ওপর মার্শাল ল’ চাপিয়ে দিচ্ছেন ট্রাম্প।

আইন ও শ্ঙ্খৃলা রক্ষায় ট্রাম্পের নানা পদক্ষেপ ইতোমধ্যে সামরিক আইনের চেহারায় হাজির হতে শুরু করেছে। বিরোধীদল ও নেতাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে তাদের নিয়ন্ত্রিত শহরকে প্রকাশ্যেই হুমকি দিচ্ছেন ট্রাম্প

উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক কোনো দেশ ও সমাজের জন্য এটা কখনও শোভনীয় নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ‘আইন ও শৃঙ্খলার’ রাজনীতির কলঙ্কজনক অধ্যায় ফিরিয়ে আনছেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসে বক্তব্যে ট্রাম্প বারবার যে শব্দগুচ্ছটি (আইন ও শৃঙ্খলা) ব্যবহার করেন, বর্ণবাদ ও নিপীড়নের সঙ্গে যোগ থাকায় তা অনেক আগেই মার্কিন রাজনীতির ডিকশেনারি থেকে মুছে গিয়েছিল। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালেও একই রাজনীতির ব্যবহার করেন তিনি।

ভোটের রাজনীতিতে ফায়দা লুটতে কৌশল হিসেবে তিনি শ্বেতাঙ্গ জাতিগত সংঘাত উসকে দেয়ার পথ বেছে নেন।

এতে সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন না পেলেও তার এই অপকৌশলই আখেরে বড় ফায়দা এনে দেয়। আইন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জিকির তুলে মূলত আরেকবার সেই পথেই হাঁটছেন ট্রাম্প।

পোর্টল্যান্ড ও অরেগনসহ আরও কয়েকটি শহরে মুখোশপরা সশস্ত্র যে বাহিনী দেখা যায়, আপাত দৃষ্টিতে তাদেরকে সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন ইউনিটের সদস্য বলে মনে হচ্ছে। প্রধানত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেই এই বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়।

মূলত মাদকবিরোধী মিশনে ব্যবহারের জন্য এদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। কিন্তু রাজ্য ও শহরগুলোর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতামত উপেক্ষা করে ‘আইন ও শৃঙ্খলা’ রক্ষার নামে সশস্ত্র এই বাহিনীকে রাস্তায় নামিয়েছেন ট্রাম্প। আরও বেশ কয়েকটি শহরেও এই বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এদিন ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা নিউইয়র্ক, শিকাগো, ফিলাডেলফিয়া, ডেট্রয়েট ও বাল্টিমোর কাউকেই ছেড়ে দেব না। অকল্যান্ডেও বিশাল বিশৃঙ্খলা শুরু হয়েছে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ