বাঘায় ২ হাজার বাড়ির উঠানে পানি

রাজশাহীর বাঘায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ভারী বর্ষণের কারণে দুই হাজার বাড়ির উঠানে পানি জমে আছে। ফলে শিশুদের নিয়ে খুব কষ্টে বসবাস করছেন তারা। কর্তৃপক্ষকে বহুবার বলা হলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

জানা যায়, গত কয়েক দিন থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। এতে উপজেলার দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ নিচু বাড়িতে পানি জমে আছে। এমনকি ঘরের বারান্দা পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে গেছে।

বাঘা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাজুবাঘা নতুনপাড়া মহল্লায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আরজিনা, শকিনা, শাপলা, অমেলা, জিল্লুর, আমিনুল, হাকিম, হাসান, জব্বার, বাদশা, মান্নান, রফিকুল, মহির, সাহাব, রবিউল, আক্কাস, আফজাল, নাসির, জমসেদ, সলেমান, কায়েম, বাক্কার, শামসুল, আছিয়া, সালাম, কালাম, এনামুল, মধু, রিন্টু, দুলাল, নিখিল, কাজল, হুমায়ন, ছাপিয়া, আজিজুল, বুলবুল, আলিয়া, জয়নাল, আজাদুল, সুজন, হাজিরা, আহাদ, কুদ্দুস, মামুন আলী, আল-আমিন, কিবরিয়া, কাউছার, আকরাম ও হাফেজের বাড়ির উঠানে পানি জমে আছে।

বাঘা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাজুবাঘা নতুনপাড়া মহল্লার আজিজুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহ ধরে ৯টি গরু নিয়ে খুবই বেকায়দায় আছি। আমার বাড়ির উঠানে ও গরুর গোয়ালঘরে পানি উঠেছে। ফলে গরু নিয়ে খুব কষ্টে আছি। বিষয়টি পৌরসভার কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

বাঘার পৌর মেয়র আবদুর রাজ্জাক বলেন, এবার বৃষ্টিপাত বেশি হচ্ছে। তার পরও পানি নিষ্কাশনের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রকল্প নেয়া হয়েছে, বর্ষা শুরু হওয়ার কারণে কাজটা করা সম্ভব হয়নি। তার পরও দুই-এক দিনের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে মনিগ্রাম ইউনিয়নের ভানুকর এলাকায় শতাধিক বাড়িতে বর্ষণের পানি উঠেছে। এই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

বিষয়টি স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে জানিয়ে কোনো সুরাহ হচ্ছে না বলে দাবি করেন শিউলি বেগম ও রুমিয়া বেগম।

মনিগ্রাম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, অন্য বছরের চেয়ে এবার বর্ষণের পরিমাণটা বেশি। তবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া আড়ানী পৌরসভার সাহাপুর গ্রামের নিচু এলাকায় অধিকাংশ বাড়িতে পানি জমে আছে। আড়ানী ইউনিয়নের হরিপুর এলাকায় একই অবস্থা।

বাউসা, পাকুড়িয়া, গড়গড়ি ইউনিয়নের নিচু এলাকার প্রতিটি বাড়ির উঠানে পানি জমে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ প্রতিটি এলাকায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে পুকুর খনন করা হয়েছে। এ কারণে পানি নামতে না পেরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে উপজেলায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই। প্রতিটি এলাকায় কর্তৃপক্ষকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রত্যেক বিলের বন্ধ করা মুখ খুলে দিলে এই জলাবদ্ধতার থেকে মুক্তি হবে বলে স্থানীয়রা জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, বেশি পানি জমে থাকলে আমন চাষ করা কষ্টকর হবে। তার পরও পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ