৩৬ মণ ওজনের ‘বড় সাহেব’, দাম ১০ লাখ

পুরো শরীর সাদার মধ্যে কালো রঙ। ষাঁড়টি দেখতে অনেক সুন্দর। ষাঁড়টির নাম আদর করে রাখা হয়েছে ‘বড় সাহেব’। মাত্র তিন বছর বয়সী ষাঁড়টির ওজন ৩৬ মণ। ইতিমধ্যে ‘বড় সাহেব’ সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে।

কিশোরগেঞ্জের ভৈরব উপজেলার রসুলপুর গ্রামের শরীফুজ্জামানের খামারে রয়েছে এই ষাঁড় গরুটি। আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ষাঁড়টিকে অতিযত্নে লালন-পালন করা হয়েছে।

অনেকে ষাঁড়টির দাম হাঁকছেন ১০ লাখ টাকা। ভৈরবে গরুর হাট এখনও বসেনি। তবে অনেকেই ‘বড় সাহেবকে’ কিনতে তার খামারে যোগাযোগ করেছেন বলে জানান শরীফুজ্জামান।

শরীফুজ্জামান জানান, তার খামারে রয়েছে ১০টি গরু। এর মধ্য গাভীও আছে। মাত্র তিন বছর বয়সী ‘বড় সাহেব’। প্রতিদিন ৩০ কেজি গোখাদ্য খাওয়াতে হয় ষাঁড়টিকে।

তার দাবি, ভৈরবের মধ্য ‘বড় সাহেব’ সবচেয়ে বড় ষাঁড় গরু। গত এক বছর আগে গরুটি দেড় লাখ টাকায় কেনা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল গরুটি তার খামারে লালন-পালন করে কোরবানির হাটে বিক্রি করবে।

বিশাল আকারের ‘বড় সাহেবকে’ দেখতে আশপাশের মানুষ প্রতিদিন তার খামারে ভিড় জমান। ভৈরবের কয়েকজন ধনী ব্যক্তি খবর শুনে তার খামারে গিয়ে ‘বড় সাহেবকে’ দেখে পছন্দ হলে দামদর করেন।

শরীফুজ্জামান আরও জানান, ইতিমধ্যে বড় সাহেবের দাম উঠেছে ৬ লাখ টাকা। কিন্তু বিক্রি করেননি। তার আশা ১০ লাখ টাকা দাম হলে তিনি বড় সাহেবকে বিক্রি করে দেবেন। তবে করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে দেশের খামারগুলোতে।

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে এবার গরুর ক্রেতা কেমন হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। গত তিন বছর আগে শরীফুজ্জামান তার বাড়িতে এগ্রো নাম দিয়ে গরুর খামার শুরু করেন। গরুটি কেনার পর এ পর্যন্ত তার আরও দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে লালন-পালনে।

এ ছাড়া দিনরাত পরিশ্রম করতে হয়েছে। প্রতিদিন ৩০ কেজি খাবারে ১২০০ টাকা ব্যয় হয়। কাঁচা ঘাস, ভুসি, খড় খাওয়াতে হয়। রাতে গরুর ঘরে মশার উপদ্রব থেকে বাঁচাতে মশারি টাঙিয়ে রাখতে হয়। অনেক যত্ন নিতে হয় ‘বড় সাহেবের’।

বাড়িতে ‘বড় সাহেবকে’ বিক্রি করতে না পারলে কোরবানির বড় হাটে আগামী সপ্তাহে তোলা হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ