চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা আলেমদের


দেশের অর্থনীতি এবং এতিম-গরীবের হক রক্ষায় কোরবানীর পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়ে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জাতীয় ওলামা পরিষদের ব্যানারে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

এতে বারিধারা মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, এই দেশে রফতানি শিল্পের মধ্যে পাট, চা ও চামড়া অন্যতম। কিন্তু দেশ যখন অর্থনীতিতে অগ্রসর হচ্ছিল, এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতকেই ধ্বংস করতে কুচক্রী মহল ওঠেপড়ে লেগেছে, যাতে এ দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়া যায়।

এখন গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটি শিল্পকে রক্ষার জন্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ জরুরী।

মাওলানা আব্দুল হামিদের (পীর সাহেব মধুপুর) সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন- আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

উপস্থিত ছিলেন- মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা বশীর আহমদ, মাওলানা গোলাম মুহিউদ্দীন ইকরাম, হাফেজ মাওলানা আলী আকবর, মুফতি নেসার আহমদ, মাওলানা নাজমুল হাসান প্রমুখ।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, চামড়া শিল্পকে ধ্বংসে তৎপর সিন্ডিকেট চক্রকে প্রতিহত করে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখে চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করুন। দেশের অর্থনীতিকে রক্ষার জন্য চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরী।

অন্যথায় গত বৎসরের মতো লাখ লাখ চামড়া বিনষ্ট হওয়ার মতো ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে এবং দেশের বিপুল সংখ্যক এতিম, গরীব ও নি:স্ব মানুষ বঞ্চিত হবে।

কোরবানীর চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দাবিতে জাতীয় উলামা পরিষদের পক্ষে আগামী ১৭ জুলাই শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে গণসমাবেশ এবং পরদিন ১৮ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়।

মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস বলেন, চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের লক্ষ্যে বিদেশী এজেন্ট যারা বাংলাদেশের উন্নতি ও অগ্রগতি চায় না, তারাই পেছন থেকে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী চাইলে দুই দিনের মধ্যেই চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে সঙ্কটের সমাধান হয়ে যেতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে মধুপুরের পীর বলেন, কোরবানীতে আপনার কাছে গরীবদের জন্য কোন সাহায্য-সহযোগিতা নয়, বরং চামড়ার ন্যায্য মূল্যটা নির্ধারণ করে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। এটা এতীম-গরীবদের জন্য অনেক বেশি সহযোগিতা হবে। তাছাড়া এতে দেশের অর্থনীতিও রক্ষা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ