৩০ মণের ‘নিউ রাজা বাবু’ কিনলে ৭০০ কেজির ‘অফার’ ফ্রি

সাত ফুট লম্বা, সাড়ে ৫ ফুট উচ্চতা আর ওজন প্রাণ ৩০ মণ। ছোট থেকেই বেশ জামাই আদরেই রাখা হয়েছে তিন বছর চার মাস বয়সী ‘রাজা বাবুকে’।

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সেই রাজা বাবুর মালিক তার দাম হাঁকাচ্ছেন ২০ লাখ টাকা!

বিশাল আকৃতির ষাঁড়টির নাম দিয়েছেন সাতক্ষীরা কলারোয়া উপজেলার কেরেলকাতা ইউনিয়নের বলিয়ানপুর গ্রামের নবীন খামানি। এ বছরে উপজেলার সর্ববৃহৎ কোরবানির পশু বলেই ধরা হচ্ছে ষাঁড়টিকে।

তাই নিউ রাজা বাবু কিনলে সঙ্গে ফ্রি অফার দেয়া হয়েছে৷ আর এ অফার ছোট কিছু নয়; বরং আরও একটি প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের ষাঁড়!

জানা গেছে, বিশালাকার এই ষাঁড়ের জন্য প্রতিদিনের বাজেট প্রায় এক হাজার ৫০০ টাকা। প্রতিদিন খাবারের মেন্যুতে থাকে কলা, কমলালেবু, চিড়া, ছোলা, ঘাস, শরবতসহ আরও অন্যান্য দামি খাবার।

আর শুধু আদর-যত্নই নয় রাজাবাবুর, অফার ও বিগবস নামে তিন ষাঁড়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য রাখা হয়েছে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক। নিরাপত্তার স্বার্থেও রাতে থাকে নিবিড় নজরদারি।

কলারোয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অমল কুমার বলেন, ‘নিউ রাজা বাবু’র বর্তমান বয়স তিন বছর চার মাস। ছয় দাঁতের ‘নিউ রাজা বাবুর’ আকার ও ওজন পরিমাপ করে দেখা যায়, গরুটির উচ্চতা পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি, লম্বা ৭ ফুট, বুকের পরিমাণ ৮ ফুট, শিং ৯ ইঞ্চি লম্বা, লেজের দৈর্ঘ্য ৩ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ১২০০ কেজি অর্থাৎ ৩০ মণ।

আমার জানা মতে, এই গরুটিই বর্তমানে উপজেলার আকার ও ওজনে সবচেয়ে বেশি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরও জানান, কোরবানি ঈদ সামনে রেখে এবার উপজেলার ১২০০ কেজি ওজনের সব থেকে বড় ফ্রিজিয়ান জাতের ‘নিউ রাজা বাবু’কে আমরা ইতোমধ্যে খামারে গিয়ে দেখেছি৷

গ্রুপের ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য আমরা অনলাইন বাজারে আপলোড করার সার্বিক প্রস্তুত নিচ্ছি৷ খামার সূত্রে আমরা জেনেছি, খামারি সুষম খাদ্য ব্যবহার করে গরু পালন করেছেন৷ ১২০০ কেজি ওজনের এ নিউ রাজাবাবু যে কিনবে খামারের মালিক তাকে ‘অফার’ নামে প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের আরেকটি ষাঁড় ফ্রি দেবেন৷ খামারের মালিক মূল্য নির্ধারণ করেছেন ২০ লাখ টাকা৷

খামারি শাহাজান আলী জানান, ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টি বাড়িতে থাকা নিজস্ব গাভীর প্রজননে হওয়া৷ এখন এটির বয়স তিন বছর চার মাস। লালন-পালনের পর কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ষাঁড়টির ওজন বেড়ে হয়েছে ৩০ মণ।

এবার নিউ রাজা বাবুকে যে কিনবে, এর সঙ্গেই দেয়া হবে প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের আরেকটি ‘অফার’ নামের ষাঁড়৷ ক্রেতারা ‘রাজা বাবু’র দাম করেছিলেন ১৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। একটু বেশি দামে বিক্রি করার আশায় তিনি ‘নিউ রাজা বাবু’র দাম হাঁকাচ্ছেন ২০ লাখ টাকা।

খামারের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক সাইদুর রহমান জানালেন, এখন বিশাল আকারের এই ষাঁড়টির পরিচর্যা করা খুবই কঠিন। দিনে কমপক্ষে তিন থেকে চারবার গোসল করাতে হয়। সারা দিন বৈদ্যুতিক পাখা চালাতে হয়।

তবে দেশীয় পদ্ধতিতে পশুপালন করায় বাড়তি রোগ বা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি৷ সারাদিনই প্রায় সন্তানের মতো গরুটির যত্ন করতে হয়।

‘নিউ রাজা বাবু’সহ খামারে মোট তিনটি গরু রয়েছে৷ তবু কারও যত্নের কমতি হতে দেন না৷ ‘নিউ রাজা বাবু’ প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ৫০০ টাকার খাবার খায়।

উপজেলার ক্ষুদ্র খামারি শরিফুল ইসলাম গণমাধ্যম ফেসবুকে গরুর খবর জানতে পেরে গরুটি দেখতে এসে জানান, এত বড় গরু তিনি আগে কখনও দেখেননি। তিনি নিজে খামারে আরও গরু বড় করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। তার সঙ্গে আরও পাঁচজন এসেছেন ‘নিউ রাজা বাবু’ ও ‘অফারকে’ দেখার জন্য।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী জেরীন কান্তা বলেন, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের অনলাইন ফেসবুক গরুর হাট, এ কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রায় ৯ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে৷ পাশাপাশি উপজেলায় বিশালাকারের প্রায় ৩০ মণ ওজনের ‘নিউ রাজা বাবু’ নামে একটি গরু রয়েছে, যেটি কিনলে প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের আরেকটি ‘অফার’ নামের ষাঁড় ক্রেতাকে ফ্রি দেবেন খামারি।

গরুটির ছবি ও ভিডিও ফুটেজ জেলার অনলাইন বাজারের ফেসবুক গ্রুপে আপলোড করা হচ্ছে৷ যাতে ওই খামারি নিজ বাড়ি থেকেই গরুটি ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারেন৷

এ বিভাগের আরো সংবাদ